ads

বৃহস্পতিবার , ৩১ জুলাই ২০১৪ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বিশ্বে আবারও অন্ধকার যুগ নেমে আসবে

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জুলাই ৩১, ২০১৪ ১২:৫২ অপরাহ্ণ

তালাত মাহমুদ

Talat mahmudগাজায় নিরীহ, নিরস্ত্র, বেসামরিক আবালবৃদ্ধবণিতার উপর ইজরাইল জুলাই’১৪ এর শেষ সপ্তাহ থেকে নির্বিচারে বোমা হামলা চালিয়ে নারী শিশু ও বৃদ্ধ সহ প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। ধ্বংস করেছে অসংখ্য বাড়িঘর, মসজিদ, জাতিসংঘ পরিচালিত শিশু আশ্রয় কেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিশ্ববাসী ইজরাইলের এই নৃসংশ হত্যাকান্ড ও ধ্বংশযজ্ঞের নির্মম দৃশ্য অবলোকন করলেও বিশ্ববিবেক এখনও তেতিয়ে না উঠায় এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও জাতিসংঘ ইজরাইলের বিরুদ্ধে কথা না বলায় বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ধিক্কার জানিয়ে আসছে।
১/১১’র ঘটনার সূত্র ধরে ইঙ্গ-মার্কিন চক্র চরম প্রতিশোধ নেওয়ার আক্রোশে মধ্যপ্রাচ্যে যে ধ্বংসযজ্ঞের খেলায় মেতেছে- তা বিশ্ব বিবেককে দারুণভাবে বিচলিত করেছে। যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী শক্তি বিমান হামলা চালিয়ে টুইন টাওয়ার ধ্বংস করে তিন সহস্রাধিক হতভাগ্য মানুষকে হত্যা করেছে সেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী শক্তির হদিস যুক্তরাষ্ট্রের সরকার আজও পায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন চালাবার অজুহাতে ওসামা বিন লাদেনকে দোষারোপ করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালায়। মুসলিম বিশ্ব হারায় সাদ্দাম হোসেন আর মোয়াম্মার গাদ্দাফীর মত লৌহ মানব।
‘আব্বু, আমাকে বিমান আর বন্দুক কিনে দাও। আমি বুশ আর বেয়ার (ব্লেয়ার) কে গুলি করে মেরে ফেলবো।’ মাত্র তিন বছরের শিশু তার বাবাকে এই কথাগুলো বলেছে। কথা বলার সময় তার অঙ্গভঙ্গি আর মেজাজ দেখে মনে হচ্ছিলো তখনি যেন সে বুশ আর ব্লেয়ারকে মেরে ফেলছে। এই বাংলাদেশী শিশুটি টেলিভিশনে দেখেছে ইরাকে কিভাবে বোমা ফাটানো হচ্ছে, ঘর বাড়ি ধ্বংস করা হচ্ছে আর মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। সে তার পরিবারের বড়দের মুখ থেকে শুনেছে, বুশ আর ব্লেয়ার অন্যায়ভাবে ইরাকে আগ্রাসন চালিয়েছে, নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে, মা ও শিশুদের হত্যা করেছে। শিশুটির নাম জিগ্যেস করা হলে সে বলে আমি বিমান বাহিনীর অফিসার।’
প্রিয় পাঠক, শিশুটি সম্পর্কে এখানে এতটুকু বাড়িয়ে লেখা হয়নি। ইঙ্গ-মাকিন হায়েনা চক্র ইরাকে বেআইনী ও মিথ্যা অজুহাতে যে আগ্রাসন আর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাতে হালাকু -চেঙ্গিস খাঁর ধ্বংস লীৃলাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়, স্পেনে মুসলিম সভ্যতা ধ্বংসের সেই বিভত্স করুণ শোকগাঁথা, ইহুদী-নাসারাদের বিশ্বাসঘাতকতা আর ঘৃণ্য মিথ্যাচার, ছলচাতুরিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। বাগদাদে যে লুটপাট হয়েছে, বিশেষ করে ইরাকের জাতীয় যাদুঘরে মানব ইতিহাস ও সভ্যতার হাজার হাজার বছরের মহামূল্যবান প্রাচীন নিদর্শনসমূহ লুন্ঠন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বৃটেন আর আমেরিকায়। জাতিসংঘকে তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দম্ভে মদমত্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জালিয়াত প্রেসিডেন্ট বুশ আর তার আজ্ঞাবহ বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার ইরাকে আগ্রাসন চালিয়ে প্রমাণ করেছে তারাই বিশ্বের মিথ্যাবাদী, ধুর্ত, শঠ এবং শয়তানের বংশধর।
বিশ্বের প্রায় সাত’শ কোটি মানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পদাঘাত করে একবিংশ শতাব্দীর এই দুই রক্তপিশাচ ইরাকে আগ্রাসন চালিয়ে তারা যে অপরাধ করেছে তার জন্য একদিন এই দুই হায়েনা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আসামীর কাঠগড়ায় উঠবেই। বিশ্বের একমাত্র শক্তিধর ইঙ্গ-মাকিন জোট সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিচেছ। এই সন্ত্রাসবাদই এদের ধংসের কারণ হবে। জুলুমবাজ-স্বৈরাচার আর লুটেরাদের পতন ঘটবেই। ইতিহাস তার প্রমাণ। বুশ আর ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে খোদ বৃটেন আর মার্কিন মুলুকেই আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছে। তাদের জনপ্রিয়তায় ধ্বস নেমেছে। কারণ, যে অজুহাতে ইরাকে আগ্রাসন চালানো হয়েছে, সাদ্দাম হোসেনের সেই পারমাণবিক অ¯ত্র এখন বুমেরাং এ পরিণত হয়েছে। ইরাকের তেল লুন্ঠন করাই যে বুশ-ব্লেয়ারের মুখ্য উদ্দেশ্য এতদিন বিশ্ববাসীর কাছে তা দিবালোকের মত সত্যে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান সাধারণ পরিষদে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন-বিশ্বে জঙ্গলের শাসন কায়েম হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরাকে তার আগাম সামরিক আক্রমণের তত্ব জাতিসংঘের অস্তিত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। আর এর ফলে, বিশ্বজুড়ে শুরু হবে এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। আনান বলেন, ইরাক পরিস্থিতি জাতিসংঘকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরিস্থিতিকে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের জন্মলগ্নের পূর্বাবস্থায় নিয়ে গেছে। জাতিসংঘ থেকে রয়টার্স পরিবেশিত সংবাদে আরও বলা হয়,নাম উল্লেখ না করে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তির উদ্দেশ্যে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করে কফি আনান বলেন, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া একতরফাভাবে সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বে আবার জঙ্গলের শাসন কায়েম করবে। তিনি বলেন, আমি এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে, এই তত্বের প্রয়োগের ফলে, যুক্তিগ্রাহ্য কোন কারণ ছাড়াই এক তরফাভাবে শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা ছাড়িয়ে পড়বে বিশ্বের সর্বত্র। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তুপের ওপর গড়ে ওঠা জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠালগ্নের অঙ্গীকার ছিল ‘কালেক্টিভ এ্যাকশন’ বা ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রম। সেই জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার পুরো কাঠামোকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করে তোলা হয়েছে। অপ্রচলিত অস্ত্র তৈরীর পর্যায়েও এর বিরুদ্ধে আগাম শক্তি প্রয়োগের অধিকার যে কোন দেশেরই রয়েছে, বুশের এই যুক্তিরও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বিশ্ব সংস্থার সমাজে আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই কেবল সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোন দেশ যদি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি সৃষ্ট হুমকির বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সে পদক্ষেপের বৈধতা পাওয়ার জন্য অবশ্যই জাতিসংঘের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। কেউ কেউ বলে যে, যে কোন সময় গণবিধ্বংসী অস্ত্রের আক্রমণ হতে পারে এমনকি পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের অনুমোদন নেওয়ার সময় কোথায়? এই যুক্তি জাতিসংঘের অস্তিত্বের প্রতিই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। যার ওপর বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করে আসছে গত ৫৮ বছর ধরে।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনন আরও বলেন- ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের উচিত, শক্তি প্রয়োগের বিধিবিধানগুলো পরিবর্তন করে যুগোপযোগী করে তোলা। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি চ্যালেঞ্জগুলো পরীক্ষা করে একটি সুপারিশ পেশ কারার জন্য প্রখ্যাত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে তিনি একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন। এই রিপোর্টের আলোকেই জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের চলার পথ এখন খুবই বন্ধুর। কিন্তু ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে এর প্রয়োজনীয়তা যতটুকু ছিল এখনও তাই রয়েছে।
প্রিয় পাঠক, তিন বছরের শিশুটির তার বাবার কাছে বিমান ও বন্ধুক কিনে দেয়ার কথার সাথে কফি আনানের একটি ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে হুবহু মিল রয়েছে। কফি আনান বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তির উদ্দেশ্যে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন-‘জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া একতরফাভাবে সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বে আবার জঙ্গলের শাসন কায়েম করবে।’ শিশুটির নাম জিজ্ঞেস করলে সে বলে, আমি বিমান বাহিনীর অফিসার। কখনও বলে, সে ভারতীয় টিভির সিরিজ নাটকের ‘শক্তিমান’। কখনও বলে ‘স্পাইডারম্যান’। শিশুটির বক্তব্য হল- সে সব খারাপ মানুষ মেরে ফেলবে। বনের বাঘ-সিংহসহ সব হিংস্র জানোয়ার মেরে ফেলবে। তবে যাদের বাচ্চা আছে তাদেরকে সে মারবে না। তা হলে তো বাচ্চাগুলো ওদের মায়ের জন্য কেঁদে কেঁদে মরে যাবে। এই শিশুটি বুশ-ব্লেয়ারকে সহ্য করতে পারেনা। নাম শুনলেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মেরে ফেলতে চায়। শিশুটির অভিব্যক্তির মাঝে মনস্তত্ত্ব আছে, দর্শন আছে-আছে ভবিষ্যতের ইংগিত। বিষয়টি আমাকে দারুণ ভাবায়। আমি জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে শিশুটির অভিব্যক্তির মিল খুঁজে পাই। বিশ্বে আবার জঙ্গলের শাসন কায়েম হবে। দেশে দেশে স্বঘোষিত জান্তার আবির্ভাব ঘটবে। চলবে হানাহানি রক্তপাত। জোর যার মুল্লুক তার। ন্যায়-অন্যায়ের কোন বাছ-বিচার থাকবে না। তাহলে কি আমরা আবার অন্ধকার যুগে ফিরে যাব? সারাবিশ্বে ৬৩টি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে। এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অধিকাংশ সংগঠক সিআইএ এর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। যুক্তরাষ্ট্র কখনও মনে করেনি এসব প্রশিক্ষণপাপ্ত কমান্ডোরা একদিন তাদের দিকেই ঘুরে দাঁড়াবে। তাই ওসামা বিন লাদেনরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়ায়। আতংকিত বুশ-ব্লেয়াররা তাই যে সব দেশ তাদের বিরুদ্ধে সেসব দেশকে সস্ত্রাসীদের আশ্রয়দানকারী দেশ বলে আখ্যায়িত করছে। মিথ্যা অজুহাতে আগ্রাসন চালিয়েছে-হুমকী দিচ্ছে। ইরাক, আফগানিস্তান আর লিবিয়ার পরে তাদের টার্গেট এখন উত্তর কোরিয়া, ইরান, সিরিয়াসহ আরও অনেক দেশ। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আক্রমণ করলে চীন ও রাশিয়া সিরিয়ার পক্ষাবলম্বন করবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া আক্রমণ করার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইরানের উপর আগ্রাসন চালানো। আর এই আগ্রাসন চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে। এমনকি ইসরাইলের মতো জারজ রাষ্ট্রটিরও পতন ঘটতে পারে।
বিশ্বব্যাপী মার্কিন স্বার্থে সন্ত্রাসী হামলা চলছে। মার্কিন মিত্ররাও যেন টার্গেট। তাই গুলি ফুটছে বোমা ফাটছে। ধ্বংসের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ মারা -যাচ্ছে। আফগানিস্থান আর ইরাকে তো মিত্রসহ প্রতিদিনই মার্কিন সৈন্য মারা যাচ্ছে। জনশ্র“তি রয়েছে-ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনীর হামলা চলাকালে ভূল সংকেতের কারণে কুয়েত মার্কিন ঘাটিতে দুই দিনে ব্যাপক বোমা হামলায় ৬০ হাজার মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে। এ সব লাশ কুয়েত, জার্মানি ও সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশের হিমাগারে তখন গোপনে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। তখন মার্কিন কর্তৃপক্ষ এটাকে ফ্রেন্ডলি ফায়ার বলে প্রচার করেছে। জাতিসংঘের জারজ রাষ্ট্র বলে কথিত ইসরাইল বিশ্বশান্তির জন্য আজ মারাত্মক হুমকি। যুক্তরাষ্টের মদদপুষ্ট এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্রটি নির্বিচারে ফিলিস্তিনীদের হত্যা করে আসছে। পাশাপাশি ভোগ বিলাসিতায় মেতে থাকা মধ্যেপ্রাচ্যের আমির ওমরাহরা মুসলিম বিশ্বকে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে পশ্চাত্পদ করে রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ লুটে নিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা দস্যুরা। ভারত-পাকিস্তান চির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী দেশ দুটিও পারমাণবিক শক্তিতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। ২০০৩ সালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী শ্যারন ভারত সফরে গিয়ে কোন বীজ বপন করে গেছেন কে জানে। ঘুরে ফিরে আইনস্টাইনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী লিখে যাই-তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিভাবে সংঘটিত হবে জানিনা, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ যে লাঠিসোটা দিয়ে সংঘটিত হবে- সে কথা বেশ জোর দিয়েই বলতে পারি।’ কাজেই বিশ্বে আবার অন্ধকার যুগ নেমে আসতে পারে। মানুষের নীতি-নৈতিকতাহীনতাও তাই প্রমাণ করে।
আমি এখানে এক দশক আগের ঘটনা তুলে আনলাম এই জন্য যে, সবসময়ই এর আপেক্ষিক গুরুত্ব রয়েছে। দিন যতই গড়াচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি ততই রূপ পাল্টাচ্ছে। ইঙ্গ-মার্কিন চক্র পৃথিবীর বহু জাতি ও গোষ্ঠীর নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে সেসব জাতি ও গোষ্ঠীকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের মত একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে এই ইহুদী-নাসারা চক্রটি ১৯৫৭ সালে আদিগোষ্ঠী যাযাবর ইহুদীদের জন্য ইসরায়েল নামের একটি জারজ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। আর ফিলিস্তিনীদের করেছে নিজ দেশে পরবাসী। আজও তারা মাতৃভূমিহারা। অথচ জাতিসংঘ বরাবরই নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে। যে কারণে বার বার ইসলামী জাতিসংঘ গঠনের দাবী উঠেছে। আমরা আর পিছনে ফিরে যেতে চাইনা। জঙ্গলের শাসনও চাইনা। গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। যুদ্ধবাজ ইজরাইল ও তার দোসর এবং ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশে দেশে এদের স্বার্থে আঘাত হানতে হবে। নইলে বিশ্বে ‘শান্তি’ নামক স্বপ্নটি কোনদিনই বাস্তবায়ন হবে না। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক, ইজরাইল ধ্বংস হোক।

Shamol Bangla Ads

লেখক : কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!