ads

বৃহস্পতিবার , ১২ জুন ২০১৪ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

একটু বাড়তি জোয়ারে প্লাবণের আশংকা : পেকুয়ায় পাউবোর ১১৬ কি.মি.বেড়িবাঁধের অবস্থা নড়বড়ে

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জুন ১২, ২০১৪ ২:১২ অপরাহ্ণ
একটু বাড়তি জোয়ারে প্লাবণের আশংকা : পেকুয়ায় পাউবোর ১১৬ কি.মি.বেড়িবাঁধের অবস্থা নড়বড়ে

pic.beribad pekua-10-06-14এম.আবদুল্লাহ আনসারী. পেকুয়া (কক্সবাজার) : উপকূলীয় পেকুয়া উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১১৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধই নড়বড়ে অবস্থায় পতিত হওয়ায় একটু বাড়তি জোয়ারে প্লাবনের ঝুকি নিয়ে আতংকে আছে সাগর তীরবর্তী লোকজন। মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অতিঝুকিপূণৃ চিহ্নিত করে জরুরী সংস্কারের আওতায় বিপদ জনক ঘোষনা দেয়ার পরও নির্মাণে কার্যকর কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধসমুহ সংষ্কার না হলে লোকালয়ে সমুদ্রের পানি ঢুকে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে জানমাল ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। পাউবো সূত্রে জানাগেছে মগনামার বিভিন্ন পয়েন্টে জরুরী বেড়িবাধ নির্মাণের জন্যে ১৩কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষনার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এখনো নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী বলেন, মগনামা ইউনিয়নের কাঁকপাড়া বেড়িবাঁধের অবস্থা নাজুক হওয়ায় ফের প্লাবিত হওয়ার আশংকায় ভোগছেন এলাকাবাসী। তাছাড়া মগনামা ইউনিয়নের শরতঘোনা, পশ্চিমকুলসহ প্রায় ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অতি ঝুকিপূর্ন। অপরদিকে উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম,শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, উজানটিয়া ইউনিয়নের রুপালী বাজার, টেকপাড়া, করিয়ার দিয়ার প্রায় ১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আগামী বর্ষা মৌসুমের একটু বাড়তি জোয়ারে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে এছাড়া অতিবৃষ্টির কারনে এ সব এলাকার বেড়িবাধের অবশিষ্ঠাংশও ভেঙ্গে গিয়ে সাগরের সাথে একাকার হয়ে গিয়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও গ্রামীন অবকাঠামো বিনষ্টের আশংকায় আমারা আতংকিত। স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে জানা যায়, গত বর্ষা মৌসুমে ওই বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। তাছাড়া অসংখ্য চিংড়ি ঘেরের মাছ ভেসে গিয়েছিল। পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজু বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার জন্য কয়েকবার চেষ্ঠা করা হয়েছে। একবার বাঁধলে আরেকবার ভেঙ্গে যায়। যার ফলে বিপুল পরিমান অর্থের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি মগনামা ও উজানটিয়াসহ পেকুয়ার ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাধসমুহ দ্রুত নির্মাণের জন্য পাউবো সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। তিনি আরো বলেন,,গত বর্ষার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েকবার বেড়িবাঁধ পুন:নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সমুদ্রের জোয়ারের ধাক্কায় ওই বেড়িবাঁধ বার বার ভেঙ্গে গিয়ে সাগরের সাথে একাকার হয়ে যায়। ফলে ওই এলাকার কয়েক গ্রামের লোকজন সাগরের জোয়ারের পানির সাথে সংগ্রাম করে কোন রকম বেচে আছে। তিনি জানান, তার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের করেছেন কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকারী বরাদ্দ মেলেনি। মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী কর্তৃপক্ষের কাছে আকুতি জানিয়েছেন মগনামাবাসীকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ খুবই জরুরী। পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, জাপানী সংস্থা জাইকার প্রতিনিধি দল সম্প্রতি মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের ঝুকিপূর্ন বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। তারা বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোন ধরনের প্রক্রিয়া দেখা না যাওয়ায় এ মৌসুমেও মগনামা উজানটিয়া বাসীকে জোয়ারভাটার শিকার হতে হবে। স্থানীয়রা জানান,গত সুস্ক মৌসুমের শুরুতে সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে কাকপাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে লবণের মাঠ প্লাবিত হয়ে একমাস পরে লবণ চাষীরা নিজেদের অর্থায়নে অস্থায়ীভাবে একটি রিংবাধ নির্মাণ করে চাষাবাদ করেন। পেকুয়ার উজানটিয়া ও মগনামা ইউনিয়ন ছাড়া ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সিরাদিয়া, বাজার পাড়া, পূর্ব মেহেরনামা, রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়াঘোনা, সুন্দরীপাড়া,নতুনঘোনার বেড়িবাঁেধর অবস্থা বর্তমানে অতি ঝুকিপূর্ণ। সমুদ্রের জোয়ারের পানি একটু বেড়ে গেলে এসব এলাকা প্লাবিত হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,বেড়িবাঁধের জন্য বরাদ্দ হলেও কোন টেন্ডার না হওয়ায় এখনো কাজ শুরু যায়নি। বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তগত হলে বেড়িবাধ নির্মাণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

error: কপি হবে না!