শ্যামলবাংলা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন। তবে আমরা সেটি অর্জন করতে পারব। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আগে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশ হবে বলে জানাত। এসব সংস্থা এখন সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এখন সাড়ে ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কারণে এ অর্জন সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
৬ অক্টোবর মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দিআর্থ’ এবং তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য একনেক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এ পুরস্কারকে আবারও জনগণকে উৎসর্গ করে এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
একনেক বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের শুরুতে বলেন, বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। আমি আশাবাদী, বাঙালি পারবে, কারণ আমরা বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা পেয়েছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে বিজয়ের সাড়ে তিন বছরের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। পঁচাত্তরে তাকে হত্যা না করা হলে বাংলাদেশ আগেই আরও অনেক উন্নতি করত। তিনি বলেন, সাধারণত প্রবৃদ্ধি বাড়লে মূল্যস্ফীতিও বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে আমরা সৌভাগ্যবান। আমাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছে। তবে এ সংস্থা দুটি বিনিয়োগ কম হওয়া এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকির কারণে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন চ্যালেঞ্জিং হবে বলে জানিয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা আমার লক্ষ্য। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে ছোট করে দেখা, যা আমাকে সব সময় কষ্ট দিত। বাংলাদেশকে নিয়ে কেউ নেতিবাচক কিছু বললে আমি সহ্য করতে পারি না। ৫৫ হাজার বর্গমাইলে ১৬ কোটি মানুষ বাস করে। তাদের মুখে খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, এটা সহজ কথা নয়। গরিব মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চান আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় যদি ১৬ কোটি মানুষকে রাখা হতো, তবে সেখানেও উন্নয়ন করা সম্ভব হতো না। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি আমরা করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘মতিয়া আপাকে (কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী) নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। তখন মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতাম। দেখতাম, গায়ে এক প্রস্থ কাপড় থাকত, পায়ে স্যান্ডেলও থাকত না। এখন গ্রামে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। গ্রাম ও শহরের আয়বৈষম্য কমেছে। প্রতিটি গ্রামই একেকটি ছোট ছোট শহর হবে। গ্রামে যাবে বিদ্যুৎসেবা। ডিজিটালাইজড হবে গ্রামগুলো।’ তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে অবহেলিত। এ অঞ্চলের উন্নয়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেও মারামারি ছিল। সন্ধ্যার পর কেউ বের হতো না। এখন সে পরিস্থিতি নেই। সেখানেও উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) কার্যক্রম যখন শুরু হয়, তখনও নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। ১৫ বছর পর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) শুরুর সময়ও আছি। তবে মনে রাখতে হবে, সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে কাঙ্ক্ষিত অর্জন করা সম্ভব নয়।




