অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : বরিশালের আগৈলঝাড়ার সাহেবেরহাট বন্দরের মাঝ রাস্তার একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে আবেদন জানিয়েও তাদের অবহেলার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অচিরে খুঁটিটি সরানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাহেবেরহাট বন্দরে প্রবেশপথে রাস্তার মাঝে অপরিকল্পিতভাবে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির অবস্থান থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছুতে না পারায় পর পর দু’বার অগ্নিকান্ডে বন্দরের ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। খুঁটিটি সরানোর জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ বাজারের ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। গত ২৯ ডিসেম্বর ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৪০টি দোকান ভস্মীভূত হয়ে যায়। তখন ওই খুঁটির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বন্দরের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থলে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ পরির্দশনে এলে ব্যবসায়ীদের দাবি আমলে নিয়ে খুঁটিটি দ্রæত সরিয়ে দেয়ার কথা বলেন। একপর্যায়ে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ আগৈলঝাড়া এলাকার চেয়ারম্যান ইদ্রিসুর রহমান খুঁটি সরানোর প্রতিশ্রæতি দেন। তিনি সেসময় দু’দিনের মধ্যে খুঁটি সরানোর কথা বললেও তা অজ্ঞাতকারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। গত ৫ এপ্রিল শুক্রবার ভোররাতে সাহেবেরহাটে আবারও আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ওই খুঁটির জন্য ভেতরে ঢুকতে পারেনি। বাজার কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু, ব্যবসায়ী সোহরাব হাওলাদার. রনজিৎ মন্ডল. জগদীশ সরকার, হালিম কাজীসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, খুঁটি সরানোর জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বহু আবেদন নিবেদন করেও তাতে এখন পর্যন্ত কোন কিছুই হলনা।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আগৈলঝাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম সুদাস চন্দ্র রক্ষিত সাংবাদিকদের জানান, এলাকার লোকজন খুঁটিটি সরানোর জন্য জানিয়েছে। এবিষয়ে হেড অফিসে লিখিত আবেদন করেছি। আশাকরি ষ¦ল্প সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়িত হবে।
আগৈলঝাড়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলে
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি এক পরীক্ষাথির্নী
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি এক পরীক্ষার্থিনী। এব্যাপারে ওই পরীক্ষার্থিনী উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার কাছে লিখিত দায়ের কয়েছে। তিনদিনের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নিদের্শ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রতœপুর ইউনিয়নের মোহনকাঠী আদর্শ স্কুল এ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ছাত্রী সোমাইরপাড় গ্রামের দরিদ্র মন্মথ অধিকারীর মেয়ে অসীমা অধিকারী নিয়মিত পড়াশুনা করে চলতি ২০১৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করে। কিন্তু কলেজের শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে বোর্ড থেকে অসীমার নাম প্রবেশপত্রে ভুল এন্ট্রি হয়। অসীমা বিশয়টি কলেজের অধ্যাপিকা সেলিনা আক্তারকে জানালে তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে বসতে বলেন এবং সমস্যার সমাধান করে দেবার কথাও জানান। সে পরীক্ষা দিতে গেলে প্রবেশপত্রে নামের ভুলের কারণে কেন্দ্রে থেকে কলেজ অধ্যাপক মনির মিয়া বের করে দেয়। অসীমা পরীক্ষা দিতে না পারায় তার জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে যায়। ফলে দরিদ্র পরিবার তার পড়াশুনা নিয়ে সংশয়ে পরেছে। এব্যাপারে গত রোববার বিকেলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্ণিং বডির সভাপতি মো. আবুল কালাম তালুকদারের কাছে অসীমা অধিকারী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তিনদিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নিদের্শ দিয়েছেন। এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণেই অসীমা পরীক্ষা দিতে পারেনি। তাই চলতি বছরে প্রবেশপত্রের জন্য তার কাছ থেকে নেয়া পাঁচশ’ টাকা তারা ফেরৎ দেবে। এছাড়া আগামী বছর পরীক্ষার ফরমফিলাপসহ সকল ব্যয় কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যয় নির্বাহ করার সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে।





