ads

বৃহস্পতিবার , ১০ জুলাই ২০১৪ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নগরীতে অটোবাইক ও রিকশার আধিপত্য : যানজটে নাকাল কুমিল্লা নগরবাসী

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জুলাই ১০, ২০১৪ ৪:৫২ অপরাহ্ণ

Janjot pic-1তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : কুমিল্লা মহানগরী এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। কোন ধরনের নিয়মনীতি অনুসরণ না করে নগরীতে ইচ্ছেমত অনুমোদনবিহীন রিকশা, অটোরিকশা (ইজিবাইক), ইঞ্জিনচালিত রিকশা দেদারছে চলাচল করছে। এদের বেশীর ভাগই নেই বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অর্থোরেটি (বিআরটিএ) কিংবা সিটি কর্পোরেশনের বৈধ কাগজপত্র। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই যানজট থাকায় নগরবাসীর চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নগরীর সবগুলো প্রধান সড়কেই দিনভর দীর্ঘ যানজট গেলে থাকে। একেক সড়কের যানজটের কারণ একেক রকম। তবে সবচেয়ে বড় কারণ হল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইঞ্জিল চালিত রিকশা। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে ও অলিগলিতেও চলে এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইক। এসব যানবাহন চলাচলে ট্রাফিক আইন মানার কোন তোয়াক্কা করে না। এসব যানবাহন গুলো নগরীর অলি-গলিতে অবাধে চলাচল করছে। যত্রতত্র অবস্থান, সড়কে কে আগে যাবে তার মহড়া এসব কারণে সব সময়ই দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে এবং আর অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকের কারণে প্রতিনিয়ত অসংখ্য যাত্রী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরশন (কুমিক) এর লাইন্সেস পরিদর্শক কাজী আতিকুর রহমান জানান- সিটি কর্পোরেশন ব্যাটারিচালিক ও ইঞ্জিন চালিত যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা নাই। সেহেতু এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সিটি কর্পোরেশনের নেই। অথচ এসব যানবাহন গুলো সিটি কর্পোশনের রাস্তা ও লাইট ব্যবহার করে সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতি করে চলাচল করছে। তাছাড়া পরিবহন সমূহ যেহেতু অনুমোদনহীন সেহেতু তাদের কোন প্রকার ট্যাক্স বা রাজস্ব আদায় করতে হয় না। এতে করে সরকার রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব যানবাহন বন্ধের ক্ষমতা রয়েছে বিআরটিএ বা প্রশাসনের। এ কর্মকর্তা এসব লাইসেন্সবিহীন যানবাহন গুলো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলাচল বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন- সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এসব যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
কুমিল্লার ট্র্যাফিক পুলিশের পরিদর্শক আহমেদ নূর জানান- নগরীতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজারের অধিক অটোরিকশা (ইজিবাইক) ও ইঞ্জিন চালিত রিকশা রয়েছে। যার সবগুলোই অনুমোদনহীন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান- কুমিল্লা মহানগরীতে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার লাইসেন্সধারী রিকশা চলাচলের অনুমতি থাকলেও লাইসেন্স বিহীন রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইঞ্জিন চালিত রিকশা চলে প্রায় ২০ হাজারের মতো। এ সড়কের ধারণক্ষমতার বাইর অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, ট্রাফিক আইনের কোন বালাই নেই, ভাংগাচুড়া রাস্তা এবং এদের নিয়ন্ত্রণের কোন কর্তৃপক্ষ আছে বলে বাস্তবে দেখা যায় না। সিটি কর্পোরেশন এ সব লাইসেন্সবিহীন রিকশা ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এই সমস্যা দিন দিন প্রকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ২০১২ সনের ১৭ জুন কুমিল্লা জেলা আইন শৃংঙ্খলা কমিটি’র সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৬ জুলাই থেকে কুমিল্লা মহানগরীতে অটোরিকশা (ইজিবাইক) চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তা মানছে না কেউ।
এদিকে, কুমিল্লার ব্যস্ততম সড়ক শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড হতে সুগন্ধা, জনতাসহ অন্যান্য লোকাল বাসগুলো স্ট্যান্ড হতে নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে রাস্তার দক্ষিণ পার্শ্বে পুলিশ বক্সের সামনে দীর্ঘ সময় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এ ধরনের যানজটের সবচেয়ে বড় কারণ হল লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইঞ্জিল চালিত রিকশা। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের তেমন ভূমিকা আছে বলে মনে হয়না। অসাধু কতেক ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ সদস্যরা সামান্য অর্থের বিনিময়ে এসব লাইসেন্সবিহীন রিকশা ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। ফলে সেখানে দিনভর দীর্ঘ যানজট গেলে থাকে।
নগরীর কালিয়াজুরী এলাকার অটোরিকশা চালক বাবুল মিয়া জানান- প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন ৮শ’ থেকে ১হাজার টাকা রোজগার করলেও অটোরিকশা’র মালিকদেরকে প্রতিদিন সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ টাকা ভাড়া দিয়ে রোজগারের বাকী টাকা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করছি। তিনি বলেন, অধিকাংশ অটোবাইক চালকই শিক্ষিত এবং বেকার যুবক। ওই সব বেকার যুবকরা সরকারি কিংবা বে-সরকারী কিংবা আধা-সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী না পেয়ে বিকল্প চাকুরী হিসেবে অটোরিকশা চালাচ্ছেন। নগরীতে অটোরিকশা (ইজিবাইক) বন্ধ করে দিলে হাজার হাজার যুবক বেকার হয়ে যাবে।
অটোরিকশা যাত্রী সুমন দাস ও প্রদীপ দাস বলেন- কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন/ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অর্থোরেটি যদি সীমিত সংখ্যক এসব যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র (লাইসেন্স) প্রদান করে ভাড়া নির্ধারন করে দেন তাহলে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাগব হবে এবং লাইসেন্সবিহীন রিকশা, অটোরিকশা (অটোবাইক) কিংবা ইঞ্জিনচালিত রিকশা গুলো বন্ধ করে দিলে নগরীতে যানজট মুক্ত করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন- নগরী’র প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে বিকল্প যানবাহন হিসেবে টাউন সার্ভিস চালু করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ যানজট রোধ করা সম্ভব।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অভিবাদন সম্পাদক আবুল হাসানাত বাবুল বলেন- “ইজিবাইক চালকদের চাই কর্ম সংস্থান, সাধারণ যাত্রীদের চাই বিকল্প যানবাহন”।
অন্যদিকে, নগরীর ফুটপাত গুলোও হকারদের দখলে থাকায় পথচারীরা সেখান দিয়েও চলাচল করতে পারেন না। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। যানজটের এই অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন ঈদের আগে নগরীতে বের হওয়াও দায় হয়ে পড়বে। কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড, জিলা স্কুল রোড, কান্দিপাড় পূবালী চত্ত্বর, টমছমব্রীজ, মনোহরপুর, রাজগঞ্জ, ছকবাজার বাসস্ট্যান্ড, কুমেক হাসপাতালের সামনেও দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। হাসপাতালের সামনের সড়কটি যানচলাচলের অযোগ্য হয়ে রয়েছে। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই সড়কটিসহ নগরীর গুরুত্ব পূর্ণ সড়কগুলো মেরামতের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এখন মনে হয়, কুমিল্লা পুরো নগরটিই এখন যানজটে পরিণত হয়ে পড়েছে। রিকশা বা সিএনজি চড়ে নিদিষ্ট সময়ে কোনো গন্তব্যস্থলে পৌছা যায় না। লাইসেন্সবিহীন অটোবাইক ও রিকশার চলাচল বন্ধের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে কুসিক’র আরেক কর্মকর্তা বলেন- কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাঝে মাঝে অভিযান চালাচ্ছে এবং এ ব্যাপারে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, যানজট নিরসনে একা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

error: কপি হবে না!