শ্যামলবাংলা ডেস্ক : মিয়ানমারের ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি), যার মধ্য দিয়ে দেশটিতে অর্ধ শতকের সেনা কর্তৃত্বের অবসানের পাশাপাশি গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ তৈরি হল। ১৩ নভেম্বর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মিয়ানমারের ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন ৮০ শতাংশের বেশি আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেছে। আর উচ্চ ও নিম্নকক্ষ মিলিয়ে সু চি’র দল ৮৫ শতাংশ আসন পেয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়।
মিয়ানমারের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৪০ আসনের মধ্যে ৩৩০টিতে গত ৮ নভেম্বর ভোট হয়। আর উচ্চ কক্ষ জাতীয় পরিষদের ২২৪টি আসনের মধ্যে ভোট হয় ১৬৮টিতে। দুই কক্ষেই বাকি ২৫ শতাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।
মিয়ানমার টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে প্রতিনিধি পরিষদে এনএলডি পেয়েছে ২৩৮ আসন। আর জাতীয় পরিষদে দলটি ১১০টি আসন জিতে নিয়েছে। আর সেনা সমর্থনে ২০১০ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ইউনিয়ন সলিডারিটি ও ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) প্রতিনিধি পরিষদে ২৮টি এবং জাতীয় পরিষদে ১২টি আসন পেয়েছে।
মিয়ানমার টাইমস লিখেছে, “সেনাবাহিনীর জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকার বিষয়টি হিসেবে নিলেও পার্লামেন্টের দুই কক্ষে ইতোমধ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে এনএলডি।”
মিয়ানমারে ২৫ বছর পর সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সাধারণ নির্বাচনে মোট ৯২টি দল অংশ নেয়। এনএলডি ও ইউএসডিপির বাইরে বিভিন্ন দল মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে ৩১টি এবং জাতীয় পরিষদে ১০টি আসন পেয়েছে।
সাড়ে পাঁচ দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সেনাবাহিনী ২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধন করে এমন সব বিধান চালু করে যেগুলোকে শুরু থেকেই ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আসছেন এনএলডির নেতারা। মিয়নমারের সংবিধানে প্রেসিডেন্টই সর্বময় ক্ষমতার উৎস। কিন্তু তাকেও সেনাবাহিনীর পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হয়। পার্লামেন্টে পাস করা যে কোনো আইনে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার।
বিদেশিকে বিয়ে করায় সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথও বন্ধ রয়েছে ওই সংবিধানে। সংবিধানের ৫৯ (এফ) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ কোনো বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করেন এবং তার সন্তানরা অন্য দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এনএলডি এখন সংবিধান সংশোধনের সুযোগ পাবে, সেক্ষেত্রে সুচির সামনে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথও উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
এনএলডি যে বড় জয় পেতে যাচ্ছে, তা আগেই অনুমান করা গেলেও সংবিধান সংশোধনের সুযোগ পাওয়ার আশা ভোটের আগে সুচিও করেননি। শান্তিতে নোবেলজয়ী এই নেত্রী বলেছিলেন দল জিতলে ‘প্রেসিডেন্টের চেয়েও বড় কিছু’ হবেন তিনি।




