শ্যামলবাংলা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির জনকের স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ওই কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই জাতির জনকের স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ ৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমা থেকে বের হয়ে এসেছে। আজ বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ, আমরা অচিরেই এই দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ এটি পারবে।’
নসভায় নিজের বক্তব্যের শুরুতেই শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোনের প্রতি সম্মান জানান।
তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যে দেশ মিত্র শক্তি হিসেবে যে দেশকে পাশে পেয়েছিল সেই দেশের সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের পরপরই দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। পৃথিবীর আর কোনো দেশেই মিত্র বাহিনী দেশ ছেড়ে যায়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সব ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান যে হত্যা, কু, ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল, ইতিহাস বিকৃতি, ও পাকিস্তানের দোসরদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের যে ধারা তৈরি করেছিল, তার ধারবাহিকতা রক্ষা করেছে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, জিয়ার ক্ষমতা দখল ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই তার সব কর্মকাণ্ডই ছিল অবৈধ।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে কথা বলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সেভাবেই কথা বলেন- এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওনার কতো বড় দুঃসাহস মুক্তিযুদ্ধে যে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিলেন তা নিয়ে ওনার সন্দেহ হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আজ খালেদা জিয়া ভোট নিয়ে কথা বলেন। তার স্বামী তো হ্যাঁ-না ভোট করেছিল, সেখানে ১১০ শতাংশ ভোট পড়েছিল, আর না ভোট তো ছিলই না। ওনার ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তো ভোটারই ছিল না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করতে খালেদা জিয়া যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিল, জ্বালা পোড়াও করেছিল তা সত্ত্বেও সেই নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সম্প্রতি যে পৌরসভা নির্বাচন হয়ে গেল সেখানেই প্রমাণ হয়েছে তাদের জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি মানুষ গ্রহণ করেনি।




