এস এম তারেক নেওয়াজ, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) : খাদ্য, ওষুধ, বাচ্চা, পোল্ট্রি উপকরণসহ আনুসঙ্গিক সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ক্রমাগত লোকসানের কারনে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বেশির ভাগ (৭০-৮০ ভাগ) পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে । ফলে বেকার হয়ে পড়েছে এ শিল্পের সাথে জড়িত আরো কয়েকশ শ্রমিক-কর্মচারি।
খামারিদের অভিযোগ, সরকারী নজরদারির অভাব ও পোল্ট্রি শিল্পের স্থায়ী কোন নীতিমালা না থাকায় প্রতিবেশি দেশ থেকে আসা ডিম,বাচ্চা ও ওষুধ এ দেশের বাজার দখল করে রেখেছে। ফলে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে না পেরে লোকসান দিতে দিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোল্ট্রি শিল্পগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই বিপুল সম্ভাবনাময় এ শিল্প রক্ষায় ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সূদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে উপজেলার তারাপাশা গ্রামের পোল্ট্রি খামারী মোঃ সোহাগ মিয়া,দক্ষিন পুমদি গ্রামের নাজমুল মিয়া,ধনকুড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়া,গড়বিশুদিয়া গ্রামের ফরিদ উদিন, ও কেশেরা গ্রামের মোঃ লিসন মিয়াসহ অনেকেই জানান,বিপুল সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি বর্তমানে লোকসানি প্রতিষ্টানে পরিণত হওয়ার মূল কারন রোগ-বালাই,বাচ্চা,খাদ্য,ওষুধ ও উপকরনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। এসব কারনে এ বছর তাদের প্রত্যেকের গড়ে লক্ষাধিক টাকা করে লোকসান গুনতে হয়েছে।
তারা আরো জানান,এক বছর আগেও একদিনের একটি লেয়ার বাচ্চার দাম ছিল ৩২-৩৫ টাকা।বর্তমানে সেই বাচ্চার দাম ৬৫-৭০ টাকা হয়েছে। একই ভাবে ২২-২৫ টাকার ব্রয়লার বাচ্ছা ৩৮-৪০ টাকা ও সোনালী জাতের বাচ্ছা ২০-২৬ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪০-৫০ টাকা হয়েছে। ৩০ টাকা কেজির রেডিফ্রিড ৪৫-৪৮ টাকা হয়েছে। পোলট্রি খাদ্য তৈরীর উপকরণ ভূট্টা ১০-১২ টাকা থেকে বেড়ে ২০-২৫ টাকা,সয়াবিন প্রতি কেজি ২৫-২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫-৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
রহিমপুর গ্রামের খামারী তপন হোসেন ভ’ইয়া জানান, একটি এক কেজির ব্রয়লার মুরগীর উৎপাদন খরচ পড়ে গড়ে ১২৫-১৩০ টাকা কিন্তু বর্তমানে ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি কেজিতে লোকসান হচ্ছে গড়ে ৩০ টাকা। তাই চক্রবৃদ্ধি ঋণের আবর্তে জড়িয়ে সবাই খামার বন্ধ করে দিচ্ছে ।
সূত্রমতে, নব্বই দশকের শুরুতে হোসেনপুর উপজেলার শত-শত শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় পোল্ট্রি শিল্পের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। ফলে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় দুই শতাধিক ছোট-বড় ও মাঝারী পোলট্রি খামার গড়ে উঠে । এর মধ্যে ব্রয়লার মুরগীর খামারের সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে রোগ-বালাই,খাদ্য ও ওষুধের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারনে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৭০-৮০ভাগ খামার। যে কয়টি টিকে আছে সেগুলোর অবস্থাও নাজুক। ফলে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন । ঋণগ্রস্থ কেউ কেউ জীবিকার টানে শহরে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ ইসহাক আলী জানান, সম্প্রতি খাদ্য,ওষুধ ও বাচ্চার মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র পোলট্রি খামারীরা লোকসানের ভয়ে এ পেশায় কিছুটা আগ্রহ হারালেও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মাঠ পর্যায়ে খামারীদের প্রয়োজনীয় পরার্মশ দিয়ে লোকসান ঠেকাতে সচেষ্ট রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




