ads

বুধবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা : বায়ান্ন’র চেতনায় গড়ে উঠুক শ্রদ্ধাশীল প্রজন্ম

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৬ ৩:০২ অপরাহ্ণ

আওরঙ্গজেব আকন্দ

Sumon১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত-পাকিস্তান দু’টি পৃথক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হলেও তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানীরা নতুন করে সাম্রাজ্যবাদী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং বাংলাদেশ রাজনৈতিক, অর্থনীতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সবদিক থেকেই শোষণ আর বঞ্চনার শিকার হতে থাকে। সেই শোষণ আর বঞ্চনা প্রক্রিয়ায় সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা নির্ধারণের বিষয়। পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ প্রস্তাব করেছিলেন ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা’। তাৎক্ষণিক ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ এদেশের বুদ্ধিজীবী মহল ওই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। আমাদের হাজার বছরের মাতৃভাষাকে হরণের পাকিস্তানি নীল নকশা বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক বিচণতা ও দূরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে শুরুতেই বুঝতে পারেন। এরই ফলশ্রুতিতে তিনি দেশ বিভাগের শুরুতেই বাংলাকে এদেশের আইন আদালতের ভাষা হিসেবে স্বীকৃত প্রদানের দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কর্মী সম্মেলনে গণতান্ত্রিক যুবলীগ গঠিত হয় এবং ওই সম্মেলনে ভাষা বিষয়ক প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করেন তৎকালীন ছাত্রনেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ভাষার দাবি প্রথম উচ্চারণ করে বলেন, ‘বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের লিখার বাহন ও আইন আদালতের ভাষা করা হউক। সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হইবে তৎসম্পর্কে আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার জনসাধারণের উপর ছাড়িয়া দেওয়া হউক। এবং জনগণের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গৃহীত হউক’ (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফেসবুক পেজ ঃ গাজীউল হক রচিত ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’, ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্র, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪ সূত্রমতে)। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের গণ পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উত্থাপন করেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্দোলনের চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে রাজপথে রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে বাংলাকে উপো করে শুধুমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার ইতিহাসের যে জঘন্যতম ঘৃণ্য পাক ষড়যন্ত্র ছিল, তা ধুলিস্যাৎ করে আমরা মায়ের ভাষাতেই মাকে মা’ বলে ডাকি।
আমরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে মাসব্যাপী বইমেলা, ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদ ও ভাষা সৈনিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, পদক বিতরণ, বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন আয়োজন করে আসছি, ভবিষ্যতেও করবো, কোন দ্বিধা নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতে থাকবে, চলতে থাকুক এই ধারা, আমরা সবাই এটাই চাই। কিন্তু একই সাথে আমাদের এই সম্মান প্রদর্শন, আলোচনা, সভা, মেলা দেশের সকল শ্রেণীর, পেশার, প্রজন্মের মানুষকে কতটুকু প্রভাবিত করছে অন্তর্নিহিতভাবে, সর্বস্তরের মানুষের চেতনাকে প্রকৃতপে কতটুকু স্পর্শ করছে ভাষা আন্দোলনের মৌলিক চেতনা, সেটা নিয়েও ভাবনার সময় এসেছে।
কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উদাহরণ দেব, ২১ ফেব্রুয়ারির ঠিক আগ মুহূর্তে শাড়ি-পাঞ্জাবীর চাহিদা বেড়ে যায়। কোন সমস্যা নেই, দিবস উদযাপনের জন্য খুবই জরুরি, সবাই আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে একসাথে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবো। কিন্তু সমস্যাটা অন্য কোথাও। যখন এই ঐতিহ্যের ধারক হয়ে, শহীদ দিবস উদযাপনের নামে বন্ধুদের সাথে একটি বিশাল ট্রাক ভাড়া করবো, সেটাতে বিশাল আকৃতির মাইক লাগিয়ে হিন্দি গান বাজিয়ে বাজিয়ে নাচতে থাকবো, আর সেই গাড়িটি আমাদের জাতীয় শহীদ মিনারের ঠিক পাশ দিয়ে এগিয়ে যাবে, তখন আমাদের জীবিত আত্মা কষ্ট না পেলেও, শহীদদের বিদেহী আত্মা কষ্ট পায়। তখন আমরা শহীদ মিনারে, টিএসসিতে বিশাল মেলা বসে সে মেলাতে কেনাকাটায় ব্যস্ত।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এমনি একটি নিকৃষ্ট ঘটনার সাী হয়ে নিজের ফেসবুক-এ লিখেছিলাম ‘২১ ফেব্রুয়ারী-এর তাৎপর্য নতুন করে বর্ণনা করার পর্যায়ে নেই। প্রতিবারের মত এবারও যথাযথ মর্যাদায় জাতীয়ভাবে পালন হল ২১ ফেব্রুয়ারি। তবুও একটা কষ্ট রয়ে গেল, অনেকটা লজ্জাই আমাদের তরুন প্রজন্মের জন্য। রাত প্রায় ৮ টার দিকে ১২-১৪ জন তরুণ-তরুণী একটি ট্রাক-এ করে উচ্চস্বরে মাইক-এ হিন্দি সিনেমার গান বাজিয়ে নাচতে নাচতে জাতীয় শহীদ মিনার ঘেঁষে চলে গেল। নিজের কানকে অবিশ্বাস হচ্ছিল, হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকাটাও যুক্তিসঙ্গত ছিল না!’ সেই কষ্টটা আজও রয়ে গেছে, শুধুমাত্র ফেসবুক-এ প্রতিক্রিয়াই যথেষ্ট নয় মনে করে আজকের এই লেখা।
আরেকটি উদাহারণ, অনেকেই ইউটিউব-এ দেখেছেন টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’ এর একটি প্রতিবেদন। যেখানে সাংবাদিক সাহেব বই মেলাতে আগত বিভিন্ন ধরনের, প্রজন্মের মানুষকে জিজ্ঞেস করেছেন “৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারিতে কি হয়েছিল?” উত্তরগুলো অত্যন্ত লজ্জাজনক, কষ্টদায়ক ও বিভ্রান্তিকর (সুত্রঃ https://www.youtube.com/watch?v=ldY5jDUTjSA )। আরও একটি অবমাননাকর বিষয় যা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। শহীদ মিনার এলাকাতে যাদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে তারা হয়ত ল্য করে থাকবেন, শুধুমাত্র ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি ছাড়া বাকি দিনগুলোতে অধিকাংশ মানুষ শহীদ মিনারের মূল বেদিতে জুতো পায়েই হাঁটাচলা করে থাকেন। আমি তরুণ প্রজন্মের আড্ডা দেওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে নিরপেক্ষ, এটি ব্যক্তি স্বাধীনতা। কিন্তু শহীদ মিনারের বেদীতে জুতো পায়ে বসে শিল্প চর্চা, বাদাম খাওয়া, শহীদ মিনারের সম্মানহানিকর যেকোন কর্মকান্ডের ঘোর বিরোধী এবং কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে, শাস্তি দাবি করা সেটিও আমার ব্যক্তি স্বাধিনতা। এ কাজটি যারা করেন তাদের সংখ্যা খুবই অল্প, খুবই নগণ্য। কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত অপমানজনক, লজ্জাজনক। সারা বছর জুতো পায়ে বেদীতে বসে, শহীদ দিবসে পাঞ্জাবি-শাড়ি পরে খালি শহীদ মিনারে খালি পায়ে ফুল দেওয়ার অর্থ কি? প্রশ্নটা তাদের কাছে যারা এ কাজটি করেন! শহীদদের সম্মান সর্বসময়, সার্বক্ষণিক।
বিষয়গুলো লজ্জার হলেও আমাদের মানতে, অনুতপ্তও হতে হবে। ভাষা আন্দোলনের ৬ দশক অতিক্রান্ত হতে চলেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতে থাকবে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই ধারাবাহিকতা। কিন্তু যদি একই সাথে শহীদ দিবসকে ঘিরে অপসংস্কৃতি, অবমাননাকর কাজগুলো আমরা এখনই সচেতনতা ও কার্যকর পদেেপর মাধ্যমে প্রতিহত করতে না পারি, এটিও চলতে থাকবে একই সাথে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এখনই এই অপসংস্কৃতি শুধরে নিতে না পারলে অবাক হওয়ার কিছু নেই, যদি অপসংস্কৃতি মূল চেতনাকে অপঘাত করতে থাকে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় এবং সাহসী পদেেপর মাধ্যমে বর্তমান সরকার পাকিস্তানপন্থী, স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গি মানসিকতার রাজনীতিকে প্রায় সমূলে উৎপাটনের দ্বারপ্রান্তে। বিশ্বাস করি আমরা সফল হব। এটি আমাদের প্রকৃত সময় আরও কিছু পদেেপর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, স্বাধীনতা ও দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন সকল সকল শহীদ ও জীবিত বীর যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার। আর এর প্রথম পদক্ষেপই হতে পারে তরুণ প্রজন্মকে স্বকীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তোলা।
লেখক ঃ লেবার পলিসি গ্লোবালাইজেশন এর উপর জার্মানীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণরত, ই-মেইল : aurongajeb@yahoo.com 

Need Ads
error: কপি হবে না!