ads

সোমবার , ২৭ জুলাই ২০১৫ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

‘অর্থমন্ত্রী ও এমপি জাহিরকে হত্যার জন্য ১২ কোটি টাকায় চুক্তি করেছিলেন গউছ’

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুলাই ২৭, ২০১৫ ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

Habigonj Picএম সজলু, হবিগঞ্জ : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরকে হত্যার জন্য ১২ কোটি টাকায় চুক্তি করেছিলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার বরখাস্তকৃত মেয়র ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ। কারাগারে বসে এ চুক্তি করা হয়। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহম্মদ খোন্দকারের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এসব কথা বলে দু’টি হত্যা মামলায় জেলা কারাগারে আটক আসামী ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটন। গত ১৮ জুলাই ঈদের দিন সকালে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরয়িা হত্যা মামলায় কারাগারে আটক জি কে গউছের উপর হামলার ঘটনায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। জবানবন্দীতে সে জানায়, কারাগারে থাকা অবস্থায় জি কে গউছ তার সাথে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে হত্যার জন্য ১০ কোটি এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরকে হত্যার জন্য ২ কোটি টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল তাকে ঈদের আগে জামিনে মুক্ত করে অগ্রিম হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেয়া হবে। কিন্তু এর কিছুই করেননি জি কে গউছ। এতে তার মনে সন্দেহ হয়, চুক্তির বিষয়টি ফাঁসের আশংকায় তাকে হত্যা করা হতে পারে। এ আশংকায় সে জি কে গউছের উপর হামলা চালিয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কারাগারে জি কে গউছের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ইলিয়াছকে রোববার ৩ দিনের রিমান্ডে নেয় সদর মডেল থানা পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি নাজিম উদ্দিন জানান, রোববার রাত ৮টা থেকে ৯টা এবং ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ইলিয়াছকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদকালে ইলিয়াছ হত্যা ষড়যন্ত্রের ঘটনা বর্ণনা করে। এসময় সে ষড়যন্ত্রে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছে। সোমবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুরে ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করেন বিচারক। তবে জবানবন্দীর লিখিত কাগজপত্র এখনও থানায় পাঠানো হয়নি। জবানবন্দীর কপি পেলে প্রয়োজনীয় পদপে গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত ২২ জুলাই ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনৃুর রহমান ছিদ্দিকী। এদিকে কারাগারের ভেতরে হবিগঞ্জ পৌরসভার সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র জি কে গউছের উপর হামলা এবং পরবর্তিতে জেলে ভাংচুরসহ বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের বিষয়ে তদন্ত করছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। এ কমিটি রোববার ইলিয়াছের সাাতকার গ্রহণ করে।
তদন্ত কমিটির প্রধান এডিএম সফিউল আলম জানান, আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পারব। তিনি বলেন, আমরা তার বক্তব্য নিয়েছি। আরও অনেকের বক্তব্য নিচ্ছি। সবগুলো মিলিয়ে কমিটি সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাবেনা। উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম ১৮ জুলাই ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় বাড়ান তদন্ত কমিটি।
প্রসঙ্গত, ১৮ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন সকালে কারাগারে জি কে গউছের উপর হামলা করে ২টি হত্যা মামলার আসামী ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটন। ওই দিনই আহত জি কে গউছকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এর প্রতিবাদে জেলা বিএনপি ১৯ জুলাই হবিগঞ্জে আধাবেলা হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। অপরদিকে অর্থমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপিকে হত্যা ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে। শায়েস্তাগঞ্জের সালেহ আহমেদ কনা মিয়ার ছেলে ইলিয়াছ দু’টি হত্যা মামলায় ২০১১ সাল থেকে হবিগঞ্জ কারাগারে আটক আছে। অপরদিকে জি কে গউছ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে আছেন।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারী সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জন। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। হত্যা মামলাটি বর্তমানে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এবং বিস্ফোরক মামলাটি তদন্তাধিন আছে।

error: কপি হবে না!