ads

সোমবার , ৪ আগস্ট ২০১৪ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ভাগ্যবদলের অনুপ্রেরণা…

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
আগস্ট ৪, ২০১৪ ৫:০২ অপরাহ্ণ

Labu Rangpur photo-1........04-08-14সাখাওয়াত হোসেন লাবু, রংপুর : কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল পুঁজি করে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ-ফুলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমাহারে গড়ে তুলেছেন নাসিম নার্সারির মালিক আঃ ওহিদ শেখ। বাণিজ্যিকভাবে নার্সারি তৈরি হওয়ায় চারা বিক্রি করে নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে তার দিন বদলে গেছে। কর্মসংস্থান ংহয়েছে শতাধিক বেকার যুবকের। তার সাফল্য দেখে অনেক বেকার যুবক দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে এসে তার কাছে পরামর্শ নিচ্ছেন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারি প্রতিষ্ঠায়। রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরের ওহিদ শেখ একজন অনুকরণীয় হয়ে কাজ করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর দিনাজপুর সড়কের পাশেই নাসিম নার্সারীর সাইনবোর্ড। একটি ট্রাকে চারা গাছ উঠানো হচ্ছে। জানা গেল, ট্রাকটি লোড হওয়ার পর বান্দরবন যাবে। কথা হলো ওহিদ শেখের সাথে। তিনি কোন ভূমিকা না করেই বললেন, এই যে আম গাছের চারাগুলো ট্রাকে উঠানো হচ্ছে। এ গুলো আমার সন্তান। আমি তাদের সন্তানের মতোই পালন করেছি। একটু বড় হলে সে গুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বল্প মূল্যে পাঠাই। বাংলাদেশের ৪৬টি জেলায় আমার নার্সারীর চারা যাচ্ছে। আমি মনে করি চারা নয় আমার সন্তান যাচ্ছে। এটাই শান্তি।
নার্সারী চাষী ওহিদ শেখ নার্সারী শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছেন পরম মমতায়। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে সামান্য মালির চাকুরী করতেন তিনি। চাকুরীরত অবস্থায় ৯০এর দশকে নগরীর মর্ডান মোড়ে ২৪ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে গাছের চারা রোপন করেন। উৎপাদিত চারা বিক্রি করতে অবসর সময়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বেড়াতেন। নিজ উদ্যোগে তিনি রংপুরের বিভিন্ন স্থানে বন্ধু-বান্ধব, আতœীয়-স্বজনদের বাড়ীতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চারা রোপন করে দিয়েছিলেন। চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে ধার দেনা করে গড়ে তুলেছেন নার্সারী। বর্তমানে নগরীর মর্ডান মোড় ও রংপুর জেলার সদর উপজেলার শলেয়া শাহ, হরকলি, রতিরামপুর এলাকায় নিজের জমি ৬ একর ও চুক্তিবদ্ধ ১৯ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন নিজ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নাসিম নার্সারী। সেখানে প্রায় দেশী-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের ৯ লাখ চারা রয়েছে। এই মধ্যে তার নার্সারী পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের একদল গবেষক। পরিদর্শন দলে ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সররকারের পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম,এ সাত্তার মন্ডল, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আঃ সাত্তার, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শংকর কুমার রাহা, ডীন ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ ছোলায়মান আলী ফকির প্রমুখ।
ওহিদ শেখ জানান, ২০০৫ সালে পাগলাপীরের শলেয়াশাহ বাজারের কাছে এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন চারা উৎপাদনের কাজ। বর্তমানে ৬ বিঘা নিজের কেনা ও বর্গা নেয়া ১৯ বিঘা মিলে মোট ২৫ বিঘা জমির উপর বিশাল নার্সারী গড়ে তুলেছেন তিনি। তার নার্সারীতে ফলজ চারা গাছের মধ্যে হাঁড়িভাঙ্গা, লেংড়া, রুপালী, আম্রপলি, গোপাল ভোগ, আশ্বিনা, মিশ্রিভোগ, খিরসা, ফজলিসহ নানান রকম আমের কলম চারা। বেদেনা, চায়না, বোম্বাই, মাদ্রাজি লিচুর চারা আছে। ছয় ফুট থেকে ১২ ফুট দৈর্ঘের চারাও আছে। এ ছাড়া আকাশমণি, অ্যাকাশিয়া ক্রস, ম্যানজিয়াম, রেইনট্রি, আমড়া, ডালিম, জাম, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা, জলপাই, পেঁপে এবং ঔষধি নিম, আগরসহ দেশীয় প্রজাতির গাছের চারাও রয়েছে। তিনি বলেন, আমি চারা গাছের রোগ-বালাই সরাতে কিটনাশক ব্যবহার করি না। কিটনাশকের চেয়ে প্রাকৃতিক ভেষজ ঔষধ কম ব্যবহার করে উপকার বেশী। গুণগত মান ভালো হওয়ায় তার নার্সারির চারার চাহিদা ব্যাপক। দেশের প্রত্যেক জেলায় তার নার্সারীর চারা যাচ্ছে। বান্দরবন, সিলেট, মৌলভী বাজার, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া,সাতক্ষিরা, রাজশাহী, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলায় ট্রাক- ট্রাক চারা যাচেছ। ওহিদ শেখ বলেন, আমার নার্সারী ব্যবসা বেড়েছে। জমির পরিমান বেড়েছে। উৎপাদন বেড়েছে। এখানে শতাধিক মানুষের কর্ম সংস্থান হয়েছে। কিন্তু খরচ সমালাতে হিমশিম খেতে হয়। বর্গাকৃত জমির ভাড়া, শ্রমিক বেতন, চারা উৎপাদন খরচ, ফসফেট, পটাস, গোবর, দোআঁশ মাটি ক্রয়, সেচ, টব ক্রয় ইত্যাদি খাতে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি নেই তাই বিক্রিও কম। এ পর্যন্ত সরকারী কোন সহায়তা পাইনি। দেশের প্রাকৃতিক ভারসম্য রক্ষায় বৃক্ষ উৎপাদন করছি। এজন্য সরকারের সাহায্য পাওয়া আমার অধিকার।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!