স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে পুলিশী নির্যাতনে জুয়েল মিয়া (৩০) নামে এক হাজতী আসামির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত জুয়েল (হাজতি নং-২৪২/১৬) শেরপুর শহরের নবীনগর এলাকার নূর উদ্দিনের ছেলে। বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। তবে পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে গ্রেফতারের পর পুলিশী নির্যাতনের কারণেই জুয়েলের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের তরফ থেকে একজন এএসপি’র নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জেলা কারাগার সূত্র জানায়, ১০ ফেব্রুয়ারি জুয়েল মিয়াকে আদালত থেকে একটি মাদক মামলার আসামি হিসেবে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার তার প্রস্রাবের জটিলতায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে। ওই ঘটনায় রবিবার জেলা কারাগারের তরফ থেকে সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে পরিবারের অভিযোগ, পুলিশী নির্যাতনের কারণেই জুয়েলের মৃত্যু হয়েছে। জুয়েলের ছোটভাই লিটন অভিযোগ করে বলেন, জুয়েলকে ৩ দিন আগে আটকের পর পুলিশ বেধড়ক পিটিয়েছিল। এরপর থেকেই সে অসুস্থ হয়ে পড়লেও থানায় ও কারাগারে তার কোন চিকিৎসাই করা হয়নি। তাদের দাবি, শেরপুর সদর থানার এসআই রবিউল ইসলাম ও এসআই গোলাম মোস্তফাসহ ৪ পুলিশ সদস্য জুয়েলকে আটকের পর ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করে না পেয়ে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালায় তার উপর। রবিবার বিকেলে জুয়েলের পিতা নুর উদ্দিন ওই ঘটনার বিচার দাবি করে শেরপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে লিখিত অভিযোগের কপি দিয়েছেন। অন্যদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, খাদ্যনালীর নাড়ি ছিদ্র ও কিডনি অকেজো হয়ে মৃত্যু হয়েছে হাজতি জুয়েল মিয়ার।
রবিবার সন্ধ্যায় জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মোঃ মোবারক হোসেন দৈনিক জনকণ্ঠকে জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃত জুয়েল মিয়ার লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। সুরতহালে খাদ্য নালীর নাড়ি ছিদ্র ও কিডনি অকেজো হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান জানান, সুরতহাল চলাকালে সেই ধরনের কোন জখম আমার চোখে পরিলতি হয়নি, যা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বাকিটুকু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা যাবে।
সদর থানার এসআই রবিউল ইসলাম আসামি জুয়েলের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদকসেবী জুয়েলকে ২ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয় এবং নিয়ম মেনেই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। জেলা কারাগারের জেলার মো. ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, হাজতে আসার পর জুয়েল মিয়া থানা পুলিশের হাতে আটকের পর নির্যাতনের কোন কথা বলেনি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়ারীশকে এসআই রবিউলসহ অন্যান্য পুলিশের বিরুদ্ধে আসামি জুয়েলের পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, ওই ঘটনায় সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোঃ শাহজাহান মিয়াকে দায়িত্ব দিয়ে ১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।




