শ্যামলবাংলা ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জে ৭ জনকে অপহরণের পর খুনের ঘটনায় র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এমএম রানাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্য দিয়ে আদালতের নির্দেশনা দেয়া র্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। ১৭ মে শনিবার গভীরাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি দল ঢাকার সেনানিবাস এলাকা থেকে রানাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করে তাকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর (অব.) আরিফ হোসেনকে শনিবার ভোররাতে ঢাকা সেনানিবাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর র্যাব-১১-এর ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) এম এম রানাকে একই দিন রাত পৌনে দুইটার দিকে ঢাকা সেনানিবাস এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার ভোরে আটক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর আরিফ হোসেনকে দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে নেয়া হয়। আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হলে তাদের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাত পৌনে ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রত পাল ও সাত খুনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের দুটি টিম ঢাকায় আসে। এ সময় তারা ডিবি পুলিশের সহায়তায় জিয়া কলোনি সংলগ্ন গেট দিয়ে সেনানিবাসে প্রবেশ করে। তারা নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বৈঠক করে। একপর্যায়ে সেনানিবাসের নেভাল কোয়ার্টার এলাকা থেকেই এম এম রানাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে তাঁকে নেওয়া হয় ক্যান্টনমেন্ট থানায়। এ সময় তাঁর পরনে ছিল জিন্সের প্যান্ট ও টি-শার্ট। রাত ২টার দিকে কড়া পুলিশ প্রহরায় রানাকে নেয়া হয় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। সেখান থেকে তাকে রাখা হয় পুলিশ লাইনসে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করার পর এম এম রানাকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। রানাকেও ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।
উলেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল তাদের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র্যাব জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে গত ৫ মে র্যাব-১১’র সদ্য সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেনকে অকালীন অবসর (প্রি-ম্যাচিউরড রিটায়ারমেন্ট) ও নৌবাহিনীর লে. কমান্ডার এমএম রানাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সশস্ত্র বাহিনী। তারা এখন এক বছরের অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে (এলপিআর) রয়েছেন। এর মধ্যে আদালত তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।




