তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে করিডোর রেল লাইন নির্মাণের দাবি বহু দিনের। উন্নত দেশের ন্যায় রেলওয়ে পরিবহনে আধুনিক প্রযুক্তির এ ব্যবস্থা চালু হলে রাজধানী ঢাকার সাথে লাকসাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত পথের দূরত্ব কমবে প্রায় ৩শ’ কিঃমিঃ আর সময় বাঁচবে অন্তত: ৫ঘন্টা। এতে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনার পাশাপাশি বৃহত্তর ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নসহ রেলওয়ে পরিবহনে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

জানা যায়, বর্তমানে কক্সবাজার থেকে ঢাকা আসতে সময় লাগে প্রায় ১০-১২ ঘন্টা। কিন্তু দুর্ঘটনাসহ দৈব দুর্বিপাকে পড়লে যাত্রীদের সারাদিনই কাটে পথে। দেশের রাজধানী ঢাকা, বানিজ্যিক নগরী ও সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আঞ্চলিক মহাসড়কে যানজটের দুর্ভোগ থেকে যাত্রীদের বাঁচাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-লাকসাম-চট্টগ্রাম- কক্সবাজার রুটে রেলওয়ে করিডোর সিস্টেম চালুর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিলো বৃটিশ সরকারের শেষ সময়ে। যুদ্ধ-বিগ্রহসহ নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। দেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন সরকারের আমলেও বিষয়টি তিমিরেই রয়ে গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়সহ এ অঞ্চলের জীবন মান বৃদ্ধি পাবে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে বৃহত্তর সুবিধা বয়ে আনবে।
বর্তমানে রেলপথ রয়েছে ২৭৯৮.০৮ কিঃমিঃ। ঢাকা থেকে লাকসাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলওয়ে করিডোর নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ রুটে রেলওয়ে করিডোর তথা আধুনিক এ রেলপথ স্থাপিত হলে পুর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের চেহারা পাল্টে যাবে। বিশেষ করে ঢাকা-নারায়নগঞ্জ- দাউদকান্দি-লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত কর্ডলাইন স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলওয়ে করিডোর আর্ন্তজাতিক রেলওয়ে সংযোগেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, তৎকালীন বৃটিশ সরকারের ১৮৬২ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত ২৮৩৫কিঃমিঃ রেলপথ চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ট্রেন যোগাযোগ পরিবহন সেক্টরে বিশেষ স্থান করে নেয়। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ সরকারের বিদায়ের পর বর্তমান বাংলাদেশ অংশে রেলপথ বেড়েছে অত্যন্ত কম। কিন্তু জনসংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। বর্তমানে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বিপরীতে উন্নত আধুনিক রেলওয়ের বিকল্প না থাকলেও রেলওয়ে সেক্টরে এক বন্ধ্যা অবস্থা বিরাজ করছে। তার উপর চেপে বসেছে অর্থ ও জনবল সংকট।
রেলপথের সমন্বিত উন্নয়ন দেশের পুরো পরিবহন সেক্টরের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। অত্যধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ জনপদে মানুষের সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যোগাযোগে রেলওয়ের ভূমিকা অনস্বিকার্য। এ অঞ্চলে আরো নতুন ৩শ’ কিঃমিঃ আধুনিক রেলপথ স্থাপিত হলে পবিরহন সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন গঠবে বলে সূত্র আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, লাকসাম-চিনকি আস্তানা ডাবল রেল লাইন সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে। ফাইল বন্দি রয়েছে ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম কর্ডলাইন। অন্যদিকে, চাপা পড়ে যাওয়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গণমানুষের প্রানের দাবি ‘ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-লাকসাম-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার’ পর্যন্ত রেলওয়ে করিডোর সিষ্টেম আধুনিক রেলপথটি স্থাপিত হলে গণদাবি পূরণের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়ন ঘটবে।
দাতা সংস্থাগুলো আন্তরিক হলে এই রুট হতে পারে বিশ্বের একটি অন্যতম রেলপথ। অমীয় সম্ভাবনায় এই রেলপথ দেশের সার্বিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। দেশের রাজধানী ম্যাগাসিটি ঢাকা, পৃথিবীর অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার, প্রধান বানিজ্যিক ও সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম, সমুদ্র বন্দর ও শিল্প নগরী নারায়নগঞ্জ, ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর জন্মস্থান ও পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের প্রবেশদ্বার কুমিল্লার লাকসামে অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়ন হলেও রেলপথ সেক্টরে উল্লেখযোগ্য তেমন উন্নয়ন ঘটেনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, যানজটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সৃষ্ট নিদার”ন চাপ উল্লেখিত রেললাইন স্থাপনের মাধ্যমে হ্রাস পেতে পারে।




