ads

সোমবার , ৩০ জুন ২০১৪ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধা বাবুল চিশতী’র বিষোদগার : জামায়াতী নয়া কৌশল ?

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জুন ৩০, ২০১৪ ৩:২৫ অপরাহ্ণ

রফিকুল ইসলাম আধার

Babul Chistyস্বাধীনতার দীর্ঘ প্রায় ৪৩ বছর পর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সর্বকনিষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সদ্য অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত সম্পাদকমন্ডলীর অন্যতম সদস্য, মোঃ মাহবুবুল হক বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে অতিসম্প্রতি একটি জাতীয় ইংরেজী দৈনিকে প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদে ব্যাপক তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। প্রকাশিত ওই খবরে মুক্তিযোদ্ধা বাবুল চিশতী’র রনাঙ্গনের সাথীরাসহ সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এজন্য যে, তিনি কেবল একজন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাই নন, তিনি নিজের এলাকা ও অঞ্চলের গন্ডি পেরিয়ে খোদ দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেও একজন আলোকিত মানুষ; সফল ব্যক্তিত্ব। যে কারণে মুক্তিযোদ্ধা বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে ওই নতুন ষড়যন্ত্রে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষজনসহ সচেতন মহল আজ জেগে উঠেছেন। প্রায় প্রতিদিনই বৃহত্তর ময়মনসিংহের কোন না কোন এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সর্বত্র বইছে নিন্দার ঝড়।
১৯৭১’র নভেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পিতা মোখলেসুর রহমান ও ভাই সাইদুর রহমানকে ধরে নিয়ে হত্যার অভিযোগে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার নাচনমহুরী গ্রামের হামিদুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় এবং পিতা সাইদুজ্জামানকে ধরে নিয়ে হত্যার অভিযোগে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ফজলুর রহমানের করা মামলাকেই প্রকাশিত ওই খবরের উপজীব্য করা হয়েছে। প্রথমোক্ত ঘটনার বিষয়ে ২০০৯ সনের জুলাই মাসের প্রথমার্ধে এবং দ্বিতীয় ঘটনার বিষয়ে ২০১০ সনের মার্চের প্রথমার্ধে স্ব-স্ব জেলায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ওই মামলা দায়ের হয়। ওই সময় জামালপুর ও শেরপুর অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের ডাকে প্রতিবাদ সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। জামালপুর ও শেরপুরের জেলা প্রশাসনসহ কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম বরাবর দেওয়া হয় স্মারকলিপি। নিন্দা-প্রতিবাদের মুখে আদালতে অভিযোগ দায়েরকারীদের বুধোদয় হয়। জাতীয় ইস্যুকে পুঁজি করে বিশেষ মহলের চালবাজি বুঝতে পেরে তারা পিছু হটে। যুদ্ধকালীন সময়ে যার বয়স ছিল মাত্র ৬/৭ বছর, সেই বাদীসহ (পিতা-পুত্র হত্যাসংক্রান্ত মামলার সংবাদদাতা বাদী) সাক্ষীরা এফিডেভিটমূলে প্রকৃত ঘটনার ঘোষণা দেয়। বকশীগঞ্জের মামলার সাক্ষীরা আদালতের ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দি দিয়ে পরিস্কার করেন ওই ঘটনায় বাবুল চিশতী নয়, পাকবাহিনীর জড়িত থাকার তথ্য। সুতরাং মামলা দু’টির ঘটনা একদিকে যেমন বৃহত্তর জামালপুর অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং সচেতন মহলের কাছে পরিস্কারভাবে প্রতিভাত ও প্রতিষ্ঠিত, অন্যদিকে বাবুল চিশতীও মুক্তিযুদ্ধের সকল দালিলিক প্রমাণসূত্রেই স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একটি নিস্পত্তিকৃত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত বিষয় হওয়ার পরও বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রায় ৪৩ বছর পর কেন এমন নগ্ন বিষোদগার ?
দেশ মাতৃকার টানে একদিন কিশোর বয়সেই যিনি কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ভারী অস্ত্র, মাতৃভূমি রক্ষার জন্য যিনি পাক-হানাদার বাহিনীর সঙ্গে লড়েছেন সম্মুখ সমরে, যুদ্ধকালীন গর্ভধারিনী মাকে দেখতে এসে যিনি পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে পাকড়াও হয়ে মাসাধিককাল সয়ে বেরিয়েছেন নির্মম নির্যাতন, সেই অসীম সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল চিশতী’র বিরুদ্ধে এবার বিষোদগারে মেতেছেন- মুক্তিযোদ্ধাদেরই একটি বিশেষ অংশ। তাও আবার সদ্য অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ। তবে এ কথা আজ প্রতিষ্ঠিত যে, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় অর্থ্যাৎ জাতীয় নির্বাচন থেকে স্থানীয় পর্যায়সহ যে কোন নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ ফলাফল মেনে না নিয়ে হেরে যাবার পরপরই বিজয়ী পক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে থাকে। অনেকটা একই পথ অনুসরণ করে পরাজিত প্রতিপক্ষ মেজর (অবঃ) জিয়াউদ্দিন আহমেদ একটি স্বতসিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত বিষয়কে পাশ কাটিয়ে বিশেষগোষ্ঠীর ইতিহাস বিকৃতির মচ্ছপের ন্যায় মুক্তিযোদ্ধা বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে যে নগ্ন বিষোদগারে মেতেছেন, তা কেবল র্তা প্রতিষ্ঠায় ঈর্ষান্বিত মহল বিশেষের কারসাজিতেই নয়, তা রীতিমত জামায়াতী নয়া কৌশল বলেই ভাবছেন সচেতন মহল।
বয়সের উদ্দামতা যে কিশোরকে যুদ্ধযাত্রা থেকে ফেরাতে পারেনি, ১১ নং সেক্টরে সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা হয়েও যিনি সকলের øেহধন্য-প্রিয়ভাজন, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল চিশতী স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকে আজোবধি কেবল নিজ এলাকা বকশীগঞ্জেই তার সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ রাখেননি। তার সেবার পরিধি আজ জামালপুর, শেরপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিস্তৃত। কোন কোন ক্ষেত্রে তার অবস্থান দেশজুড়েই প্রসারিত। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের নেতৃত্বে নবপ্রতিষ্ঠিত ‘দি ফারমার্স ব্যাংক লিঃ’ এর তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা-পরিচালক এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। এরই সুবাদে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে মফস্বল অঞ্চল বকশীগঞ্জ ও শ্রীবরদীসহ জামালপুর, শেরপুর ও ময়মনসিংহে ৮ টি শাখা খোলা হয়েছে। যার ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী-কৃষকসহ সাধারণ মানুষ সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে পারছে।
বর্ণিত অবস্থায় এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, রনাঙ্গনের সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা বাবুল চিশতী এখন এক সফল ব্যক্তিত্ব; যার অস্থি-মজ্জায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যার কণ্ঠ আকীর্ণ আওয়াজ, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে সচেতন মহল বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন। একজন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা সহসাই সম্মান পাবেন- এমনটিই স্বাভাবিক। কিন্তু তাকে সম্মান না দিতে পারলেও অসম্মান করার সুযোগ আমাদের নেই। সুতরাং আলোচিত-আলোকিত মানুষ বাবুল চিশতী’র বিরুদ্ধে বিষোদগারে আমাদের ধিক্কার। ধিক, জামায়াতী নয়া কৌশল।

Shamol Bangla Ads

লেখক : সাংবাদিক, আইনজীবী ও রাজনীতিক, শেরপুর। ই-মেইল : press.adhar@gmail.com

error: কপি হবে না!