স্টাফ রিপোর্টার : জাসদ সভাপতি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরে তাদের পাবলম্বন করে পাকিস্তান সরকার যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তা বাংলাদেশবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তেেপর শামিল, যা কোনো রাষ্টের দ্বিপীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে শিষ্টাচারবহির্ভূত। পাকিস্তানের এমন ভূমিকা শত্রু রাষ্ট্রের আচরণের মতো। তিনি ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় শেরপুর জেলা জাসদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওই কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পাকিস্তানের এমন ভূমিকা প্রত্যাখ্যান ও কৈফিয়ত তলব করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কটা কোন পর্যায়ে থাকবে- সেটা পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনা করা দরকার। সরকার এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাবছে এবং কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বঙ্গবন্ধু সরকার একাত্তরে খুন-অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাড়ে ১২ হাজার যুদ্ধাপরাধীর যে তালিকা তৈরি করেছিলেন, তার বিচারকাজ পর্যায়ক্রমে চলতে থাকবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষণ ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাসদের পতাকাতলে আবদ্ধ হতে মুক্তিকামী দেশপ্রেমিক জনতাকে আহবান জানান।
জেলা জাসদ সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার এমপি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত রায়হান, শিা সম্পাদক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কৃষিবিদ মো. আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মুকছেদুর রহমান লবু।
এর আগে দুপুরে সার্কিট হাউস সভাকে শেরপুর প্রেস কাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি জেলায় একটি করে তথ্যভবন নির্মাণ করা হবে। যার মাধ্যমে বাসস, বিটিভি, বেতারের স্থানীয় প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন মিডিয়ার কর্মীরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ওইসময় তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রেস ক্লাবগুলোর সাথে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সরাসরি যোগাযোগ বা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোন অবস্থা নেই। সেইসাথে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে প্রেস ক্লাবগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগও নেই। এমনি অবস্থায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং ক্লাবগুলোতে দ্রুত তথ্য-প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। মতবিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার এমপি, জেলা প্রশাসক ডাঃ এ এম পারভেজ রহিম, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন, প্রেস ক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলাসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




