ads

বুধবার , ২৫ জুন ২০১৪ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

কুমিল্লায় অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুন ২৫, ২০১৪ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি :  ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন- বাংলাদেশ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রমিক প্রেরণকারী একটি দেশ। প্রতি বছর এদেশ থেকে গড়ে ২লাখ ১৩ হাজার ৮’শ ৮৭জন নারী-পুরুষ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পেশায় চাকুরী নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে আসছে, যা বাংলাদেশ সরকার এর প্রয়োজনীয বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ। বর্তমান বিশ্বের শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষ অজ্ঞ ও অসচেতন থাকায় বিদেশে যাবার প্রাক্কালে বা বিদেশে কর্মরত থাকাকালীন অথবা দেশে প্রত্যাবর্তনের পর নানরূপ প্রতারণা, লাঞ্ছনা, নিপীড়ন, নির্যাতন ও বৈষেম্যের শিকার হচ্ছে। ২৫ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল­া প্রেসক্লাব সম্মেলন কক্ষে জার্মানি এডাবলুও ইন্টারন্যাশনাল এর সহযোগিতায় কুমিল­া মাইগ্রেশন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টারের ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাইফুল হক আরও বলেন- ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৪ সনের মে পর্যন্ত প্রায় ৯০ লাখ নারী-পুরুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানে নিয়োজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ৫১.৩২% স্বল্প দক্ষ (গৃহ শ্রমিক ও কৃষি শ্রমিক), ১৫% আধা দক্ষ (দর্জি ও রাজমিস্ত্রী), ৩১.১৭% দক্ষ (গার্মেন্ট শ্রমিক, ড্রাইভার ও ইলেকট্রিশিয়ান) এবং ২.৫২% প্রফেশনাল (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক ও নার্স)। ১৯৯১সন থেকে ২০১৪ সনের মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত এক হিসাবে দেখা যায় যে, প্রবাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন বাংলাদেশের ৩লাখ ৫ হাজার ৫’শ ৯১জন নারী। তবে সরকারি হিসাবের বাইরে এর চেয়ে কিছু বেশী নারী অভিবাসী শীর্ষে রয়েছে লেবানন (৩১.৫১%), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২৬.৬৪%), সৌদি আরব (১৫.৩২%), জর্ডান (৮.৭৫%)। বাকিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন। এ সকল অভিবাসী শ্রমিকের অধিকাংশ স্বল্প দক্ষ কর্মী ও স্বল্পশিক্ষিত। বেশিরভাগ অভিবাসী শ্রমিকের নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় ও দেশে অভিবাসী অধিকার সংরক্ষণ ও তাদের কল্যাণে যথাযথ আইনের অভাবে দেশে ও বিদেশে নানাভাবে শোষিত, নির্যাতিত ও প্রতারিত হচ্ছে।
অত্যাধিক জনসংখ্যা, নানাবিধ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হবার কারণে আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের অভাব বেড়েই চলেছে। এই অবস্থা হতে পরিত্রাণ পেতে বিশেষতঃ বেকারত্ব দূর করতে দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী অভিবাসনে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অভিবাসনের তিনটি পর্যায় গুলো হলোঃ- ১. প্রাক-বহির্গমন পর্যায়, ২. বিদেশে/গন্তব্য দেশে অবস্থানকালীন পর্যায়, ৩. প্রত্যাবর্তন/পুনর্বাসনকালীন পর্যায়।
বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসনের সমস্যা ও সংকট গুলো হচ্ছেঃ- ১) মধ্যস্বত্ত¡ভোগী দালাল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অভিবাসী প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার, ২) ভিসা ট্রেডিং এর কারণে অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ হ্রাস ও হুন্ডি বৃদ্ধি। ৩) শ্রম অভিবাসনে রিক্রুটিং এজেন্টদের নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় আইনের অপ্রতুলতা ও ৪) আউট-সোসিং এজেন্টের মাধ্যমে শ্রমিক প্রেরণে প্রতারণা, নির্যাতন ও দাস হিসেবে কাজের পরিবেশ।
কুমিল­া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলাল এর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কুমিল­া মাইগ্রেশন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টারের ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সেন্টার ম্যানেজার মোঃ জাফর উল­্যা, কুমিল­ার কথা’র প্রকাশক দেলোয়ার হোসেন জাকির, মোঃ সাফায়েত হোসেন, সাবিনা আক্তার প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কুমিল­া জেলায় কর্মরত ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী।

error: কপি হবে না!