ads

রবিবার , ২৪ আগস্ট ২০১৪ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রংপুরে উত্তরাঞ্চলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
আগস্ট ২৪, ২০১৪ ৯:০৪ অপরাহ্ণ
রংপুরে উত্তরাঞ্চলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত

অপসংস্কৃতি-অশ্লীলতা মাদক-জুয়া নারী নির্যাতন নারী ও শিশু পাচার বন্ধ এবং মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনগড়ে তোলার আহ্বান

সাখাওয়াত হোসেন লাবু, রংপুর : অপসংস্কৃতি-অশ্লীলতা, মাদক-জুয়া, নারী নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার বন্ধ এবং মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা। ২৪ আগষ্ট রবিবার দুপুরে রংপুর টাউন হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত উত্তরাঞ্চলীয় সমাবেশে বক্তারা এই আহ্বান জানান। এর আগে সকালে পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ থেকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার নারীদের অংশগ্রহণে বিশাল একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পৌরবাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানী মোড়, প্রেসক্লাব ও গ্রান্ড হোটেল মোড় হয়ে পুনরায় পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে টাউন হল মিলনায়তনে নারীমুক্তি কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক রোকেয়া খাতুলের সভাপতিত্বে এবং রংপুর জেলা শাখার সভাপতি প্রভাষক আরশেদা খানম লিজুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উত্তরাঞ্চলীয় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাসদ-কেন্দ্রীয় কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী। সমাবেশে থেকে অশ্লিলতা, অপকসংস্কৃত মাদক জুয়া, নারী নির্যাতন, নারী পাচার বন্ধ এবং মৌলবাদ সম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৫ ও ২১ অক্টোবর রংপুর-রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলায় সপ্তাহব্যাপী অপসংস্কৃতি অশ্লীলতা বিরোধী অভিযান এবং জনসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি, ২১ অক্টোবর জনসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি শেষে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একযোগে একই সময়ে অশ্লীল পোস্টারে কালিলেপন, অপসারণ ও অগ্নিসংযোগের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। অন্যথায় প্রশাসন যদি অশ্লীলতা, অপসংস্কৃতি মাদক, জুয়া, আশ্লীল নৃত্য বন্ধে কার্যকর আইনি উদ্যোগ গ্রহণ না করে তাহলে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী গ্রহন করবে হুশিয়ারি প্রদান করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাসদ-কেন্দ্রীয় কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশ নারমুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস পপি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী বলেন, নারী সমাজের উপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার যে ভয়ংকর রূপ আমরা দেখছি তা চূড়ান্তভাবে অবক্ষয়ী-বৈষম্যমূলক পূঁজিবাদী ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি। এ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নারী নিগ্রহের মাত্রাই শুধু বাড়াবে না, সমাজেও নিদারুণ সাংস্কৃতিক সংকট ডেকে আনবে। ফলে সকল প্রকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ নারীমুক্তি আন্দোলন আজ সমাজ প্রগতির সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এ আন্দোলনে প্রগতিশীল বিবেকবান মানুষসহ সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের দীর্ঘ অতীত যেমন একদিকে নারী জীবনের অপমান, অবমাননা ও লাঞ্চনার ঘটনায় পূর্ণ, অন্যদিকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে বাঁচার আকুতিভরা লড়াইয়ের প্রচেষ্টা। কিন্তু সঠিক দৃষ্টিভঙ্গীর অভাবে নারীর বৈষম্যহীণ গণতান্ত্রিক অধিকার তথা মর্যাদাপূর্ণ জীবন এখনো সূদুর পরাহত। শোষণ মুক্তির চেতনায় নারী আন্দোলন সংগঠিত করা ছাড়া নারী মুক্তি অসম্ভব। সুতরাং নারী নির্যাতন বিরোধী সকল আন্দোলনকে আজ শোষণমুক্তির লক্ষ্যে পরিচালিত করতে হবে।
বক্তারা বলেন, আজ থেকে ১৯ বছর আগে ১৯৯৫ সালের ২৪ আগষ্ট ইয়াসমিন নামক কিশোরী পুলিশ গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। এই ঘটনায় দিনাজপুরে সৃষ্টি হয়েছি এক গণঅভ্যূত্থান মূলক পরিস্থিতির। গণআন্দোলনের চাপে সেদিন প্রশাসন অচল হয়েছিল, ফাঁসি হয়েছিল তিন পুলিশ সদস্যের। সেই আন্দোলন ইতিহাসে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসাবে ঘোষিত হয়। বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র এই দিবসে অপসংস্কৃতি-অশ্লীলতা ও নারী নির্যাতন, নারী শিশু পাচার বিরোধী সমাবেশ আয়োজন করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, অপসংস্কৃতি-অশ্লীলতা, মাদক-জুয়া, নারীর প্রতি সহিংসতা যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে নারী সমাজ ও দেশবাসী আতংকগ্রস্থ। মোবাইল ফোনে ছবি ডাউনলোড, পর্ণো পত্রিকা, নাটক-সিনেমা-বিজ্ঞাপনে নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে তাতে করে সাংস্কৃতিক অবক্ষয় চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র এই অবক্ষয়। এই অবক্ষয়ের হাত থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। বিশেষ করে কিশোর-তরুণ-তরুণী যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। যে তরুণ যুবশক্তি দেশে ভবিষ্যৎ তারাই এই সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের শিকার। অন্যদিকে মাদক-জুয়ার আসর চলছে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদে। মাদক সেবনকারী ৭০ শতাংশই কিশোর-কিশোরী। অথচ সরকার নির্বিকার। কারণ যুব সমাজকে যদি মাদকে নিমজ্জিত রাখা যায়, তাহলে কোন প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে উঠবে না। ফলে পরিকল্পিতভাবে সরকারের প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে এই মাদক সর্বত্র ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আর একটি বিষয় হল জুয়ার আসর। এই জুয়ার আসরে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও যুক্ত। জুয়ার ফলে নিঃস্ব হয় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। অর্থাৎ এই অপসংস্কৃতি-অশ্লীলতা ও মাদক-জুয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি নিগৃহিত ও নির্যাতনের শিকার হয় নারীরা। সেজন্য বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র এসবের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান করছে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায় ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছে ১২ জন। যার মধ্যে ৮ জনই শিক্ষার্থী। আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ৯৮ জন। যার মধ্যে ৪৯ জনই ছাত্রী। শুধু রংপুরেই নয় গাইবান্ধায় একের পর এক নারী শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। সেখানে রিক্তা হত্যার প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। রিক্তা ছাড়াও আরও ধর্ষণ-গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ধর্ষণ ও গণধর্ষণের সাথে যুক্ত শাসক-বুর্জোয়া দলের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে পুষ্ট সন্ত্রাসিরা। এক্ষেত্রে বর্তমান শাসক দলের ভূমিকা প্রধান। তাই আন্দোলনের ফলে আসামি গ্রেফতার হলেও সরকারের ছত্রছায়ায় তারা ছাড়া পেয়ে যায়। শুধু রংপুর-গাইবান্ধ নয়, নারী নির্যাতনের ভয়াবহ রূপ সারা বাংলাদেশে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের অভাবে নারীর প্রতি এই সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সকল বিবেকবান মানুষের দায়িত্ব। আর মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা চিন্তার ফলে সমাজের মনন কাঠামোয় নারীদের সম্পর্কে যে দৃষ্টিভঙ্গি সেই দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে নেতৃবৃন্দ রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

টাকা ফেরতের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মানববন্ধন ঃ
রংপুর বিভাগ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রাইম ব্যাংক কর্তৃক মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের (ইজি ক্যাশ) এসএমজি ইনফো কম

Shamol Bangla Ads

রংপুর বিভাগ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে প্রাইম ব্যাংক কর্তৃক মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের (ইজি ক্যাশ) এসএমজি ইনফো কম। এর মধ্যে শুধুমাত্র রংপুর জেলা থেকেই ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর প্রাইম ব্যাংক ৭ আগস্ট থেকে তাদের মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে প্রতারিত ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে প্রাইম ব্যাংক রংপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ এবরারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ৭ আগস্ট থেকে সারাদেশে প্রাইম ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে বলেন, এসএমজি ইনফো কম’র সঙ্গে প্রাইম ব্যাংকের কোন ধরনের স¤পৃক্ততা নেই। এদিকে আজ রবিবার প্রাইম ব্যাংক কর্তৃক মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের (ইজি ক্যাশ) এসএমজি ইনফো কম দ্বারা প্রতারিত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের উদ্যোগে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল দুপুর ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ২ ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধন চলাকালে এক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহানগর দোকান মালিক সমিতির চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ জুন্নুন, সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন, সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, রংপুর জেলা রিচার্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর আলী আকরাম চমন, ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে হাসান ফেরদৌস, রাসেল রানা, বেলাল হোসেন, আলমগীর হোসেন, সালাউদ্দিন (ঠাকুরগাঁও) প্রমুখ। সমাবেশ শেষে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর শাখার মহাব্যবস্থাপকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মচারী সূত্রে জানা যায়, প্রাইম ব্যাংক তাদের মোবাইল ব্যাংকিং ইজি ক্যাশ পরিচালনার জন্য এসএমজি ইনফো কম লিমিটেড নামে একটি কো¤পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। এসএমজি ইনফো কম ২০১২ সালে প্রাইম ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস ইজ ক্যাশ’র এজেন্ট হিসেবে নিয়োগের জন্য রংপুর জেলায় ডিস্ট্রিবিউশন সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ (ডিএসআর), জটেলিটরি সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ (টিএসআর) ও কাস্টমার সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ (সিএসআর) নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে গত বছর জানুয়ারিতে নিরাপত্তা আমানত হিসেবে জেলার ৪ জন ডিএসআরের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার করে ১০ লাখ টাকা, ২৫ জন টিএসআরের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার করে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২’শ জন সিএসআরের কাছ থেকে ৫০ হাজার করে ১ কোটি টাকা নেয়। এরপর ব্যবসায়ীদের আর নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রতারিত ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ার পর ৩১ জুলাই এসএমজি ইনফো কম’র চুক্তি বাতিল করে ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। প্রাইম ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট সমিতির জেলা আহ্বায়ক হাসান ফেরদৌস জানান, সিএসআর হিসেবে রিসিটের মাধ্যমে তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। রংপুর জেলার ২’শ ২৯ জনের কাছ থেকে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নিয়ে এসএমজির কর্মকর্তারা উধাও হয়েছে। রিসিটের ঠিকানা অনুযায়ী গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। সবমিলে রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে এসএমজি ইনফো কম’র কর্মকর্তারা। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ঢাকার গুলশান নর্থ সাউথ এভিনিউ গুলশান পয়েন্ট টাওয়ারের ৭ম তলায় অফিস দেখিয়ে গত প্রায় ২ বছর পূর্বে বিকাশের মতো মোবাইল ব্যাংকিং চালু করার প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ডিলার ও এজেন্ট নিয়োগের বিজ্ঞাপন ছাড়ে এসএমজি ইনফো কম নামক ওই প্রতিষ্ঠান। বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই চাকরি পাবার আশায় ও ডিলার হওয়ার আশায় ওই প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের মোটা অংকের বেতন ও মোটা আয়ের সুযোগ দেখিয়ে সিকিউরিটি মানি হিসেবে প্রতি জনের কাছ থেকে চেকের মতো রসিদ মূলে ২ লাখ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আদায় করেন। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরিদর্শন চালানো হয়। এতে বিষয়টি সত্যতা পাওয়া গেলে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ডিলার ও এজেন্ট নিয়োগের নামে সারাদেশ থেকে বেসরকারি প্রাইম ব্যাংকের সংগৃহীত ২৫ কোটি টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি প্রাইম ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে প্রাইম ব্যাংকের এক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদেরকে ২৫ কোটি টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এ টাকা সরাসরি আমরা নেইনি, নিয়েছে এসএমজি ইনফো কম। তাই টাকার সঠিক পরিমাণ বলতে পারছি না। তবে এ টাকা কবে পরিশোধ করা হবে সে ব্যাপারে কোন উত্তর দিতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রচার নীতিমালা প্রত্যাহার ও মুক্তগণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উদ্যোগে রংপুরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রনের অপচেষ্টার প্রতিবাদে ও মুক্তগণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রংপুর বিভাগ, জেলা ও মহানগর কমিটির উদ্যোগে আজ রবিবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি নূরুজ্জামান প্রধানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালে এক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক সংস্থা রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল মৃধা, এটিএন নিউজ’র রংপুর প্রতিনিধি প্রবীণ সাংবাদিক মাহাবুবুল ইসলাম, সুজনের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু, সাংবাদিক এসএম পিয়াল, রফিকুল ইসলাম রফিক, শরিফুজ্জামান রিপন, শাকিল আহমেদ, বাবলু নাগ, মিজানুর রহমান লুলু, ফটো সাংবাদিক আফজাল হোসেন, আব্দুল করিম সরকার প্রমূখ। বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক প্রবর্তিত জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা বিভিন্নভাবে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করবে। তাই ওই সম্প্রচার নীতিমালা প্রত্যাহার করে মুক্তগণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, ঘোষিত সম্প্রচার নীতিমালা অবাধ তথ্য প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। বক্তারা সাংবাদিক নিরাপত্তা আইন এবং সাংবাদিকতার জাতীয় সনদ প্রদান প্রবর্তনের জোর দাবি জানান। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সকল সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য জোরদার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!