কেশবপুর(যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে কৃষরা ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল নেরিকা-১০ জাতের ধান আবাদে ঝুঁকে পড়েছে। উপজেলার বায়সা গ্রামের এক মাঠে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে ১০ বিঘা জমিতে কৃষরা এ জাতের ধান আবাদ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ উপলেক্ষ আয়োজিত মাঠ দিবসে অর্ধশত কৃষক উপস্থিত হয়।

জানাগেছে, অতীতে কেশবপুর উপজেলায় ব্যাপক ভাবে আউশ ধানের আবাদ হতো। কিন্তু আবহাওয়া অনুকুলে না থাকা, ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ও বিরামহীন বৃষ্টির কারণে ধান মাড়াইয়ে ঝামেলার জন্য এ অঞ্চলের কৃষকেরা পর্যায়ক্রমে আউশ আবাদের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। একথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন উচ্চ ফলনশীল কুদরত (নেরিকা মিউট্যাণ্ট) নেরিকা -১০ জাতের ধান উদ্ভাবন্ করেন। এ ধান আউশ, আমন ও বোরো এ তিন মৌসুমে চাষাবাদের উপযোগী। কৃষকের মাঠে ও বিএডিসির খামারে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় এ ধানের ফলন আউশ মৌসুমে হেক্টর প্রতি ৬ থেকে ৬.৫ টন এবং বোরো মৌসুমে ১০ টন ফলন রেকর্ড করা হয়।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দ্বীপজয় বিশ্বাস জানান,ড্রাম সিডার মেশিনে ধানের অঙ্কুরিত বীজ বপন পদ্ধতি আধুনিক ধান আবাদে যুগান্তকারি সৃষ্টি। যেখানে এক বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপনে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক লাগে, সেখানে এ মেশিন দিয়ে এক জন কৃষক অনায়াসে ২/৩ বিঘা জমিতে বীজ বপন করতে পারে। এ মেশিনের দুমাথায় বড় দুটি চাকা থাকে। মাঝখানে নির্দিষ্ট ব্যবধানে ৬ টি ড্রাম বসানো থাকে। এই ড্রামের ছিদ্র দিয়ে ৬ ইঞ্চি থেকে ৮ ইঞ্চি ব্যবধানে ধানের অঙ্কুরিত চারা রোপন করা যায়। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে ধানের বীজ সরাসরি ক্ষেতে বপন করা হয় বলে ধানের জীবন কালও ১৫দিন কমে আসে। অপরদিকে ধানের কুশির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ফলনও বেশি হয়। এ কথা কৃৃষকরা উপলদ্ধি করতে পেরে ড্রাম সিডার পদ্ধতির ধান চাষে কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। বায়সা ব্লকের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস-২ বিঘা,সিদ্দিকুর রহমান-৩ বিঘা, আমজাদ হোসেন-১ বিঘা, আমিনউদ্দীন-১ বিঘাসহ ওই গ্রামের ১২ জন কৃষক জমিতে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে কুদরত (নেরিকা মিউট্যাণ্ট) ধানের অঙ্কুরিত বীজ বপন করেছেন। এ উপলক্ষে অর্ধশত কৃষকের উপস্থিতে বুধবার অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দ্বীপজয় বিশ্বাস,জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
কৃষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিনি এই বছর ৩ বিঘা জমিতে ড্রাম সিডার মেশিনের সাহায্যে নেরিকা জাতের ধান আবাদ করেছেন। সরকারের আউশ ধানের প্রণোদনা প্যাকেজ হিসেবে তিনি ১০ কেজি বীজ,২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ও ১০ কেজি এমওপি সার পেয়েছেন। এছাড়া আগাছা দমন ও সেচ খরচ হিসেবে নগত ৬০০ টাকা পেয়েছেন। কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে ধান চাষ করে উৎপাদন খরচ অনেক কম হবে বলে তিনি আশাবাদি ।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সজ্ঞয় কুমার দাস বলেন, নেরিকা ১০ জাতের ধান স্বল্প জীবন কাল সম্পন্ন, আলোক অসংবেদনশীল, রোগও পোকামাকড় সহিষ্ণু ও অধিক পরিমানে সার গ্রহণ সম্পান্ন হওয়ায় সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ হিসেবে কেশবপুরে ১০০ জন কৃষক ১০০ বিঘা জমিতে আউশ মৌসুমে আবাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যা থেকে অতিরিক্ত ৮০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। কৃষকরা ড্রামসিডার পদ্ধতিতে এ ধান আবাদ করছে বলে ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জন্য চাষিদের সঠিক দিকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।




