ads

সোমবার , ২৬ মে ২০১৪ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুর সদর এসআর অফিসের দৃষ্টিনন্দন ৪ তলা জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ২৬, ২০১৪ ৮:২৫ অপরাহ্ণ

Sherpur Newsতালাত মাহমুদ, শেরপুর : আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন হিসেবে শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস প্রাঙ্গনে নির্মাণাধীন চারতলা জামে মসজিদটি এখন সকলের নজর কেড়েছে। মসজিদ নির্মাণ কমিটির আন্তরিক প্রচেষ্টায় নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। দৈর্ঘে ৮৬ ফুট ও প্রস্থে ৬০ ফুট বিশিষ্ট মসজিদ ভবনের দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মসজিদটির চতুর্থ তলা পর্যন্ত নির্মাণ শেষ হলে সহস্রাধিক মুসলমান একসঙ্গে নামায আদায় করতে পারবেন। মসজিদ নির্মাণ কমিটির সভাপতি এএসপি (সার্কেল) মোঃ শাজাহান মিয়া, সহ-সভাপতি, সাবরেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার, সম্পাদক, দলিল লেখক আব্দুল হাই মোল্লা সহ অন্যান্যদের মধ্যে আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন সরকার, আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী সরকার, মোঃ মোশারফ হোসেন সরকার ও আলহাজ্ব মাওঃ ক্বারী মোঃ মিরাছ উদ্দিন (পেশ ইমাম) একনিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান সাবরেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার বিগত ১১/০৯/২০১১ খ্রিঃ তারিখে শেরপুর সদর এসআর অফিসে যোগদানের পর শেরপুর সদর দলিল লেখক সমিতির দীর্ঘকালের সভাপতি মরহুম সুরুজ্জামানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মসজিদের দ্বিতীয় তলা নির্মাণের জন্য আর্থিক উৎস হিসেবে দলিল প্রতি জমি ক্রেতার নিকট হতে অনুদান ধার্য করেন। জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের মাধ্যমে মসজিদ নির্মাণের আয় ব্যয়ের অডিট করানো হয়। ভবিষ্যতে মসজিদের আটতলা মিনারও নির্মাণ করা হবে বলে এসআর মোঃ নজরুল ইসলাম জানান।

Shamol Bangla Ads

প্রকাশ থাকে যে, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যে সব খাত থেকে সরকারী রাজস্ব জমা হয় তার মাঝে জমি ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) খাত থেকে একটি উল্লেখযোগ্য অঙ্কের রাজস্ব জমা হয়ে থাকে। যা বাংলাদেশের শিক্ষাখাতের জন্য জাতীয় বাজেট থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের চাইতে অনেক বেশি। ট্যাক্স, বিক্রয় ও দলিল সম্পাদন ফি ছাড়া এর সাথে ভূমি অফিসের নামজারী ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের বিষয়টি ওঁৎপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে সরকারের এসব সংশ্লিষ্ট খাত থেকে আশানুরূপ রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে।
সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে সম্পাদিত দলিলের বিভিন্ন ফি বাবদ যে অর্থ আদায় হয় তার মাঝে জেলা পরিষদ কর, ইউনিয়ন পরিষদ কর, পৌরকর, ষ্ট্যাম্প শুল্ক, রেজিষ্ট্রেশন ফি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও যারা দলিল লিখেন -সেই দলিল লেখকদের পারিতোষিক দিতে হয় জমি ক্রেতাকে। প্রতিটি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দলিল লেখক ও নকলনবীশ থাকেন। এরা সরকারী অনুমোদন প্রাপ্ত। তবে সরকারী কর্মচারী নন। তারা তাদের কর্মের উপর অর্থ পেয়ে থাকেন। প্রতিটি সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্ট্রিারসহ ৫/৬জন সরকারী কর্মচারী থাকেন।
সাবরেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে ভাল-মন্দ দুটি দিকই রয়েছ। তবে ভাল দিকগুলো সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই তেমন ধারনা নেই। অথচ এসব ভাল দিকগুলো আমাদের জানা থাকা দরকার। শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সৌজন্যে নির্মিত দ্বি-তল মসজিদটি আজ শত শত মুসুল্লীর নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এই দ্বি-তল মসজিদটি নির্মাণে বর্তমান সাবরেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদারের অনেক অবদান রয়েছে। জানা যায়, সাবরেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে বিগত ১১/০৯/২০১১ খ্রিঃ তারিখে যোগদানের পর মসজিদটির প্রতি দৃষ্টি দেন। তিনি নিজ চেষ্টায় মসজিদ উন্নয়নের জন্য দলিল প্রতি একশ’ টাকা করে ক্রেতাপক্ষের নিকট থেকে অনুদান আদায়ের ব্যবস্থা করেন। জমি ক্রেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সে অনুদানের টাকা দিয়ে থাকেন। এ ব্যাপারে কোন প্রকার আপত্তি বা অভিযোগ উঠেনি। ফলে সেই অনুদানের অর্থে শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি মসজিদটি একটি স্থাপত্য শিল্পমন্ডিত মসজিদে পরিণত হতে যাচ্ছে। বর্তমান সাবরেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার আর্ত-মানবতার সেবায় আন্তরিক বলে জানা যায়। পেশাগত দায়িত্ব পালনেও তিনি যতœশীল।
অফিস সহকারী আঃ হামিদ জানান, শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে বছরে ১২/১৩ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়। প্রায় পৌনে ২শ’ দলিল লেখক রয়েছেন, নকলনবীশ রয়েছেন এবং ভেন্ডার রয়েছেন। জেলা রেজিষ্ট্রারের অফিসের নকলখানা থেকে দলিলের নকল তোলার জন্য শেরপুর জেলার ৫টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন শতশত লোক এই অফিসে এসে ভীড় জমায়। বর্তমান জেলা রেজিষ্ট্রার জগদীশ চন্দ্র দেবনাথ, শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদারের কর্মকান্ডে সন্তুষ্ট এবং আনন্দিত। তিনি জেলার ৫টি সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকান্ডের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন। জেলা রেজিস্ট্রার জগদীশ চন্দ্র দেবনাথ অফিসের সকল কর্মচারীর প্রতি যেমন আন্তরিক তেমনি আন্তরিক ও সংবেদনশীল সাবরেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদারও দলিল রেজিষ্ট্রেশনে কোন প্রকার ত্র“টি ধরা পড়লে তিনি তাৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক এমনকি শেরপুর সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান মতিনসহ সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তাকে ডেকে সে ত্র“টি সংশোধনের ব্যবস্থা করেন। জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারেও তিনি সচেতন। তবে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান মতিন সর্বদা সতর্ক অবস্থানে থাকায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে না। প্রতারক বা টাউট বাটপারদের আনাগোনাও চোখে পড়ে না।
শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের টিসি মহরার মোঃ আবু বকর একজন পরিশ্রমী মানুষ। তিনি অফিসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে জড়িত। এ ছাড়া আলহাজ মোঃ হুমায়ুন আহমেদ, মহরার মোঃ আক্কাছ আলী ও মোঃ নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য সহকর্মীরাও নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে বিশেষ মনযোগী।
প্রকাশ থাকে যে, সাবরেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার দ্বিতীয় মেয়াদে গত পহেলা সেপ্টেম্বর ২০১৩ শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে পুনঃযোগদান করেছেন। তার আগমনে অফিসের সকল স্টাফই আনন্দিত। তাদের ভাষ্য, স্যার খুব ভাল মানুষ। অপরদিকে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সেবার মান সন্তোষজনক।
উল্লেখ্য, শেরপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও জেলা রেজিস্ট্রার (ডিআর) অফিস কমপ্লেক্সটি ২০০০ খ্রিঃ নির্মিত হয়। নতুন অফিস কমপ্লেক্স-এ প্রথম সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মকিদুর রহমান। তিনি ১৩/১০/২০০৪ খ্রিঃ এই অফিসে যোগদান করেন।

error: কপি হবে না!