স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে অপকর্মের প্রতিবাদী এক সমাজসেবক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার ৮ দিন পরও গ্রেফতার হয়নি কোন দুর্বৃত্ত। বরং উল্টো প্রতিবাদমুখর এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলাসহ তাদের নানাভাবে নাজেহালের পায়তারা করছে। এ নিয়ে এলাকার জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।

জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের জনৈক নুর মোহাম্মদ, আব্দুর রশিদ ও ফকরুলদের নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এলাকাবাসী। তাদের ওইসব অপকর্মে এলাকাবাসীকে প্রতিবাদী করে তোলেন স্থানীয় সমাজসেবক বয়োঃবৃদ্ধ হাজি নুর ইসলাম। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কাছে লিখিতভাবেও একাধিকবার অভিযোগ করে অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধে। এতে হাজি নুর ইসলামের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই দুর্বৃত্ত চক্র। ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হাজি নুর ইসলামকে তার নিজস্ব মেশিন ঘরে একা পেয়ে একই গ্রামের দুর্বৃত্ত চত্রের হোতা নূর মোহাম্মদ এবং তার সহযোগী আব্দুল রশিদ ও ফকরুল গংরা ওই মেশিনঘরে হানা দিয়ে তাকে মারপিটে গুরুতর আহত করে। ওই ঘটনায় নুর মোহাম্মদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি কোন দুর্বৃত্ত।
অন্যদিকে ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার দুপুরে আহত হাজি নুর ইসলামের জ্ঞাতিগোষ্ঠির লোকজনসহ প্রায় ৫ শতাধিক বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই দুর্বৃত্তদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। ওইসময় বাড়ির লোকজন আত্মরক্ষায় বাড়ি-ঘর ফেলে অন্যত্র চলে গেলে তারা ৩ টি বাড়ির ৮টি টিনের ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনায় অপকর্মের প্রতিবাদী হাজি নুর ইসলামের জ্ঞাতিগোষ্ঠিসহ নিরীহ এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে থানায় মামলাসহ নানাভাবে হয়রানীর পায়তারা করছে। ক্ষতিগ্রস্থরা নিজেদের বিএনপি সমর্থক এবং হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে দাবি করলেও এলাকাবাসী জানিয়েছে, ঘটনাটি কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের হিসেবে নয়। তারা জানায়, ক্ষতিগ্রস্থরা প্রকৃতপক্ষে দুষ্ট প্রকৃতির লোক এবং এলাকার বেশীর ভাগ মানুষ তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছে।




