স্টাফ রিপোর্টার : চলমান পৌরসভা নির্বাচনে রাতের ফোয়ারার আলোর ঝলকানির মতো শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনও বেশ জমে উঠেছে। হাড় কাপানো তীব্র শীতে সাধারণ মানুষ যখন জবুথবু, চায়ের কাপে তখন নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে শহরজুড়ে। আর এই শীতকে উপো করে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
সারাদিন কর্মব্যস্থতার পর পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতে এখন সরব আলোচনা পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনী আঁচরণ বিধিতে নিষেধ থাকা সত্বেও নির্বাচন প্রেমী বাঙালীর তর যেন সয় না। মাইকিং এর পাশাপাশি শো-ডাউন আর শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে রেখেছে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা। নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে রাতের ঘুমকে আপাতত বিদায় দিয়েছে কর্মী-সমর্থকরা। একদিকে মধ্য রাত পর্যন্ত শহরের চায়ের দোকানগুলোতে চলে নির্বাচনী আড্ডা। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের রাত ভর চলছে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা। কেউ কেউ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মডেল পৌরসভা উপহার দেয়ার। কেউবা আবার জপছেন সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত পৌরসভা গঠনের। তবে কথার ফুলঝুড়ি যাই থাকুক ভোটাররা এবার অনেক সচেতন। এবারই প্রথম দলীয়ভাবে বা দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভোটাররা বেশ সজাগ রয়েছে। দলীয় প্রতীকে না ভুলে যোগ্য, সৎ এবং সব সময় কাছে পাবে যাকে তাকেই মেয়র এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত করার কথা ভাবছেন ভোটাররা। আবার কেউ কেউ প্রার্থীর দিকে না তাকিয়ে দলীয় প্রতীককেই প্রধান্য দিচ্ছেন। এখানে ৩ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিন্দ্বীতা করলেও মূলত হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে নৌকা আর ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর মধ্যে। কারণ ওই দুই প্রার্থীই সাবেক পৌর চেয়ারম্যান এবং উভয় এরই দলীয় রাজনীতির বাইরে সামাজিক ও ব্যবসায়ীক ভাবে বেশ পরিচিতি রয়েছে।
শেরপুর পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও এনপিপি’র এক জন করে মোট ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। এছাড়া ৯ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৪৮ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। তবে ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে বর্তমান প্যানেল মেয়র মো. নজরুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে ৩০ ডিসেম্বর কাউন্সিল পদে সাধারণ ৮ টি ওয়ার্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শেরপুর পৌরসভায় এবার আওয়ামীলীগ থেকে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া লিটন। অপরদিকে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক আশীষ। এছাড়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে মোবাইল ফোন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছে মাহবুবুর রহমান। তবে নির্বাচনী মাঠে তাকে এখনও খুজে পাওয়া যায়নি।
এখানে ৯ ওয়ার্ডের ৩৪ টি ভোট কেন্দ্রের মোট ভোটার ৬৪ হাজার ২৯১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৩১ হাজার ৪৩৪ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ৩২ হাজার ৮৫৭ জন।




