এম. এ করিম মিষ্টার, নীলফামারী : নীলফামারীর সৈয়দপুরে আটকেপড়া অবাঙালিদের (বিহারী) ২২টি জরাজীর্ণ ক্যাম্পের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ নীলফামারী-৪ ( সৈয়দপুর- কিশোরীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শওকত চৌধুরী স্বউদ্যোগে এ কাজ শুরু করেছেন। জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরে ২২টি আটকেপড়া অবাঙালি ক্যাম্প রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব ক্যাম্পের কয়েক হাজার অবাঙালি (উর্দুভাষী) পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ছোট ছোট খুপড়ি ঘরে পরিবার- পরিজন নিয়ে তারা অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এসব অবাঙালি ক্যাম্পে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাপন একেবারে দুর্বিষহ। তাদের নেই রাতে শোয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গার। অনেক পরিবারের সদস্যদের রাতে পালাক্রমে ঘুমাতে হয়। অবাঙালি ক্যাম্পগুলোতে নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক ল্যাট্রিন, গোসলখানা কিংবা পয়:প্রণালি নালা-নর্দমা। যে যৎসামান্য রয়েছে তাও আবার দীর্ঘদিন সংস্কার কিংবা মেরামতের অভাবে একেবারে জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।

নির্মাণের পর দীর্ঘ ২৫/৩০ বছর অতিবাহিত হলেও এসব সংস্কার কিংবা মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তারপরেও আটকেপড়া ক্যাম্পবাসী ব্যবহার অযোগ্য জরাজীর্ণ এসব ল্যাট্রিন ও গোসলখানা ব্যবহার করে আসছিলেন প্রয়োজনের তাগিদে বিপদে পড়ে অনেকটা নিরুপায় হয়ে। বিগত দিনগুলোতে অবাঙালি ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী উর্দুভাষী মানুষেরা তাদের এসব দু:খ-দুর্দশার কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবগত করলেও তারা কোন কর্ণপাত করেননি। নেননি এসব সংস্কার কিংবা মেরামতের কোন উদ্যোগও। যদিও অবাঙালি পরিবারগুলো জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েছেন।
এদিকে আলহাজ্ব মো. শওকত চৌধুরী বিরোধী দলের হ্ইুপ নির্বাচিত হওয়ার পর সৈয়দপুর শহরের আটকেপড়া ২২টি ক্যাম্পের অবাঙালি ক্যাম্পের নেতৃবৃন্দ তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাদের দু:খ-দুর্দশার কথা শুনে সৈয়দপুরের বেশ কয়েকটি অবাঙালি ক্যাম্প সরজমিনে পরিদর্শনে যান। তিনি নিজ উদ্যোগে সেসব সংস্কার ও মেরামতের অঙ্গীকার করেন। তিনি ক্যাম্পের ল্যাট্রিন, গোসলখানা ও পয়:প্রণালী নালা- নর্দমা সংস্কার ও পূণ: মেরামতের জন্য ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। হুইপের দেয়া ব্যক্তিগত অর্থে এসব সংস্কার ও মেরামত কাজ শুরু হয়েছে।




