ads

মঙ্গলবার , ১৫ জুলাই ২০১৪ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

তালায় মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ পুলিশ, চলছে অর্থবাণিজ্য

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জুলাই ১৫, ২০১৪ ৩:৩০ অপরাহ্ণ

Satkhira-map2নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার তালায় হরতালের নামে নাশকতা ও সরকারি সড়কের গাছ কাটাসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় মামলা হলেও আটক নেই। জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় ১২টি মামলায় প্রায় দুই হাজার ৭০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও আট মাসে আটক করা হয়েছে মাত্র ৫০ জনকে। এসব মামলার আসামিরা থানাসহ প্রশাসনের সামনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। পুলিশ মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অভিযানের নামে পুলিশ অর্থ বাণিজ্য করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় মামলা হওয়ার পর আসামি ধরার নামে পুলিশ বাণিজ্য করছে। থানা থেকে পুলিশ বের হওয়ার আগেই সংবাদ চলে যাচ্ছে আসামিদের কাছে। এজন্য পুলিশ আসামী গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হচ্ছে। এসব ঘটনার সাথে থানা পুলিশের একজন এএসআই ও একজন এসআই জড়িত। এবং এএসআই-এর স্ত্রী একজন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, হরতালে নাশকতা, সরকারি সড়কের গাছ কাটা, ঘর-বাড়ি ভাংচুর ও ভোট কেন্দ্রে হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে তালা থানায় ১২টি মামলা হয়। এসব মামলায় প্রায় ৩৫০ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত প্রায় দুই হাজার ৪০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলা গুলোর মধ্যে রয়েছে, পাইকগাছা-খুলনা সড়কের ভায়ড়া এলাকায় গাড়ি ভংচুর, ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পুলিশের সাথে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, তালা সরকারি কলেজে হামলা ও ভাংচুর, সুজনশাহা গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী কোমর উদ্দীনের বাড়ি হামলা ও ভাংচুর, রহিমাবাদ এলাকায় নির্বাচনী মাইক ভাংচুর, বারুহাটি তিন রাস্তা মোড়ে ভাংচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, নাংলা ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ, ভায়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা, নাংলা ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ কেন্দ্রে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ, বালিয়া কেএমএসসি বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা ও বলরাম কেন্দ্রে হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি খলিলনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আকবর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ জানুয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে তিন মাসের স্বশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে গ্রেপ্তারকৃত আকবর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলো। তার কাছে থেকে তালা থানার একজন উপ-পরিদর্শক গ্রেপ্তার এড়াতে নিয়োমিত মাসোয়ারা নিতেন। গ্রেপ্তারের আগের দিন খলিলনগর ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রামের বাড়ি থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আসেন (মাসের টাকা) ওই উপ-পরিদর্শক। গ্রেপ্তারের পর থানায় সাবেক ওসি’র সাথে আকবর এসব তথ্য দেন।
সমপ্রতি থানার সামনে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেছে খলিলনগর গ্রামের মাজেদ মোড়ল, নলতা গ্রামের বাহারুল গাজী ও একই গ্রামের আতিয়ার শেখ। এদের বিরুদ্ধে সরকারি সড়কের গাছ কাটা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে। এরা থানার সামনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব আসামিরা থানার সাথে চুক্তি করে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
এছাড়া মাগুরা ইউনিয়নের জামায়াতের আমীর মুক্তি কবিরুল ইসলাম, চাঁদকাটি গ্রামের মিজানুর মোড়ল, মাগুরাডাঙ্গা গ্রামের সাইফুল ইসলাম, বলরামপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম, আরিফুল ইসলামসহ জামায়াতের অধিকাংশ নেতারাই এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে তালা, পাটকেলঘাটা ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব আসামিদের কাছে থেকে পুলিশ সুবিধা নেয় বলেও এলাকায় প্রচার রয়েছে।
ইসলামকাটি এলাকার কয়েকজন বিএনপি-জামায়াতের কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে প্রতিনিয়ত তাদের থানায় টাকা দিতে হয়। যে কারণে পুলিশ তাদের সহযোগিতা করেন। তারা বলেন,‘পুলিশ থানা থেকে বের হওয়ার আগেই আমরা সংবাদ পায়।’
তালা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ডাক্তার মাহামুদুল হক জানান, নেতা-কর্মীদের নামে মামলা হলেও পুলিশ কাউকে কোন সমস্যা করছেনা। দলের নেতা-কর্মীরা সবাই ভাল ভাবে আছে।
তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের ইন্ধনে নাশকতাকারীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরা-ফেরা করছে। তারা আমাদের নেতাদের ছত্র-ছায়ায় আছে। পুলিশ এ সুযোগ নিয়ে বাণিজ্যে করছে।
তালা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মীর জাকির হোসেন জানান, নাশকতাকারীরা সোচ্চার হওয়ার চেষ্টা করছে। সুযোগ পেলেই তারা গর্জে উঠবে।
তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার আসামি ধরা না ধরা তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপার। আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াত-বিএনপির কোন সাখ্যতা নেই। পুলিশের গাফিলতির কারণে নাশকতাকারীরা কেউ গ্রেপ্তার হচ্ছে না।’
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘সম্প্রতি আমি যোগদান করেছি। টাকা নেয়া বা জামায়াত-বিএনপির সাথে আতাত করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। আমার কাছে কোন দলমত নেই। অপরাধী যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

error: কপি হবে না!