ads

বৃহস্পতিবার , ১৬ জানুয়ারি ২০১৪ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শীতে কাঁপছে সাতক্ষীরাবাসী

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জানুয়ারি ১৬, ২০১৪ ১:২২ অপরাহ্ণ

Satkhiraনজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : হাঁড় কাপানো শীতে কাঁপছে সাতক্ষীরাবাসী। শৈত্য প্রবাহে প্রকৃতিতে জবুথবু অবস্থা। মঙ্গলবার কয়েক ঘন্টা সূর্যের দেখা মিললেও বুধবার দিনভর সূর্যের আলো দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশা আর মেঘের আড়ালে দিনভর লুকোচুরি খেলেছে সুয্যিমামা। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় দিনভর নিতান্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হয়নি। শহরের দোকানপাট খোলা থাকলেও শহর ছিলো ফাঁকা!
একখন্ড গরম কাপড়ের জন্য ফুটপাতে দোকানগুলোতে ছিলো গরীব মধ্যবিত্তদের ভিড়। হেমন্তের ফসলভরা মাঠ- নি:স্ব রিক্ত হওয়ার পর প্রকৃতির রঙ্গ মঞ্চে কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে জেকে বসেছে শীত। শীতের নিষ্ঠুর কামড় সহ্য করতে হচ্ছে গরীব-ছিন্নমূল মানুষের। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো পক্ষ থেকে গরীব-অসহায় ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে গরম পোষাক বিতরনে সাধ্যমত চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এদিকে বুধবার দিনভর শৈত্য প্রবাহে জনজীবনে চরম দূর্ভোগে নেমে আসে। হাঁড় কাপানো শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হননি। গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার গুলোও ছিলো অন্যদিনের তুলনায় ফাঁকা। শীতৈর তীব্রতা পশু-পাখির মধ্যে ও লক্ষ্য করা গেছে। গবাদিপশুগুলোকে চটের বস্তা বা চট দিয়ে গরম রাখার চেষ্টা করছেন মালিকরা। আগুনের কুন্ডলি তৈরি করে উত্তাপ নেয়ার দৃশ্যও ছিলো চোখে পড়ার মতো। শীতের কামড় থেকে রক্ষা পেতে অনেকে লেপ-কাঁথা-কম্বল গায়ে জাড়িয়েছেন। গরীব- অসহায় ছিন্নমূল পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের শরীর ঢাকা পড়েছে লেপ কাঁথার আবরনে। কোথাও কোথাও এসব পরিবারের সদস্যদের উদোম গায়ে কাঁপতে দেখা যায়। আবহাওয়ার এমন অবস্থায় কোন সূখ খবর দিতে পারেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর। শীতের তীব্রতা ও শৈত্য প্রবাহ নাকি আরো কয়েকদিন বলবত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মোঃ আব্দুল গফফার জানান, গত দুদিনে তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেয়ে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে দাঁড়িয়েছে। প্রতি ৩ ঘন্টা পরপর তাপমাত্রা রেকর্ড করার কথা উলে­খ করে তিনি আরো জানান, বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের গতি ঘণ্টারয় ২ নটিক্যাল মাইল সর্বোচ্চ। এর আগে মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিলো ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার বাতাসের গতিবেগ ছিলো উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ঘন্টায় ৩ নটিক্যাল মাইল। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াম এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের গতিবেগ ছিলো উত্তর থেকে দক্ষিন দিকে ঘন্টায় ৩ নটিক্যাল মাইল। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৪দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের গতিবেগ ছিলো উত্তর থেকে দক্ষিণে ঘন্টায় ৫ নটিক্যাল মাইল।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরায় ও প্রবাহিত হচ্ছে শৈত্য প্রবাহ। যদিও তাপমাত্রার রেকর্ড অনুযায়ী একে ঠিক শৈত্য প্রবাহ বলা যায় না। তবে তাপমাত্রা রাতে আরো কমতে পারে। সেক্ষেত্রে শীত জেঁকে বসতে পারে। আবহাওয়ার এ অবস্থা কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানান তিনি। এদিকে তীব্র শীতের কারনে শিশুদের নিউ মোনিয়া, সর্দি, কাশি ও জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল ও ক্লিনিক সূত্রগুলো। শিশু জ্বর ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। শিশুদের ঠান্ডাজনিত ডাইরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব ও দেখা দিয়েছে বলে জানায় সূত্র। অন্যদিকে তীব্র শীত জেলার বোরো চাষে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশংকা করছেন চাষীরা। কৃষকরা জানান, শীতের তীব্রতায় বোরো ধানের রোপনকৃত চারা লালতে হয়ে মারা যেতে পারে। সাতক্ষীরা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গণেশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আবহাওয়ার এ অবস্থা বলবত থাকলে সদ্য রোপনকৃত এবং দেরি করে ফেলানোর বীজ তলার চারা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ধানের চারা লালচে হয়ে মারা যেতে পারে। তবে সন্ধ্যায় বীজ তলা এবং ধান ক্ষেতের পানি পরিবর্তন করলে এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!