ads

শনিবার , ১৯ জুলাই ২০১৪ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ঈদ মানে দীর্ঘশ্বাস : অসহায় চর এলাকাবাসি

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জুলাই ১৯, ২০১৪ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

f3d10a0545_zওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : প্রতিবছর পদ্মা নদীর ভাঙ্গনসহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ সঙ্কট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিনিয়ত বাঁচার সংগ্রামে তারা এতোটাই অসহায় যে কোন খুশিই ওদের শিহরিত করতে পারে না। তাই চরবাসির দীর্ঘশ্বাসঈদ আসে না পদ্মার চরে। গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়া ও চর আলাতুলির হাজারো মানুষের জীবন চলে জোড়াতালি দিয়ে। ঘরে ঘরে অভাব। দারিদ্র্যের সাথে নিত্য সংগ্রাম করেই ওদের বেঁচে থাকতে হয়।বন্যা আর নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে প্রতিবছর নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে পদ্মাচরের মানুষ। গৃহস্থের ক্ষেত নেই, শিল্প-কারখানা নেই নেই কোন জীবীকার উস। অভাবে রোগে শোকে ওদের শরীরের সচল শক্তিশালী হাত দুটিও ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। 

Shamol Bangla Ads

ভিজিএফ, ভিজিডি অথবা বয়স্ক ভাতার সরকারি অনুদান ছাড়া ওদের বেঁচে থাকার কোনই অবলম্বন নেই। তাও টাউট বাটপাড় লোকদের কারণে কখনো তা ভাগ্যে জোট, আবার কখনো জোটেও না। বলতে গেলে সব দিনই তাদের একরকম; অভাবের দিন, দুঃখের দিন। তাই তাদের মনে নেই কোন ঈদ-পার্বনের আনন্দ। আছে শুধু দুঃখ বেদনা বঞ্চনা আর নিত্য অভাব; বেঁচে থাকার সংগ্রামশীলতা। গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের নির্মল চর পদ্মা পাড়ের মানুষের সঙ্গে আলাপকালে বের হয়ে আসে তাদের জীবনযুদ্ধের এসব করুণ কাহিনী। বর্ষায় পানি বাড়ার সাথে পদ্মা নদী তার আগ্রাসী রূপ ধারণ করে। নদীর এ আগ্রাসী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভিটে মাটি হারিয়ে চরের হাজারো মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করেন। ওই ইউনিয়নের চর বয়ারমারী, চর নওশেরা ডাকরিপাড়া, আমতলা খাসমহল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কোদালকাটি, আলাতুলী, বগচর, রানীনগর, বালিগ্রাম, ছয়রশিয়া, রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের চর খানপুর ও চর খিদিরপুর এবং চারঘাট উপজেলার রাওথাসহ পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবনের গল্প যেন ওই কলমেই লেখা। পদ্মা পাড়ের মানুষের সঙ্গে আলাপকালে বের হয়ে আসে তাদের জীবনযুদ্ধের এসব করুণ কাহিনী। বর্ষায় পানি বাড়ার সাথে পদ্মা নদী তার আগ্রাসী রূপ ধারণ করে। নদীর এ আগ্রাসী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভিটে মাটি হারিয়ে চরের হাজারো মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করে।
পুষ্টিহীণতায় রোগে শোকে ভুগে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে পড়ে ওরা। চোখের সামনে সর্বস্ব হারিয়ে কেঁদে কেঁদে ফেরে পদ্মা পাড়ের মানুষ। সরকার আসে সরকার যায়। কিন্তু অভাবী এসব মানুষের কান্না কান পেতে কখনো কেউ শুনেন নি এমন আক্ষেপ এসব চরের বাসিন্দাদের। কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা করা হয় না চরবাসি এসব অসহায় মানুষদের জন্য। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা যেভাবে পারছে তাই করে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করছেন। কথাগুলো গভীর দুঃখ নিয়ে বললেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের চর আলাতুলী ইউনিয়নের কোদালকাটি গ্রামের প্রতিবন্ধী দুই বোন বেনু এবং রেনু। তারা দু’জনেই পঙ্গু, চলাচল করে লাঠির উপর ভর করে। ওরা বললেন, প্রতিবছর ঘর বাড়ি যাচ্ছে নদী গর্ভে; তার বৃদ্ধ মা রোগে-শোকে শয্যাশায়ী। পরিবারে উপার্জন করার মত কেউ নেই। দু’বেলা-দু’মুঠো খাবার জুটছেনা তাদের, ওষুধ তো পরের কথা। ওই ইউনিয়নের রানীনগর গ্রামের আম্বিয়া বেগম বলেন, নদী ভাঙ্গনে গৃহ হারা স্বামী পরিত্যাক্তা তিনি। অনেক দিন হলো স্বামী খোঁজ খবর রাখে না। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে বেঁচে আছি। আর কোন রকম বেঁচে থাকা মানেই আমাদের ভাল থাকা। আমাদের পরনে কাপড়-চোপড় ও দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোটে না। তাই আমাদের ঈদে নতুন কাপড়, সেমাই, পোলাও ভাগ্যে জুটবে কি করে ? বললেনÑ ‘ঈদ আসে না আমাদের ঘরে’। ভাঙন কবলিত চর খিদিরপুরের বৃদ্ধ তাফাজ উদ্দিন, পাশ্ববর্তী তারানগর গ্রামের হাসেন আলী, রাওথা এলাকার আমজাদ হোসেনদেরও কন্ঠে বাজছে একই বেদনার সুর।

error: কপি হবে না!