রেজাউল করিম বকুল, শ্রীবরদী (শেরপুর) : কেউ কখনোই ভাবেনি ওরা এভাবে এগুবে। ছিনিয়ে আনবে প্রত্যাশিত বিজয়। তবে শুধু উপজেলাকে নয় জেলাবাসীকেও তাক লাগিয়েছে। হয়েছে জেলা চ্যাম্পিয়ন। এবার হতে চায় বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন। নানা প্রতিকুলতাকে মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে ওরা। দেখিয়েছে দুর্দান্ত সাহস। জেলার মাঠ কাপিয়ে ছিনিয়ে এনেছে বিজয়। এ বিজয় ওদেরকে করে তুলেছে আরো সাহসী। উপজেলা আর জেলা বাসীকে দেখাতে চায় ওরাও পারে। এ সাহসী গল্পটি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা মাটিফাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এখানের ১৭ জন ছাত্রী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের অংশ গ্রহণকারী। কোমলমতি এ শিশুরা এবার যাচ্ছে বিভাগীয় প্রতিযোগিতায়। আসছে ১৬ অক্টোবর হতে ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে কাঙ্খিত বিভাগীয় এ ফুটবল টুর্নামেন্ট। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ওদের ব্যস্ততা। প্রস্তুতি নিচ্ছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই দেখা যায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয়টি। ছেলে মেয়রা কাশে। শিকরা কাশ নিচ্ছেন। এ সময় কথা হয় প্রধান শিক মোক্তার হোসেনের সাথে। তিনি তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের নানা চিত্র। এটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৩৫ সালে। এখানে তিনটি বিল্ডীং ভবন। ক সাতটি। শিক সাত জন। শিার্থীর সংখ্যা শিশু শ্রেণীসহ প্রায় তিনশ। ঝড়ে পড়ার সংখ্যা নেই বললেই চলে। গত বছর থেকেই এ দলের যাত্রা। নিজেরাই খেলার নানা কলা কৌশল শিখিয়ে নেয়। বিদ্যালয়ের মাঠেই নিয়মিত প্র্যাকটিস করে। গত বছর জেলা পর্যায়ে ৪-৩ গোলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বেড়ে যায় ওদের আগ্রহ।
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক কোনো ফান্ড নেই। স্থানীয়ভাবে লোকজনের সহযোগিতায় দল পরিচালনা করে আসছি। তবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে দলকে আরো গতিশীল করা সম্ভব। তিনি আরো জানান, জেলায় ফুটবল গোল্ডকাপে বিজয়ীসহ সাতটি পুরুষ্কার লাভ করেছেন। এ দলের অধিনায়ক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা ও সহযোগি অধিনায়ক সালমা জাহান রুমি জানায়, তারা গত বছর প্রথম খেলতে গিয়েছিল। তেমনটা বুঝতে পারেনি। এবার তাদের মনোবল অনেকটা বেড়েছে। তাদের প্রত্যাশা ময়মনসিংহ বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাড়ি ফিরবে এমনটি প্রত্যাশা এলাকাবাসী ও অভিভাবকদেরও।




