শ্যামলবাংলা ডেস্ক : স্বাধীনতাযুদ্ধে বিরোধীতাকারীদের বিচারের জন্য গঠিত দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একীভূত করতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মুহম্মদ জহিরুল হক মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে এখন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি থাকলো। অপর ট্রাইব্যুনালটি নিষ্ক্রিয় থাকবে। সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত অপর ট্রাইব্যুনালটি ‘অগঠিত’ অবস্থায় থাকবে। জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কর্মরত সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হককে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম এবং হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আসা বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। ট্রাইব্যুনালে থাকা বাকী চার জন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি মজিবর রহমান মিয়া হাইকোর্টে ফিরে যাবেন।
শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে অধিকাংশদের বিচার শেষ ও বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের বিধিমালায় সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির অনুমতি সাপেক্ষে গত ৩ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর অনামোদনের পর রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করে পাঠানোর পর মঙ্গরবার আইন সচিব স্বাক্ষরের পর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য গঠিত দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এরমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কে সক্রিয় রেখে ট্রাইব্যুনাল-২কে নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ মাসে প্রথমটি এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ মাসে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এর বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বিবেচনায় উক্ত ট্রাইব্যুনাল দুটিকে একীভূত করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন আবশ্যক। সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ কর্মরত সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হককে চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এ কর্মরত সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলামকে সদস্য এবং সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শক্রমে বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীকে সদস্য করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ ও ২ এর প্রশাসনিক ও বিচার সংক্রান্ত সকল বিষয় পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সম্পন্ন হবে।’




