ads

শুক্রবার , ৬ জুন ২০১৪ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায় দেশ রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে স্বামী ও সীমান্তে ছেলেকে হারানো রাবেয়া খাতুন

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুন ৬, ২০১৪ ৮:০০ অপরাহ্ণ

debidwar bjbতাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল­া প্রতিনিধি : দেশের আলোচিত ঘটনা বিজিবি’র নিহত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের পরিবার নিয়ে দিশেহারা তার মা রাবেয়া খাতুন(৬২)। দেশ রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে স্বামী ও সীমান্তে ছেলে হারিয়ে একজন গর্বিত নারী রাবেয়া খাতুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মায়ানমার বিজিপি গুলিতে নিহত বিজিবি সদস্য মিজানের কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউপির ভেলানগর গ্রামে নিজ বাড়িতে এখনো শোকের মাতম চলছে। স্বামী দেশের জন্য শহীদ হলেও তার লাশ দেখতে পারেননি স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। গত ২৮ মে বুধবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ল্যম্বুছড়ি ক্যাম্পের ৫২ নম্বর পিলার এলাকা সীমান্তে  মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) গুলিতে বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়ানের নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান মারা গেলে তার লাশ মায়ানমার বিজিপি নিয়ে যায়। লাশ দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দু’দেশের সংঘর্ষ বাঁধলে স্বামীর মত একমাত্র ছেলের লাশ দেখতে পারবেনা বলে রাবেয়া খাতুন কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তিনি বর্তমানে ছেলে ছবি নিয়ে শুধু এক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকেন।
জানা যায়, ১৯৬৮ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার তালতলা গ্রামের মৃত হাজী সৈয়দুর রহমানের মেয়ে রাবেয়া খাতুনের সাথে ভেলানগর গ্রামের মৃত গণি মোল্লার ছেলে আঃ হাফিজ মোল্লার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। ৮বছর যাবৎ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ল্যান্স কর্পোরাল আঃ হাফিজ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী ৭নং সেক্টরে পাক-বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। তখন হাফিজের স্ত্রী রাবেয়া ৩মাসের অন্তঃসত্তা ছিলেন। জন্মের পর মিজানের কাছে বাবার গল্পই ছিল শুধু ইতিহাস। কিন্তু আঃ হাফিজ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হলেও তার পরিবার সাধারন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভাতা পাচ্ছেন। শোকে কাতর অবস্থায় রাবেয়া খাতুন বলেন, স্বাভাবিক মৃত্যু নয় দেশ রক্ষায় প্রতিপক্ষের গুলিতে স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে আমার বলার মত কোন ভাষা নেই। আমি একজন গর্বিত নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সাথে শুধু একবার সাক্ষাৎ করতে চাই। আমার ভিতরে দুঃখ-কষ্ট ও আবেগ প্রকাশ করতে চাই প্রধানমন্ত্রীর সাথে। তিনি আরো বলেন, নিহত মিজানের স্ত্রী শামিমা আক্তার পারুল ও ৪মেয়ে কে নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবো। তার বড় মেয়ে ফাতেমা আক্তার কে বিবাহ দিলেও স্বামী এখনো বেকার আছে। বর্তমানে ২য় মেয়ে হালিমা আক্তার ৭ম শ্রেণিতে ও ৩য় মেয়ে সিমু আক্তার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছে। ৪র্থ মেয়ে হাবিবা হাবিবা আক্তার(৪) স্কুলে যাওয়া শুরু হবে। মেয়েদের লেখাপড়া, ভরণ-পোষণ, প্রাপ্ত বয়স্ক হলে বিবাহ ও ভবিষ্যতে সরকারী চাকুরী প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানান। দেশের জন্য নিজের জীবনকে নিবেদিত বাবা-ছেলের স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখার জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবী জানান,  স্বামী শহীদ মুক্তিযোদ্ধার আঃ হাফিজ মোল্লার নামে বাড়ির সামনের রাস্তা পাঁকাসহ নামকরণ ও ছেলে নিহত মিজানকে বীরত্ব সূচক উপাধী দেওয়া সহ তার নামে কোন স্মৃতি স্তম্ভ তৈরি করার।

error: কপি হবে না!