ads

রবিবার , ২০ জুলাই ২০১৪ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

পেকুয়ায় প্রাচীন মসজিদের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জুলাই ২০, ২০১৪ ২:৪০ অপরাহ্ণ

Pekua Pic Mosq- 19-07-2014এম.আবদুল্লাহ আনসারী, পেকুয়া (কক্সবাজার) : এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দাপট খাটিয়ে পেকুয়ার সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ ‘সাবেকগুলদী জামে মসজিদের’ ভিটা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মসজিদের শতশত মুসল্লি ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। সরেজমিনে পরিদর্শন ও এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানাযায়, পেকুয়ার আদি নিবাস ‘সাবেকগুলদী’ এলাকার ‘সাবেকগুলদী জামে মসজিদ’টি প্রতিষ্ঠিত হয় পেকুয়ার জন্মলগ্ন থেকেই। ঐতিহ্যবাহী ‘গোল দীঘি’ থেকে এলাকার নাম করণ ‘সাবেক গুলদী’। আর ঐতিহাসিক এই দীঘির পশ্চীম পাড়েই পেকুয়ার সবেচেয়ে প্রাচীন মসজিদ ও কবরস্থানটি অবস্থিত। বর্তমানে স্থানীয় কতিপয় বিতর্কিত প্রভাবশালী ব্যক্তি মসজিদের মূল ভিটায় নিজস্ব স্থাপনা তৈরী করে দখল করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দিয়েছে মসজিদ পরিচালনা কমিটি। কিন্তু কোন অভিযোগেরই কোন তোয়াক্কা করছেনা স্থানীয় প্রভাবশালী বদরুদ্দোজা বাদশা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আর .এস ও বি.এস সিটে কবরস্থানের নামে ১৬ শতক ও মসজিদের নামে ১৩ শতক জমি শুধুমাত্র মুসলমানদের ব্যবহারের জন্য মসজিদ ও কবরস্থানের নামে ষ্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ আছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী বদরুদ্দোজা বাদশা মসজিদ পরিচালনার কেউ না হয়েও মসজিদ পরিচালনা কমিটির নাম দিয়ে একটি ভূঁয়া ওয়াকফনামা সৃজন করে ওই মসজিদের জমি দখল করে নেয়ার চেষ্ঠা করছে। এছাড়াও মসজিদ ভিটার সাথে লাগোয়া ৯ শতক জমিতে একটি ফোরকানিয়া ও ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। স্থানীয় মুসল্লীরা অভিযোগ করেন প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি জমিটির ৬০ জন ওয়ারিশের মধ্যে মাত্র ২ জন ওয়ারিশের কাছ থেকে নিজ নামে রেজিষ্ট্রি নিয়ে তাও দখলের চেষ্ঠা চালাচ্ছে। অথচ আর.এস ৭৭৮ নং খতিয়ানের ২০ নং দাগে ওই ৯শতক জমি একটি স্কুলের নামে রেকর্ড় আছে। তৎমূলে রেকর্ড়ীয় বি.এস ১০২০ নং খতিয়ানের ২২২ নং দাগের ওই ৯ শতক জমি ভিটা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যুগ যুগম্পরায় ওই জায়গাটি ফোরকানিয়া ও ঈদগাহ মাঠ হিসেবে এলাকার জনগণ ব্যবহার করে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা। কিন্তু সম্প্রতি মসজিদ কতৃপক্ষ ওই জমিটি মসজিদ ও ফোরকানিয়ার নামে দলিল সৃজন করতে চাইলে এ সুযোগে কুচক্রী বাদশা গোপনে নিজ নামে তা ৬০ জনেরও বেশী ওয়ারিশের মধ্যে মাত্র ২ জন ওয়ারিশের কাছ থেকে রেজিষ্ট্রি নিয়ে নেয়। এতে এলাকাবাসির মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

Shamol Bangla Ads

প্রাচীন সাবেকগুলদী জামে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী ৮০ বছরের বৃদ্ধ সৈয়দ আহমদ, ৭০ বছর বয়স্ক আনোয়ার হোসেন জানান, ‘আমাদের জন্মের পর থেকে মসজিদ, কবরস্থান ও ফোরকানিয়া গুলো দেখে আসছি এবং খালী জায়গায় এলাকার মানুষের জানাজা, ঈদের নামাজ, ও ওয়াজ মাহফিল সহ যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পরিচালিত হয়। কিন্তু বর্তমানে ওই জমি স্থানীয় বদরুদ্দোজা বাদশা দখল করে নেয়ার চেষ্ঠা চালাচ্ছে। এব্যাপারে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মসজিদের ইমাম মওলানা হাফেজ লোকমান হাকিম জানান, এলাকার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে প্রভাবশালীরা দীর্ঘ ২০০ বছরের পুরুনো মসজিদের মূল ভিটে দখল করে স্থাপনা তৈরী করছে। এতে এলাকায় একটি বিশৃংখলা তৈরী হয়েছে। যেকোন মূহুর্তে একটি অঘটনও ঘটতে পারে। এলাকার সর্দার আবদুস সমদ ও মাষ্টার আলমগীর জানান, স্থানীয় বিতর্কিত ব্যক্তি প্রতারক বদরুদ্দোজা বাদশা নিজের স্বার্থের জন্য আল্লাহর ঘরের ভিটে দখল করে স্থাপনা তৈরী করতে চাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয় সিরাত মাহফিল কমিটির সভাপতি আমির আবদুল্লাহ জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে যে মাঠে এলাকার সমস্থ ধর্মীয় কার্য্যক্রম চলে আসছে সেই ঈদগাহ মাঠটিও প্রভাবশালীরা দখলের পায়তারা করছে। এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রক্ষবিন্দু থাকতে এলাকার ঈদগাহ মাঠটি আমরা দখল হতে দেবনা।
এব্যাপারে অভিযুক্ত বদরুদ্দোজা বাদশার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ওই জমিটি দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে মসজিদের জমি বলে স্বীকার করে বলেন, আমি মসজিদ ভিটায় নিজ উদ্দ্যোগে পিতা-মাতার ইছালে ছাওয়াবের জন্য একটি ফোরকানিয়া করার উদ্দ্যোগ নিয়েছি। পাশে আরেকটি ফোরকানিয়া থাকতে মসজিদ ভিটায় পরিচালনা কমিটির অনুমুতি ব্যতিরেকে নতুন করে ফোরকানিয়া করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
এব্যাপারে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরিষদে মসজিদ কতৃপক্ষ এ সংক্রান্ত একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। এ বিষয়ে এলাকার লোকজন ও মুসল্লীদের সাথে বসে একটি সঠিক সুরাহা করতে পারব বলে আশা করছি।

error: কপি হবে না!