ads

রবিবার , ৩১ মে ২০১৫ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

পঙ্গু স্বামীর প্রতি হালিমার ভালবাসা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ৩১, ২০১৫ ২:২৫ অপরাহ্ণ

Sherpur Pic Halimaস্টাফ রিপোর্টার : স্বামীর প্রতি কতটা ভালবাসা, দায়িত্ব ও কর্তব্যপরায়ণ হতে পারে একজন স্ত্রীÑ তা পঙ্গু স্বামী আমজাদ আলী (৫৯) কে নিয়ে বয়ে বেড়ানো হালিমা বেগম (৫১) কে স্ব-চোঁখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে নামাজ পড়ার জন্য অজু করানো, সকালের নাস্তা খাওয়ানো, দুপুরে গোসল করানো, কাপড় পড়ানো আর রাতে তাকে পিঠে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোসহ হাসিমুখে সবই করেন হালিমা। ৯ বছর ধরে ভালবাসার মানুষটির জন্য এভাবেই নীরবে নিজের কাজ করে চলেছেন তিনি। তাইতো স্ত্রীর ভালবাসায় স্বামী আমজাদ আলী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠেন, ‘হালিমা না থাকলে আমার বাইচ্চা থাকা কঠিন অইতো’।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার দণি রানীগাঁও গ্রামে ওই দম্পতির বসবাস। জনকণ্ঠের সাথে কথোপকথনে জানা যায়, ৩৬ বছর আগে আমজাদ আলীর সাথে বিয়ে হয় হালিমা বেগমের। অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করে চলত তাদের সংসার। জমানো টাকায় তারা একসময় ৩০ শতক আবাদি জমি কেনেন। ৫ বছরের মধ্যে তাদের ঘরে আসে দু’টি সন্তান। ২০০৫ সালে আমজাদের ডান পায়ের আঙ্গুলে ছোট্ট একটি ফোড়া উঠলে চিকিৎসকের পরামর্শে কেটে ফেলতে হয় আঙ্গুলটি। চিকিৎসকরা জানান, এটি বারজার রোগ। এ রোগে এক বছরের মধ্যে পা থেকে কোমর পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয় বলে শেষ পর্যন্ত তাকে ডান পাটি কেটে ফেলতে হয়। পা কেটে ফেলার পর আমজাদ আলী প্রথম দিকে এক পায়ের উপর ভর করে কিছুটা চলতে-ফিরতে পারতেন। তবে ৪ বছরের ব্যবধানে একই রোগে তার হারাতে হয় বাম পা। ফলে ছোট্ট টিনের বসতঘরের অবস্থান ৬ শতক জমিটুকুও বন্ধক দিতে হয় ওই দম্পতিকে। হালিমা বেগম জানান, তার স্বামীর পায়ে ৪ বার অস্ত্রোপচার করতে ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। শেষ সম্বল জমিটুকু বন্ধক দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা করেছেন। দু’টি পা কেটে ফেলায় সারাণ ঘরেই থাকতে হয়। তাই স্বামীকে একা রেখে অন্যের বাড়িতে কাজ করা সম্ভব হয় না হালিমার। তবে জীবন বাচাঁনোর তাগিদে ২০০৯ সালে কাজের সন্ধানে তারা ঢাকায় চলে যান। আমজাদ আলী ভিাবৃত্তি আর হালিমা একটি গার্মেন্টসে ঝাড়–দারের কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে হালিমার অসুখ হলে তারা দু’জনই গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। ঢাকা থেকে ফিরেই বন্ধক দেয়া জমিটুকু ছাড়িয়ে নেন। বর্তমানে ছেলে হাফিজুর রহমান ঢাকায় রিকশা চালান। আর মেয়ে আঞ্জুয়ারা বেগমের বিয়ে হয়েছে পাশের গ্রামে। সন্তানেরা সহযোগিতা করেন কি না? জানতে চাইলে আমজাদ আলী বলেন, ‘তাদেরই ঠিকমতো সংসার চলে না, আমগরে সাহায্য করব কিভাবে? তবে অসুখ-বিসুখের কথা হুনলে মেয়েডা ছুইটা আহে।’ এই অসহায় জীবনে স্ত্রী কখনও অবহেলা বা বিরক্তবোধ করেছেন কিনা? জানতে চাইলে ছলছল নয়নে আমজাদ আলী বলেন, ‘ইচ্ছা করলে হালিমা আমারে ফালাইয়া চইলা যাইতে পারত। অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় যখন পইড়া থাকতাম, তখন প্রচন্ড অস্থির লাগত। ঘুম আইত না। লোকজনের আড়ালে রাতে হালিমা আমারে পিঠে নিয়া গ্রামের সড়কে সড়কে ঘুইরা বেড়াইত। স্ত্রীর জন্য কিছু করার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আবাদি জমিটুকু হালিমার নামে কিনছিলাম। আর বাকি যা দেয়ার সবকিছু হালিমাই আমারে দিছে।’ অন্যদিকে নিজের অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে হালিমা বলেন, ‘কষ্টকে এখন আর কষ্ট মনে হয় না। বাকি জীবনটা এই পঙ্গু মানুষটার সেবা করে যেতে চাই। তাতেই আমার শান্তি।’

error: কপি হবে না!