স্টাফ রিপোর্টার : ভুল চিকিৎসায় এক গৃহবধূর স্তন কর্তনের ঘটনায় শেরপুরে দায়ের করা মামলার দীর্ঘ ২ মাস পরও গ্রেফতার হয়নি সেই ২ চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে কর্মরত ডা. শরীফুল ইসলাম শরীফ ও ময়মনসিংহের কুন্ডু প্যাথলজির মালিক অধ্যাপক ডা. কে.কে. কুন্ডু। একই সাথে তদন্ত কার্যক্রমে নেই কোন গতি বা অগ্রগতি। এতে দেখা দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা। অন্যদিকে ওই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে আন্দোলনে নামছে মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ৬ মার্চ রবিবার সকালে জেলা শহরে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মানববন্ধন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ নভেম্বর শ্রীবরদী শহরের শান কিনিকে চিকিৎসক শরীফুল ইসলাম শরীফকে স্তনের ফোঁড়া দেখাতে যান উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ভুতনীপাড়া গ্রামের দু’সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ। একই উপজেলার লঙ্গরপাড়া গ্রামের মৃত কছর আলীর ছেলে চিকিৎসক শরীফ ওই গৃহবধূর স্তনে টিউমার হয়েছে বলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহের সেহরা এলাকার কুন্ডু প্যাথলজিতে পাঠান। সেখানে পরীক্ষায় ফোঁড়াকে টিউমার চিহ্নিত করে তাতে ক্যান্সার রয়েছে বলে রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসক শরীফ ১১ নভেম্বর ওই গৃহবধূর স্বামী সোলাইমান মিয়ার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকার উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার আইচি কিনিকে ভর্তি করান এবং পরে শাহবাগের মডিউল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ১৫ নভেম্বর তার বাম স্তন কেটে ফেলেন। পরবর্তীতে বায়োপসি করার জন্য প্রথমে ধানমন্ডির আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেস ও পরে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হলে সেখান থেকে জানানো হয়, স্তনে কোনো ক্যান্সার নেই। পরে গৃহবধূর স্বামী চিকিৎসক শরীফের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা হয়েছে, প্লাস্টিক সার্জারি করে বিকল্প স্তন লাগিয়ে দেবো। ওই ঘটনায় ২৯ ডিসেম্বর শেরপুরের সিআর আমলী আদালতে ওই ২ চিকিৎসককে আসামি করে একটি নালিশী মামলা দায়ের হলে ৪ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড হয়। কিন্তু মামলা রেকর্ডের দীর্ঘ ২ মাস অতিবাহিত হলেও ওই ২ চিকিৎসককে গ্রেফতারসহ তদন্ত কার্যক্রমে কোন তৎপরতা নেই পুলিশের। এখনও নেওয়া হয়নি ভিকটিমের জবানবন্দি। উল্টো প্রশাসনসহ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনার বিষয়ে আপোষ-রফা করতে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূর স্বামী সোলাইমান মিয়া প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কসাইরূপি এমন চিকিৎসক’দের ফাঁদে পড়ে কঠিন ভোগান্তির শিকার হয়েও যদি বিচার না পাওয়া যায়, তবে মানুষ আইনের প্রতি আর শ্রদ্ধা রাখবে কিভাবে ? তিনি অবিলম্বে ওই ২ চিকিৎসককে গ্রেফতারসহ তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে মামলার দীর্ঘ ২ মাস পরও সংশ্লিষ্ট ২ চিকিৎসককে গ্রেফতারসহ তদন্ত কার্যক্রমে গতি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লুৎফুন্নাহার বলেন, রবিবার প্রথম কর্মসূচি হিসেবে জেলা শহরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। মানববন্ধনে মহিলা পরিষদ ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী আরও কয়েকটি সংগঠন আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে অংশ নেবে। এরপরও কাজ না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সাথে ওই ঘটনায় আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামীদের গ্রেফতার সাপেক্ষে তাদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি এডভোকেট প্রদীপ দে কৃষ্ণ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসরিন রহমান, প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনউদ্যোগ আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ।




