ads

সোমবার , ১৪ জুলাই ২০১৪ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বিশ্বকাপ শিরোপা জার্মানির

ইফতেখার হোসেন পাপ্পু
জুলাই ১৪, ২০১৪ ৪:২৯ অপরাহ্ণ

Germany+players+celebrate+with+their+trophy+after+winning+the+2014+World+Cup+finalশ্যামলবাংলা স্পোর্টস : সূর্য ডুবে যাওয়ার পর ফ্লাডলাইটে আলোকিত মারাকানায় ফিরল রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামের সেই রাত। ২৪ বছর পর ২০১৪ সালে আবার সেই আর্জেন্টিনাকেই হারিয়ে ইতিহাস গড়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো জার্মানি। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে প্রথমবারের মতো ট্রফি গেল ইউরোপে।
মারাকানার ফাইনালে ৯০ মিনিটে গোল পায়নি আর্জেন্টিনা বা জার্মানির কেউই। খেলা তাই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানিকে জয়সূচক গোলটি এনে দেন বদলি হিসেবে নামা মারিও গোটসে। শেষ বাঁশি বাজার আগে ফ্রি-কিক থেকে সমতা ফেরানোর একটা সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু শটটি মারলেন অনেক উপর দিয়ে, সেইসাথে চোখেমুখে ফুটে উঠলো একরাশ হতাশা। ২৪ বছর আগে এই জার্মানির কাছেই হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভেঙেছিল দিয়েগো মেরাডোনার আর্জেন্টিনার। এবার তাদের কাছেই হেরে স্বপ্ন ভাঙল লিওনেল মেসিদের। গত দুই বিশ্বকাপে এই জার্মানির কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলছিল ইওয়াখিম লুভের জার্মানি। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণসীমায় গিয়ে সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। গোলে নেয়া দুর্বল শটগুলো ফেরাতে কোনো সমস্যা হচ্ছিল না সের্হিও রোমেরোর। কিন্তু গোটসেকে ফেরাতে পারেননি তিনি। আর্জেন্টিনাও সুযোগ কম পায়নি। কিন্তু মেসি, গনসালো হিগুয়াইন আর রদ্রিগো পালাসিওরা প্রায় সব শটই গোলপোষ্টের বাইরে মেরে নষ্ট করেন। প্রথমার্ধে দু’দলই একটি করে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। ম্যাচের ৯ মিনিটের সময় প্রথমবারের মতো ঝলক দেখান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ডান দিক থেকে বল পান তিনি। সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে গতিতে পরাস্ত করে ডি বক্সে ঢুকে গোললাইন থেকে ক্রস করেন কিন্তু তা ফিরিয়ে দেন বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগার। পরের মিনিটে আবার আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। এবার পাবলো সাবলেতার সেই ক্রস বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছলেও বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি এনসো পেরেস ও গনসালো হিগুয়াইন। এর একটু পর প্রতি আক্রমণে ফিলিপ লামের ক্রসে মাথা লাগাতে পারেনি মিরোস্লাভ ক্লোসা। ২১ মিনিটের সময় জার্মানির টনি ক্রুস দারুণ একটি ‘উপহার’ দেন হিগুয়াইনকে। হেড করে সতীর্থকে দিতে গিয়ে হিগুয়াইনকে বল তুলে দেন তিনি। নাপোলি স্ট্রাইকারের কাছাকাছি জার্মানির কোন খেলোয়াড় ছিলেন না। মানুয়েল নয়ারকে একা পেয়েও বাইরে মেরে দলকে এগিয়ে নেয়ার সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করেন তিনি।
(L-R)+Germany's+Lukas+Podolski,+Philipp+Lahm,+Thomas+Mueller+and+coach+Joachim+Loew৩০তম মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে ভালো একটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। মেসি ডান দিকে বল বাড়ান এসেকিয়েল লাভিস্সিকে। তার ক্রস থেকে নয়ারকে পরাস্ত করে জালে জড়ান হিগুয়াইন। কিন্তু সহকারী রেফারি উঁচিয়ে রেখেছিলেন অফসাইডের পতাকা। এর ১০ মিনিট পর মেসি ডান দিক থেকে ঢুকে পড়েন। কিন্তু জেরোম বোয়াটেংকে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। ৪৩তম মিনিটে মাসচেরানোর ভুল পাস থেকে ভালো একটা সুযোগ পান ক্রুস। তবে তার শট ফেরাতে কোনো সমস্যা হয়নি সের্হিও রোমেরোর। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে প্রায় এগিয়েই যাচ্ছিল জার্মানি। ক্রুসের কর্নার থেকে বেনেডিক্ট হুভেডেসের হেড ফেরানোর কোন সুযোগই ছিল না রোমেরোর। দুর্ভাগ্য ৩ বারের চ্যাম্পিয়নদের; বল বারে লেগে ফিরে আসে। কাছেই টমাস মুলার ছিলেন, কিন্তু তিনি হয়ে যান অফসাইড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দারুণ একটি সুযোগ পান মেসি। ডি বক্স থেকে তার শট ফেরানোর কোনো সুযোগ ছিল না নয়ারের। কিন্তু অল্পের জন্য লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ৪ বারের বর্ষসেরা ফুটবলার। ৭১তম মিনিটে একটি সুযোগ নষ্ট করেন শুরলে। ডি বক্সে সুবিধাজনক জায়গায় পেয়েও বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি তিনি।
৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এ নিয়ে টানা ৩ টি ফাইনাল অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই আর্জেন্টিনার ত্রাতা রোমেরো। বাম দিক থেকে ডি বক্সে বল পাওয়া শুরলের হাফভলি ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৬ মিনিট পর সুযোগ আসে রদ্রিগো পালাসিওর সামনে। মার্কোস রোহোর ক্রস ডি বক্সে বুক দিয়ে নামিয়ে এগিয়ে আসা নয়ারের মাথার ওপর দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। অল্পের জন্য বল বাইরে চলে যায়। ১১৩তম মিনিটে গোটসের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। বাঁদিক দিয়ে আন্দ্রে শুরলের ক্রস বুক দিয়ে নামিয়ে বল মাটিতে পড়ার আগেই বাঁ পায়ের অসাধারণ এক শটে বলকে জালে জড়ান বায়ার্ন মিউনিখ তারকা। বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো বদলি খেলোয়াড়ের এটাই প্রথম গোল। গোলের উৎসও ছিলেন আরেক জন বদলি খেলোয়াড় শুরলে। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরানো দারুণ চাপ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু জার্মানির জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। যোগ করা সময়ে একটি ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
খেলা শেষের বাঁশি বাজার পর উল্লাসে মাঠে নেমে আসেন জার্মানির খেলোয়াড়রা। কিছুক্ষণ পর তাদের সঙ্গে যোগ দেন স্বজনরাও। আর প্রাণপণ চেষ্টা করলেও হার এড়াতে না পারায় ম্যাচ শেষে অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি হাভিয়ের মাসচেরানো, মার্কোস রোহোরা। কাঁদেননি মেসি, কিন্তু পুরোটা সময় ভীষণ বিমর্ষ ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জেতা বার্সেলোনার এই মহাতারকা।
আর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় শিরোপা জিতল ইউরোপের কোন দল। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ইতালির পাশে বসলো জার্মানি। ইউরোপের এই দুটি দলেরই শিরোপা ৪ টি করে। সর্বোচ্চ ৫ টি শিরোপা নিয়ে সবার ওপরে রয়েছে ব্রাজিল।

error: কপি হবে না!