স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধকালীন সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ও প্রয়াত ভাষা সৈনিক আব্দুর রশীদের ৮৬ তম জন্মদিন আজ। পারিবারিকভাবে এই প্রয়াত রাজনীতিবিদের জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শেরপুর শহরের গৃদানারায়নপুরের বাসভবনে তার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, চাপাতলী পৌর কবরস্থানে কবর জিয়ারত, কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন ও,দোয়া মাহফিল।
আব্দুর রশীদ ১৯৩১ সালের ২৫ জানুয়ারি শেরপুর পৌর শহরের শেখহাটিতে এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া একাডেমীতে অধ্যয়নকালে তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট, ৬২’র শিা কমিশন আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যূত্থান, ৭০’র নির্বাচন,৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে অবদান রাখেন।
১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব-পরিবারে নিহত হলে এর প্রতিবাদ করায় তৎকালীন জিয়াউর রহমান সরকার তাকে ময়মনসিংহ জেলা কারাগারে ৯ মাস কারারুদ্ধ করে রাখেন। সাবেক ন্যাপ নেতা বঙ্গবন্ধুর বাকশালের-শেরপুর জেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ দেশ বরেন্দ্র বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের সান্নিধ্যলাভ করেন এবং তাদের সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেন।
তিনি দীর্ঘ দিন স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদর ও জামায়াত-শিবির এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। বিশেষ করে শেরপুরের কুখ্যাত আল বদর জামায়াত নেতা ফাঁসির দন্ড কার্যকর হওয়া কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদাই প্রতিবাদী ভুমিকা পালন করেন এবং যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানকে সামাজিকভাবে বয়কট করে শেরপুরে এক অন্যন্য নজীর স্থাপন করেন।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি শেরপুর জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৪ সালের ৫ জুন বার্ধক্যজনিত কারণে ৮৪ বছর বয়সে তার শেরপুর শহরের গৃদানারায়নপুরের নিজস্ব বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তিনি তিনি এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ এবং দৈনিক যুগান্তর এর শেরপুর জেলা প্রতিনিধি মোঃ আব্দুর রহিম বাদলের বাবা।




