ads

সোমবার , ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বন্যার পানির নিচে তলিয়ে আছে রংপুর বিভাগের ৪৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল : চোখে অন্ধকার দেখছেন কৃষকরা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৪ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

Rangpur_District_Map_Bangladesh-42সাখাওয়াত হোসেন লাবু, রংপুর : টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বিরাজ করছে বন্যা পরিস্থিতি। আবার কিছু কিছু এলাকার বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হলেও গত দু’সপ্তাহের বন্যার পানিতে রংপুর বিভাগের ৪৬ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, বীজতলা, আউস ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল হাঁটু থেকে কোমর পানির নিচে ডুবে রয়েছে। এ ফলে চোখে অন্ধকার দেখছেন বিভাগের ১০ হাজার কৃষকরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে আমনের চারা রোপন করায় তাদের মাথায় হাত পড়েছে। এদিকে ঢাকা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে বন্যার পানি চলে যাওয়ার পর কৃষকদের আগামজাতের অন্য ফসল রোপনের পরামর্শ দিচ্ছেন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং গত দু’সপ্তাহের টানা বর্ষনে রংপুর বিভাগের ৫ জেলার ৪৪ হাজার ২’শ ৮৩ হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রংপুরে ৫’শ ৯০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ৩ হাজার ১’শ ৫ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৩৭ হাজার ৯’শ ১৮ হেক্টর, লালমনিরহাটে ১ হাজার ২’শ ৫০ হেক্টর ও নীলফামারীতে ১ হাজার ৪’শ ২০ হেক্টর। বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৬’শ ৯০ হেক্টর জমির। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৫’শ ৬৬ হেক্টর ও গাইবান্ধায় ১’শ ২৪ হেক্টর। গাইবান্ধায় আউসের ক্ষতি হয়েছে ১’শ হেক্টর ও কুড়িগ্রামে ৫৬ হেক্টর। শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে কুড়িগ্রামে ৫’শ ৪৩ হেক্টর এবং গাইবান্ধায় ১’শ ২ হেক্টর। হাঁটু থেকে কোমর পানির নিচে আমন ক্ষেত, বীজ তলা ও সবজী ক্ষেত তলিয়ে থানায় বিভাগের প্রায় ১০ হাজার কৃষক চোখে অন্ধকার দেখছে।
সোমবার সরেজমিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, গঙ্গাচড়া, লহ্মিটারী, গজঘন্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, যেখানে আগে শুধুই শ্যামলের সমরোহ ছিল আজ সেখানে শুধুই পানি আর পানি। গত দু’সপ্তাহের বন্যায় আমন ধান, বীজ তলা, সবজী ক্ষেত ডুবে গিয়ে একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকেই জমির পাশে বসে কেঁদে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে রয়েছেন। সেখানে কৃষক সাইদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ৪ একর জমিতে ঋণ নিয়ে আমন চারা রোপনসহ সবজী লাগিয়েছি। এবারের বন্যায় সবকিছু পানির নিচে তলিয়ে একেবারে পঁচে গেছে। এখন আমি পরিবারের লোকজনের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দেয়া তো দুরের কথা ঋণ শোধ করবো কিভাবে ভেবে পাচ্ছি না। সরকার যদি আমার মতো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে। গজঘন্টা ইউনিয়নের মিজানুর, আব্দুল হাদিসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, বন্যায় তাদের আমনের চারা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এবার তারা আমনের আবাদ করতে পারবে না। তারা জানান, ত্রাণ সামগ্রীর প্রয়োজন নাই। তাদের মাঝে বীজ, চারাসহ কৃষি সামগ্রী সরবরাহ করা হোক।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, তিস্তা, ব্রক্ষ্মপুত্র ও ধরলা সেতু পয়েন্টে পানি গত দু’দিন ধরে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত দু’সপ্তাহের ভারী বর্ষণে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া প্রায় ৪৬ হেক্টর জমির রোপা আমন, বীজতলা, আউস ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল সম্পূর্ণ পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কমল সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে, গত দু’সপ্তাহের বন্যায় রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলার প্রায় ৪৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে আছে। যেসব জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার একটি তালিকা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। তিনি বলেন, অনেক স্থানে এখনো আমনের চারা রয়েছে। কৃষকদের সেই চারা সংগ্রহ করে লাগাতে হবে। তিনি আরও বলেন, আগাম সবজি, মাসকাইলাই, ভূট্টা ও সরিষার আবাদ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে কর্মকর্তারা এসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছে।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!