চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : বিএসএফ এবং বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আসা দামুড়হুদা উপজেলার জিরাট গ্রামে ভারতীয় হনুমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে গ্রামের কৃষকরা। মাঠের পর মাঠ আবাদি ফসল, আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফল-ফলাদি তারা রক্ষা করতে পারছেন না হনুমানের হাত থেকে। গুলতি, পটকা ও টিন বাজিয়েও মাঠের ফসল রক্ষা করতে না পেরে এলাকার কৃষকরা দিশেহারা।
দামুড়হুদার ভারত সীমান্ত পেরিয়ে গত এক মাস আগে প্রায় ৫০টি হনুমানের একটি দল উপজেলার মদনা ইউনিয়নের জিরাট গ্রামে প্রবেশ করে। গ্রামের কৃষক কিবরিয়া, নিজাম, শুকুর আলী, গোলাম মোস্তফা ও বসির উদ্দিন জানান, জমির পটল, মুগ, পাট, আম, লিচুসহ মাঠে থাকা ফসল এরা একাধারে ক্ষতি করছে। কোন কিছুই হনুমানের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। ফসল রক্ষা করতে গিয়ে স্থানীয়রা গুলতি ব্যবহার করলেও তা কোন কাজে আসছে না। জিরাট গ্রামের কৃষক কিবরিয়া হনুমানের অত্যাচারের কথা বলতে গিয়ে বলেন, তার মাঠে থাকা তিন বিঘা মুগ, পটল, আম ও পাট খেয়ে ফেলছে হনুমান। একই কথা বললেন বসির উদ্দিন। তার কলাগাছের দুটি কাদি হনুমান খেয়ে ফেলেছে। এছাড়া একই কথা বললেন অনেক কৃষক। হনুমানের খোঁজে গিয়ে দেখা যায়, একদল হনুমানকে পাওয়া যায় জিরাট গ্রামের সাবেক মেম্বার মৃত আনছার আলীর আমবাগানের মগডালে। ওই আমবাগানে দেখা যায় কয়েকজন বালক হনুমানগুলোকে লক্ষ্য করে গুলতি ছুঁড়ে মারছে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, হনুমানের আগমনের বিষয়টি কেউ তাকে জানায়নি। কৃষকদের ফসল রক্ষার্থে করণীয় সম্পর্কে তিনি তেমন কিছুই জানাতে পারেননি। দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আ.হ.ম শামিমুজ্জামান জানান, খাদ্যের জন্য জীবনবাজি রেখে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে একটি বড় হুনুমানের দল। বন্যপ্রাণী হত্যা করার কোন নিয়ম নেই। তবে হনুমান কামড়ালে র্যাবিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মদনা ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম জানান, হনুমান আসার বিষয়টি তাকে কেউ জানাননি। তবে খোঁজ নিয়ে করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।




