শ্যামলবাংলা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। কারও কাছে হাত পাততে চাই না। তাই পণ্যের নতুন বাজার খুঁজুন। এ দেশের পণ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিন।’ শনিবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। বিকেলে আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করুন। কোন দেশে কোন পণ্য প্রয়োজন সেটা বুঝে, তা এ দেশেই যেন উৎপাদিত হয়, সে ব্যাপারে কাজ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘গ্যাসের সংকট দূর করার উপায় খোঁজা হচ্ছে।
ভারতের ত্রিপুরা থেকে গ্যাস এনে সংকট দূর করার আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। শিগগির এ সমস্যারও সমাধান হবে।’ চট্টগ্রামকে চীনের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ইবিআরসির নবম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান এবং চট্টগ্রামের কুয়াইশে সিডিএ বাস্তবায়িত ছয়টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, এমএ লতিফ এমপি, দিদারুল আলম এমপি, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রমুখ।
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও ব্যবসায়ী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এসব অনুষ্ঠানে। চিটাগাং চেম্বারের অর্থায়নে নির্মিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের চার লেনের কাজ শেষ হয়েছে। এবার আট লেনের কাজ শুরু হবে। কর্ণফুলীতে টানেল হবে। যাতে কর্ণফুলীর দুই পাড়ে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউন হিসেবে গড়ে তোলা যায়।’ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের হেয় করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখিয়ে দিয়েছি, আমরা বীরের জাতি। কারও কাছে হাত পাতি না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে আমাদের। এ জন্য সবাইকে ট্যাক্স-ভ্যাট দিতে হবে সময়মতো। পণ্যের বাজার সৃষ্টি করতে হবে নিজের দেশেও।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করতে মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মূল পাইপলাইন বসানোর দরপত্রে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মহেশখালীতে কয়লাভিত্তিক ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিরসরাইয়ে একটি ও আনোয়ারায় দুটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।’ উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। নিজেদের ভাগ্য নিজেরা পরিবর্তন করছি।
বর্তমানে ৭২৯টি পণ্য বিশ্বের ১৯২টি দেশে রফতানি হচ্ছে। তাই ১০ বছরের ব্যবধানে ১০ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারে। রিজার্ভ পেঁৗছেছে ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উপরে।’
বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে। বেড়েছে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা। কমেছে দারিদ্র্যের হার। পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নআয়ের স্তর থেকে উন্নীত হয়েছে মধ্যম আয়ের স্তরে। দারিদ্র্যের হার ৪১ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে কমে ২২ দশমিক চার শতাংশে নেমেছে।’ সমুদ্রসম্পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশাল এ সম্পদ কাজে লাগাতে হবে। তেল, গ্যাস ও মৎস্য খাতের সম্ভাবনা খুঁজে দেখা হচ্ছে।’ আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসা করতে আসেনি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে এসেছে। চট্টগ্রামকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি মনে হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বেলা থেকেই এমনটি মনে হয়। তাই চট্টগ্রামের উন্নয়নে সব করা হবে।’ ২০৪১ সালের আগে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব নেতৃত্বে শক্তিশালী নেতাদের একজন। বাংলাদেশকে এখন বিদেশিরা সমীহ করে। তাই আপনারা উৎপাদন বাড়ান।’
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের এ উদ্বোধন প্রমাণ করেছে, চট্টগ্রাম আসলেই ব্যবসা-বাণিজ্যের রাজধানী।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমএ লতিফ এমপি বলেন, ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে। তাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার যুক্ত করেছে এই এলাকায় হাজার বছরের ইতিহাস ও পর্যটন সম্ভাবনাকে।’ স্বাগত বক্তব্যে চিটাগাং চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট নিরসন করতে হলে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিকল্প নেই এবং তা করতে হবে দ্রুততম সময়ে।’
সিডিএর ছয় প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েসহ চার হাজার ৯৩৫ কোটি টাকার ছয়টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কুয়াইশ অংশে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সংযোগস্থলে নির্মিত ম্যুরালের (দেয়ালচিত্র) সামনে থেকে তিনি বোতাম টিপে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, আউটার রিং রোড, লিঙ্ক রোড (লুপ রোড), কদমতলী ফ্লাইওভার, ?বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও সেখানে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় ম্যুরাল। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এই ছয় প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।




