ভোলাহাট(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ কে জানে মানবপাচারকারির থাবায় নিজের সর্বস্ব হারাতে বিদেশ পাড়ি জমাতে হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার তেলীপাড়া গ্রামের অসহায় দরিদ্র এক নারী কুরবান আলীর স্ত্রী। দরিদ্র পিতা-মাতা, স্বামী ও ভাই-বোনের দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে বাবা-মার বাস্তুভিঠা ও এনজিও সংস্থায় লোন নিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকা মানবপাচারকারীকে জমা দিয়ে ২০১১ সালে গৃহকর্মীর চাকুরির নিয়ে পাড়ি জমায় লেবাননে। একই উপজেলার একই গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী মানবপাচারকারী চক্রের হতা ফুলসানা(২৮) ও তার ভাই মৃত সিরাজের ছেলে ফজলুর রহমান ফজুর(৪৫) বিষাক্ত থাবার কথা না বুঝে ১৩ মে/১১ ইং তারিখে লেবানের বিমান বন্দরে পৌঁছলে এ নারীকে অপরিচিত এক ব্যক্তি রিসিভ করে মেডিকেল পরীক্ষা করে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে উলেখিত মানবপাচারকারি এলাকার একাধীক নারীকে লোভ দেখিয়ে লেবাননে অবস্থানরত একই উপজেলার একই গ্রামের তার দু’বোন আকরাম আলীর স্ত্রী নাসিমা অরফে নাসো ( ৪০) ও তাঁতীপাড়া গ্রামের লুতুব উদ্দিনের স্ত্রী মাহমুদা বেগম ( ৩০)এর নিকট পাঠালে গৃহকর্মীর কাজ না দিয়ে বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য করে। এ নারীর ক্ষেত্রেও তাই ঘটে। অপরিচিত ব্যক্তির বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীর কাজের পরিবর্তে ঐ ব্যক্তি ও তার গাড়ীর ড্রাইভারের ধর্ষণনের শিকার হয় এ নারী এবং অবস্থা বেগতিক হলে এক পর্যায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়ার প্রস্তুতি নেয় সে। এমন পরিস্থিতিতে লেবাননে অবস্থানরত ঐ দুপাচারকারির নিকট পৌঁছে দেয় ধর্ষিতাকে ধর্ষণকারি। এক পর্যায়ে নানা কৌশল করে আবার পাচারের শিকার এ নারীর পরিবারের নিকট থেকে মুক্তি পণ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে ১১দিনের মাথায় অসুস্থ্য অবস্থায় বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠায় লেবাননে অবস্থানরত দু’বোন। বাড়ীতে ফিরে শারীরিক চিকিৎসা করে কিছুটা সুস্থ্য হলে ১/০৬/২০১১ ইং তারিখ ভোলাহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ০৩ এর ৫(১)৩০ ধারায় মামলা করে মানবপাচারের শিকার এ নারী। মামলা চলতে থাকা অবস্থায় পাচারকারী এ চক্র পাচারের শিকার এ নারী ও তার পরিবারসহ মামলার স্বাক্ষিদের বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নেয়াসহ নানা হুমকি অব্যহত রাখে। ফলে থানায় ২ দফায় জিডি করেন। পাচারকারি নিজেদের বাঁচাতে অসহায় এ পরিবারের ৯জন সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা করলে তাদের জেল হাজতে নেয়া হয়। এক পর্যায়ে মিথ্যা অপহরণ মামলাটি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয় । বর্তমানে র্দীঘ সময় ধরে আদালতে মামলাটি চলমান থাকায় গ্রেফতার হওয়া পাচারকারি ফুলসানা জেলহাজত থেকে বের হয়ে আবারও হুমকি ও পাচারের শিকার এ নারীকে সমাজে হেয় করতে নানা গুজব ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে এ নারীটি স্বামীকে নিয়ে লোক লজ্জার ভয়ে ভোলাহাট ছেড়ে বগুড়ায় আত্মগোপন করেছেন কেঁদে কেঁদে এ সব বলছিলেন পাচারের শিকার এ নারী। তিনি আরো বলেন, আমার পাচারের ঘটনায় বেশ কয়েকবার পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। পত্রিকার খবর দেখে জাতীয় আইন সহায়তা সংস্থা তাকে আইনী সহায়তা করতে আসলেও পিপি জাতীয় আইন সহায়তা সংস্থার এ্যাডভোকেটকে আদালতে কাগজপত্র জমা দিতে না দেয়ায় তিনি কাজ করতে পারেন না। এ দিকে আদালতে মামলাটি প্রায় ৩ বছর যাবত চলতে থাকায় জামিনে মুক্ত আসামী নানা প্রকার এলাকায় কথা বলে বেড়ায় লোক লজ্জার ভয়ে স্বামীকে নিয়ে বগুড়ায় বসবাস করছেন বলে জানান।




