ads

শনিবার , ৭ জুন ২০১৪ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ভোলাহাটের বিলভাতিয়া বিল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশী প্রজাতির ছোট-বড় মাছ

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জুন ৭, ২০১৪ ৮:১১ অপরাহ্ণ
ভোলাহাটের বিলভাতিয়া বিল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশী প্রজাতির ছোট-বড় মাছ

এম.এস.আই শরীফ, ভোলাহাট(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এবং চিরতরে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে গ্রাম-গঞ্জের এলাকা বিশেষে ছোট ছোট হাওড়-বাওড়, নদী-নালা আর বিলগুলি হতে মিঠাপানির বিভিন্ন প্রজাতিরছোট-বড় মাছ। পরিস্থিতি উত্তরণে বিলভাতিয়া বিলের মাছ রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পিত উদ্যোগ ছাড়া পথ নেই। এ ব্যাপাওে তাদের পাশাপাশি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে বিদ্যমান জলমহাল নীতিমালা। তাহলে একদিকে যেমন মিঠাপানির বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে বাড়বে মাছের উৎপাদনও। কিন্তু উত্তরাঞ্চলে বিদ্যমান জলমহাল আইনের প্রতি তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বর্তমান দেশের উত্তরাঞ্চলে ৪৬ প্রজাতির মাছ সঙ্কটাপন্ন এবং বিলুপ্তির তালিকায় রয়েছে। একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না কিছু মাছ। গত ৫ বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা জরিপ অনুযায়ী দেখা যায়, সেখানে ঐ সময়ে ১৪৭ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিলো। কিন্তু গত ৫ বছরে এ থেকে ৪৬ প্রজাতির মাছই সঙ্কটাপন্ন ও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ মাছের মধ্যে ৩২টি প্রজাতিই হচ্ছে ছোট মাছ। এর মধ্যে মধুপাবদা, ছোট পাবদা, বোথালী ও রানি একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া বড় মাছের মধ্যে লানিদ, কাজলী, পাঙ্গাশ এখন উত্তরাঞ্চলে নেই বললেই চলে। অথচ এক সময়ে নদী ও বিলভাতিয়া বিলে পাঙ্গাশ পাওয়া যেত। একই ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না গত ২ বছরে মহাশোইল। সূত্রে জানা যায়, বিলভাতিয়া বিলের সুস্বাদু গনিয়া ও রুই মাছ এখন দূর্লভ। এ পরিস্থিতির জন্য বিলভাতিয়ার সংশ্লিষ্টরা দায়ি করছে বিদ্যমান জলমহাল নীতিমালা বাস্তবায়নে তদারকির অভাবকে। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, বিদ্যমান জলমহাল নীতিমালা অনুযায়ী ইজারাদারদের প্রথম ২ বছর বিল উন্নয়ন, রক্ষনাবেক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্দ্যোগ নিতে হবে। এ ২ বছর সময় বিল থেকে কোনো প্রকার মাছ ধরা যাবে না। মাছ ধরতে হবে ৩য় বছর-এ। বাস্তবে ইজারা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অবাধে নিধন করা হচ্ছে ডিমওয়ালা মাছ। ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মাছের প্রজাতি। সূত্র আরো জানায়, উত্তরাঞ্চলের মিঠাপানি মাছের বিভিন্ন প্রজাতি রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে কঠোরভাবে অনুসরন করতে হবে বিদ্যমান জলমহালের নীতিমালা। কারণ, বিলভাতিয়া বিলের মাছ রক্ষা করতে হলে ডিম ছাড়ার সময় থেকে পোনা বড় হওয়া পর্যন্ত কোনাজাল, কারেন্টজাল সহ সব ধরনের ঘন জালের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। তাছাড়া জলমহালে প্রতিবছর মাছ ধরা বন্ধ করে পাইল ফিশারিজের নিয়ম (৩বছরের) মানলেই বিলভাতিয়া বিলে আবারো মাছের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে সঙ্কটাপন্ন মাছ গুলোও রক্ষা পাবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন । এ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান জানান, ভোলাহাট উপজেলার বিলভাতিয়া বিলের দেশী মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করতে হবে। এ ছাড়া দেশী মাছের বিলুপ্তি এড়ানো অসম্ভব। এলাকার অভিজ্ঞমহলের মতে, এ ক্ষেত্রে সরকারী উদ্দ্যোগের পাশাপাশি বিলভাতিয়া বিলের জনগণকেও এ ব্যাপারে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেই সাথে সাথে বর্তমান সরকারের ভূমিকা ভোলাহাট উপজেলার মাছের জন্য প্রাণকেন্দ্র বিলভাতিয়া বিলকে পুন:খনন করে আধূনিকায়নে এ বিশালাকার যার আয়তন প্রায় ৪,০৬৫ একর বিলভাতিয়া বিলকে সুপরিকল্পিতভাবে অভয়াশ্রম বা পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে আমরা মনে করছি এবং সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি এর পরিকল্পনা মত বাস্তবায়নের জন্য।

error: কপি হবে না!