ads

রবিবার , ১৮ মে ২০১৪ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বাকৃবির গবেষকের সফলতা : উলম্ব পদ্ধতিতে শাক-সবজি ও মাছের সমন্বিত চাষ

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ১৮, ২০১৪ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

BAU Aquqponics Research Pic1মো: আব্দুর রহমান ,বাকৃবি (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বাড়ির ছাদ, বারান্দা বা আঙ্গিনায় উলম্ব ভাবে একক স্থান হতে অধিক শাক-সবজি উত্পাদন ও মাছের সম্বনিত চাষ করে পরিবহন খরচ হ্রাস এবং ক্রম হ্রাসসমান ভূমির উপর চাপ কমানোর এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ সালাম।
এ পদ্ধতিতে বাড়ির ছাদ, বারান্দা অথবা আঙিনাতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করা যাবে। এ পদ্ধতিতে শুধু মাছের জন্য খাবারের প্রয়োজন পড়বে। সবজি চাষের জন্য কোনো সার ও কীটনাশকের দরকার হবে না । আর উলম্ব পদ্ধতিতে (vertical) সবজির চাষ করলে অল্প জায়গায় পাওয়া যাবে অধিক ফলন।
গবেষক ড. সালাম জানান, বাড়ির ছাদে কিংবা আঙিনায় সমন্বিত এ পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন না লাগায় উত্পাদিত মাছ ও সবজি হবে স্বাস্থ্যসম্মত। এ পদ্ধতিতে মাটি ছাড়াই সম্ভব সবজি চাষ। সমন্বিত মাছ ও সবজি চাষের এ পদ্ধতিকে বলা হয় একোয়াপনিক্স (Aquaponics।
তিনি বলেন, অধিক ফলনের আশায় বর্তমানে চাষীরা ফসলে রোগ-বালাই প্রতিরোধে কীটনাশক, উত্পাদন বৃদ্ধিতে রাসায়নিক সার এবং দ্রুতবর্ধনশীল অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগ দিনদিন বাড়িয়ে চলেছেন। যার ফলে মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বিশেষ করে শহরে বসবাসকারী মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তুলনামূলকভাবে বেশি।
BAU Aquaponics Research Pic2পদ্ধতিটি সম্পর্কে ড. সালাম জানান, উলম্ব পদ্ধদিতে ৪ ইঞ্চি ব্যাস ও ৪.৫ ফুট লম্বা এক একটি প্লাস্টিকের পাইপের মাঝে ১৩-১৫ টি ছিদ্র করে তা নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে ভর্তি করা হয় যাতে পাইপটি বেশি ভারী না হয় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। পাইপের প্রতিটি ছিদ্রের মাঝে একটি করে শাক-সবজির চারা যেমন স্ট্রবেরী, লেটুস, টমেটো, ওলকপি ইত্যাদি রোপণ করা হয়। চারাগুলির শিকড়কে এমন ভাবে পাইপের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যাতে তা নারিকেলের ছোবড়ার মাঝে ভালো ভাবে ছড়িয়ে থাকে। এরপর পাইপগুলিকে উলম্বভাবে একটি বাশের সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে নীচের দিকে একটি প্লাস্টিকের মগযুক্ত করে তাতে একটি চিকন পাইপ লাগিয়ে একটি নির্গমন পাইপের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। ফলে পাইপের উপর দিয়ে প্রবাহিত পানি পাইপের মাঝে অবস্থিত নারিকেলের ছোবড়া ও গাছের শিকড়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নির্গমন পাইপের সাহায্যে পুনরায় মাছের ট্যাঙ্কে এসে পড়ে।
মাছের ট্যাঙ্কে যাতে অক্সিজেনের অভাব না হয় তার জন্য একটি বায়ূ পাম্পের সাহায্যে পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানিকে একটি ছোট্ট পাম্পের সাহায্যে প্রতিটি পাইপের উপর দিয়ে তার মাঝে সরবরাহ করা হয়। এই পদ্ধতিতে মাছের ট্যাঙ্কে অ্যামোনিয়াযুক্ত দূষিত পানি নারিকেলের ছোবড়া ও গাছের শিকড়ের মাঝে বসবাসকারী ডি-নাইট্রিফায়িং ব্যাকটেরিয়া প্রথমে অ্যামোনিয়াকে ভেঙ্গে নাইট্রাইট ও পরে নাইট্রোব্যাকটর নাইট্রেটে পরিণত করে যা পাইপে অবস্থিত গাছকে পুষ্টির জোগান দেয় এবং পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এখানে কোন প্রকার মাটি, রাসায়নিক সার বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। মাটিতে যে স্থানে একটি মাত্র গাছের চারা লাগানো যায় সেই একই পরিমাণ স্থানে এ পদ্ধতিতে ১৩-১৫ টি চারা লাগানো সম্ভব।
মাছকে কি রকমের খাবার দিতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. সালাম বলেন, এ পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য বাড়তি কোনো ধরনের সার বা মাটির প্রয়োজন না পড়লেও মাছকে আলাদা খাদ্য বাইরে থেকে সরবরাহ করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই পদ্ধতির সফল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে আমাদের দেশে আগামী প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা সহজ ও টেকসই হবে। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও চাষযোগ্য জমির পরিমান দিন দিন হ্রাস পাওয়ায় এ উলম্ব (vertical) পদ্ধতি আমাদের দেশের জন্য খুবই উপযোগী। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাফল্য অর্জন করেছে।

error: কপি হবে না!