ads

রবিবার , ১৫ জুন ২০১৪ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রাজধানীর বিহারিপল্লীতে সংঘর্ষ-আগুনে নিহত ১০

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জুন ১৫, ২০১৪ ১:৩৫ অপরাহ্ণ

pic-17_শ্যামলবাংলা ডেস্ক : রাজধানীর পল্লবীর কালশীতে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মা, ছেলেমেয়েসহ ৯ জনই এক পরিবারের সদস্য। এদের মধ্যে ১৪ বছরের দুই যমজ ভাই ও দেড় বছরের এক শিশু রয়েছে। তারা সবাই আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। ১৪ জুন শনিবার সকালে ওই ঘটনার জের ধরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। বিহারিপল্লীর বাসিন্দাদের দাবি, স্থানীয় একটি মহলের উসকানিতে পুলিশের সহযোগিতায় ক্যাম্পে নাশকতা ও হামলা চালানো হয়েছে। আর পুলিশের বলছে, শব-ই-বরাতের রাতে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিয়ে ভোররাতে স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এরই সূত্র ধরে আগুন ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনা তদন্তে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মীর রেজাউল আলমকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতরা হচ্ছেন বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা সেলুনকর্মী মোহাম্মদ ইয়াসিনের স্ত্রী, সন্তান, নাতিসহ তাঁর পরিবারের ৯ জন মারা গেছে। তাঁর এক মেয়ে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আছে। অবাঙালি ইয়াসিন গুলশান ক্লাবের সেলুনে কাজ করেন। তিনি জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে মৃতদের মধ্যে রয়েছে তাঁর স্ত্রী বেবী (৪৩), বড় ছেলে আশিক (২৩), আশিকের স্ত্রী শিখা (২০), ছোট দুই যমজ ছেলে লালু (১৪) ও ভুলু (১৪), তিন মেয়ে শাহানী (২৩), আফসানা (২০) ও রোকসানা (১৬) এবং শাহানার দেড় বছরের ছেলে মারুফ। তবে লাশগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে, চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা হয়নি। গত রাত পর্যন্ত ময়নাতদন্তের জন্য রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে। এদিকে সকালে ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ আজাদ (৩৫) নামে একজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। সেখানে আরজু (১৭), বদরউদ্দিন (৪৫), সরদার হোসেন (৪৮), আসলাম (৫০) ও ফারজানা (১৬) নামে পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে হাসপাতালে ভর্তি হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের পর আতশবাজি ফোটানো নিয়ে বিহারিদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব হয়। এরপর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তা দুপুর পর্যন্ত গড়ায়। একপর্যায়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়। শবেবরাত উপলক্ষে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বাসার সামনে গিয়ে আতশবাজি ফোটালে সংঘর্ষ বাধে বলে ডিসি জানান। এ সংঘর্ষের সময়ই বিহারি ক্যাম্পের এক বাসিন্দার ঘরে আগুন দেওয়া হয়। সেখানে ৯ জন পুড়ে মারা যায়। আর সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ আজাদ নামে একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আজাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে কি না জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার কামাল উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের সময় ক্যাম্প থেকেও পুলিশকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে তিনি নিজে এবং পল্লবী থানার ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হন। হামলার সময় ক্যাম্পের লোকজনও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। তাই কার গুলিতে আজাদের মৃত্যু হয়েছে, তা জানা যায়নি।
যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত: শবেবরাত উপলক্ষে আতশবাজি ফোটানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার ফজরের নামাজের পর বিহারিদের সঙ্গে স্থানীয় বাঙালিদের সংঘর্ষ শুরু হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে। এরপর ভোরের আলো বাড়ার সঙ্গে সংঘর্ষও বাড়তে থাকে। সকাল ৮টার দিকে তা ভয়ংকর রূপ নেয়। তখন পুলিশের সঙ্গেও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। ওই সময় আশপাশের বস্তির বাসিন্দারা পুলিশের সহযোগিতায় কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পের সামনে অবস্থান নিলেও অবাঙালিদের সঙ্গে পেরে উঠছিল না। একপর্যায়ে কিছু যুবক বিহারি ক্যাম্পের রাস্তাসংলগ্ন কয়েকটি ঘরে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দেয়। তা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতেই খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও আগুন নেভাতে প্রথম পর্যায়ে বাধার মুখোমুখি হন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় আগুনে পোড়া ঘর থেকে ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এত প্রাণহানির খবরে বিহারিরা আরো উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ক্যাম্পের ভেতর থেকে শত শত নারী-পুরুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে। এ পরিস্থিতিতে সেখানে উপস্থিত অল্পসংখ্যক পুলিশ ছররা গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হয়। পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সেখানে মোতায়েন করা হলেও দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পুরো এলাকা ঘিরে রাখলেও পুলিশ দুপুর পর্যন্ত বিহারি ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকতে পারেনি। এদিকে আগুনে পোড়া লাশগুলো বিহারিদের স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটির কার্যালয়ে নিয়ে রাখা হয়। পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধারে কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। বিহারিরা লাশ আটকে রেখে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। বিকেল ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুন সেখানে যাওয়ার পর লাশ পুলিশকে দিতে সম্মত হয় ক্যাম্পের বাসিন্দারা। এরপর লাশগুলো নিয়ে পুলিশের একটি পিকআপে করে ক্যাম্প থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে শবেবরাতের রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামসংলগ্ন কেবলারচরে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ৬ কলেজছাত্রকে। এবার আবার শবেবরাতের রাতে এ ঘটনা ঘটল।

error: কপি হবে না!