চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : চকরিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা ফুলছড়ি নতুন অফিস বাস স্টেশনস্থ নুরুল আজিমের অবৈধ টমটম গ্যারেজে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ওই অবৈধ টমটম গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ৩টি বৈদ্যুতিক মিটার, তার ও টমটম গাড়িতে চার্জ দেওয়ার সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে। এই গ্যারেজে বিদ্যুৎ চুরির কারণে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিসিক শিল্প নগরী ইসলামপুরের বিভিন্ন শিল্প কারখানায় উৎপাদনে ব্যাঘাত সৃষ্টি ও খুটাখালীসহ আশপাশ এলাকার সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিল। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ ।

জানা যায়, চকরিয়া ফুলছড়ি নতুন অফিস এলাকার বাসিন্দা নুরুল আজিম নামের এক ব্যক্তি চকরিয়া ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলছড়ি নতুন অফিস বাস স্টেশনের পূর্ব পার্শ্বে একটি টমটম (ইজিবাইক ) গ্যারেজ গড়ে তুলেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি হতে ভিন্ন ভিন্ন নামে ৩টি মিটার সংযোগ নিয়ে এই অবৈধ গ্যারেজে স্থাপন করেন।
“ব্যাটারী চালিত ইজি-বাইক মালিকরা ওই অসাধু ব্যক্তি নুরুল আজিমের সাথে আতাঁত করে বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে প্রতিদিন শতাধিক টমটম গাড়ির ব্যাটারিতে চার্জ দিয়ে আসছিল। এই অবৈধ টমটম গ্যারেজের ব্যাপারে স্থানীয় জনগণ বারবার অভিযোগ করে আসছিল।
আরও জানা যায়, মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারী বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঈদগাঁও জোনাল অফিসের একটি টীম ওই নুরুল আজিমের অবৈধ টমটম গ্যারেজে অভিযান চালায়। বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে টমটম গাড়ীর ব্যাটারীতে চার্জ দেওয়ার এবং ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়ে ৩টি মিটার সংযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয়ের প্রমাণ মেলে। অভিযান পরিচালনাকারীরা তাৎক্ষনিক ভাবে ৩টি মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তার, মিটার ও টমটমগাড়ীতে চার্জ দেওয়ার সরঞ্জামাদি জব্দ করেন।
ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জোনাল অফিসের এজিএম জানান, ওই নুরুল আজিম ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়ে ৩টি মিটার সংযোগ নেন এবং চুরি করা বিদ্যুৎতে টমটম গাড়ীতে চার্জ দিয়ে আসছিল। এছাড়া বিদ্যুৎ চুরির পাশাপাশি প্রায় ৭০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিলও বকেয়া রাখে। ফলে অভিযান বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করণ এবং মিটার জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, চুরি করা বিদ্যুতে প্রতিটি টমটম ব্যাটারী চার্জ দিতে হাতিয়ে নেওয়া হয় ১৮০ থেকে ২০০ টাকা হারে।
গত বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঈদগাঁও জোনাল অফিসে কর্মরত একজন মিটার রিডার বিদ্যুৎ ব্যবহারের রিডিং তুলতে গিয়ে চুরির ঘটনাটি উদঘাটন করে। এঘটনায় ওই মিটার রিডারকে বেদম মারধর করেছিল অসাধু বিদ্যুৎ চোর নুরুল আজিম। তৎসময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে বৈদ্যুতিক তার আটক ও চুরির আলামত জব্দ করেন। এবং বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল তাকে।
পরিবেশ সচেতন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার
চকরিয়া কোর্ট সড়কের ৯টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে গেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি : প্রশাসন নিরব

চকরিয়া উপজেলা কোর্ট সড়কে লাগানো বিশাল আকৃতির ৯টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে গেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। ওইব্যক্তি এসব গাছ কাটার সময় বনবিভাগ কিংবা প্রশাসনের কাছ থেকে কোন ধরণের অনুমতিও নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। উপজেলা প্রশাসনের নাগের ডগায় দিনদুপুরে এসব গাছ কেটে নিয়ে গেলেও নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে ােভের সঞ্চার হয়েছে পরিবেশবাদী ও সচেতনমহলের।
জানা যায়, চকরিয়া উপজেলা সড়কের সৌর্ন্দয্য বৃদ্ধি, ছায়া ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য থানা রাস্তার মাথা থেকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে প্রায় ২০-২৫ বছর পূর্বে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেহগনি গাছ গুলো রোপন করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে মেহগনি গাছ গুলো। বর্তমানে সড়ক সংলগ্ন সৃজিত বিশাল আকৃতির মেহগনি গাছ গুলো পরিবেশের ভারসাম্য রার পাশাপাশি শোভাবর্ধন সৃষ্টি করছে ও মানুষ ছায়া দিচ্ছে। বর্তমানে এসব গাছের মালিক হল সড়ক ও জনপদ বিভাগ। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ওই সড়কের পূর্ব পাশে রয়েছে বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বাড়ি। তার বাড়ির সীমানা প্রাচীরের বাইরে উপজেলা সড়কে রয়েছে ওই সময়ে লাগানো বিশাল আকৃতির ৯টি মেহগনি গাছ। সম্প্রতি সময়ে এসব গাছের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আবুল হাসেমের। তিনি বনবিভাগ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে না জানিয়ে বিশাল আকৃতির মেহগনি গাছ গুলো করাত দিয়ে কেটে ফেলে। এসব গাছ কাটার সময় চকরিয়া পৌরসভার এক কর্মকর্তা এসে বাধা দিলেও ওইব্যক্তি বাধা না মেনে জোরপূর্বকভাবে গাছ গুলো কেটে নিয়ে যায়। বর্তমানে কাটা গাছের মোথা গুলো স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে যাতায়তকারী হাজার হাজার মানুষ মোথা গুলো প্রত্যক্ষভাবে দেখছে বলে জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেটে ফেলা ৯টি মেহগনি গাছের আনুমানিক মুল্য ৬লাখ টাকা বলে জানান। এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের পুত্র শেফায়েতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেহগনি গাছ গুলো তার নিজ জায়গার ওপর রোপন করা হয়েছিল। এজন্য গাছ গুলো কাটা হয়েছে। মৌখিকভাবে বনবিভাগের এক কর্মকর্তা থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। সরকার প্রতিকুল পরিবেশ মোকাবেলায় ও আবহাওয়া ভারসাম্য রক্ষায় সারাদেশে বনায়ন কার্যক্রম জোরদার করছে, ঠিক সেই মূর্হুতে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সামনে থেকে বিশাল আকৃতির ৯টি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ায় পরিবেশ সচেতনমহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। এব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাহেদুল ইসলাম জানান, কোন জায়গায় গাছ গুলো কাটা হয়েছে এখনো দেখিনি। তবে কেউ সরকারি গাছ কেটে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




