• শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিকরণের দিকে যাচ্ছে : শেরপুরে খামারবাড়ির মহাপরিচালক আশ্রয়ণের ঘরের দরজা-জানালায় হাতুড়ি-শাবলের চিহ্ন পেয়েছি : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রেন থেকে মিসাইল ছুড়ে পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া শ্রীবরদীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৫ আমার সমর্থকরা শ্রেষ্ঠ সমর্থক : সাকিব আল হাসান আট জেলায় শনাক্তের হার ৫% এর নিচে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবে উদ্বেগের কিছু নেই : তথ্যমন্ত্রী দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ৮৬২ ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেফতার
/ Uncategorized

শিক্ষায় সংস্কৃতির সম্পর্ক

/ ৩৭২২ বার পঠিত
প্রকাশকাল : শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৪

Jashim : শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক অতি নিবিড়। সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হল শিক্ষা। নিজস্ব সংস্কৃতির গঠন,উন্নয়ন,পূর্ণাঙ্গতা প্রদান এবং প্রকাশ সাধন করাই হচ্ছে শিক্ষার কাজ। তাই কোন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কৃতির প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি সমাজের চাহিদা। সমাজের সাথে সংস্কৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোন সমাজে যদি ধর্মের প্রভাব প্রবল থাকে,তবে সে দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে ধর্মের প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। আবার কোন দেশের সংস্কৃতিতে যদি ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের প্রভাব থাকে,তবে শিক্ষায়ও এর প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ কোন সমাজের শিক্ষায় তার সংস্কৃতির প্রভাব সুস্পষ্ট। একটি দেশের সংস্কৃতি যদি তত উন্নত মানের না হয়,তাহলে সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাও অতি সাধারণ মানের হয়ে থাকে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম অতি সাধারণভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে। কাজেই কোন সমাজের শিক্ষার ধরন ঐ সমাজের শিক্ষার প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। কারণ বিদ্যালয় শিক্ষার একমাএ সংস্থা নয়। শিক্ষার আরও অনেক সংস্থা আছে। শিশুর শিক্ষায় এসকল সংস্থা জীবনের শুরু থেকেই প্রভাব রাখে। তাই বলা হয় ”society makes a man and man makes a society” সুতরাং শিশুর শিক্ষা ক্ষেত্রে তার পরিবেশ ও সমাজের কথা বিবেচনা না করে কোন কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। সমাজের সংস্কৃতি যেমন একদিকে শিক্ষাকে প্রভাবিত করে, অপরদিকে সমাজ শিক্ষার মাধ্যমে সংস্কৃতির বিকাশ এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। সংস্কৃতির বিকাশে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঞ্চালন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উন্নয়ন এ দুধরনের দায়িত্ব পালন করে। সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ও ভাল দিকগুলো অন্যদের এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষার। শিক্ষার বিষয় বস্তুতে সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্তকরণের মাধ্যমে সংস্কৃতির সঞ্চালন সম্ভব হয়। কেবলমাএ বাহ্যিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করলেই হবেনা,জীবনের বাস্তব ক্ষেএে শিক্ষার্থীরা সেগুলো অনুসরণ করে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে শিশুর মানসিক চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে সংস্কৃতির সঞ্চালন হবে শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। শিক্ষার দায়িত্ব কেবল সংস্কৃতিকে ধরে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংস্কৃতির উন্নয়নও শিক্ষার দায়িত্ব। জ্ঞান,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে আমাদের জীবন পদ্ধতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যদি আমরা এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারি তবে সংস্কৃতির ক্ষেএে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি হবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে আমাদের অবশ্যই খাপ খাওয়াতে হবে। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা শিক্ষার দায়িত্ব। কিন্তু সবসময় সকল পরিবর্তন সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সকল উন্নয়ন অন্ধভাবে অনুকরণ না করে যা সমাজ ও সংস্কৃতির উন্নয়নে সহায়ক ততটুকুই গ্রহণ করা উচিত। সব সমাজের নিজস্ব ভাষা আছে,অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আছে এবং নিজস্ব মূল্যবোধ ,ঐতিহ্য,মনোভাব,প্রথা ইত্যাদি রয়েছে। এগুলো সংস্কৃতির বিশ্বজনীন উপাদান। কিন্তু তা সত্তে¡ও সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছে বিভিন্নতা। এ সম্পর্কে দুটো বৈশিষ্ট্য হল প্রতিটি সমাজের আলাদা সংস্কৃতি আছে এবং একই সমাজের মধ্যে সংস্কৃতির বিভিন্নতা ও বিভিন্ন উপ সংস্কৃতি আছে। আমরা সবাই বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। আবার এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মের ও উপজাতি বা আদিবাসীর নিজস্ব সংস্কৃতি। উপজাতীয়রা বা আদিবাসীরা এক ধরনের পোষাক পরিধান করে। আবার মূল ধারার বাঙালিরা আরেক ধরনের পোষাক পরে। বিভিন্ন ধর্মের লোকদের বিবাহ অনুষ্ঠান,মৃত্যুর পরে  সৎকার পদ্ধতি পৃথক। সংস্কৃতির এই অন্তঃবিভিন্নতা ছাড়াও রয়েছে আন্তঃবিভিন্নতা। যেমন-বাঙালি সংস্কৃতি ও ব্রিটেনের ইংরেজ জাতির সংস্কৃতি আলাদা। এছাড়া পরিবেশের সাথে অভিযোজন প্রক্রিয়ার বিভিন্নতার কারণে অনেক সময় একই সংস্কৃতির ভিতর বিভিন্ন উপসংস্কৃতির সৃষ্টি হয়। যেমন,গ্রামাঞ্চলে পল্লীগীতি,ভাওয়াইয়া ইত্যাদি গানের প্রভাব রয়েছে। সংস্কৃতির বিভিন্নতার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বিষয়ে সঠিক ধারণা ও নির্দেশনা  দিতে হলে শিক্ষকের এসব বিভিন্ন সংস্কৃতি ও উপসংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। সেই সাথে সকল সংস্কৃতির প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে হবে। সংস্কৃতির বিভিন্নতা অনেক সময় স্বজাতিকেন্দ্রিকতার জন্ম দেয়। এই বিভিন্নতা যেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বজাতিকেন্দ্রিকতার জন্ম না দেয় সেদিকে বিদ্যালয় তথা শিক্ষা ব্যবস্থায় খেয়াল রাখতে হবে। স্বজাতিকেন্দ্রিকতা হল নিজ সংস্কৃতিকে অন্য সংস্কৃতির তুলনায় উন্নত ভাবা অথবা অন্য সংস্কৃতিকে নিকৃষ্ট ভাবা। এ ধরনের সংকীর্ণ ভাবনা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আসলে প্রতিটি সংস্কৃতি নিজ বৈশিষ্ট্যে অনন্যএবং এ ধরনের গুণগত তুলনা হওয়া উচিত নয়। শিক্ষার দায়িত্ব হল এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণা দূর করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে সঠিকভাবে পরিচয় করানো। বিদ্যালয় সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য পাঠ করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে। অন্য সংস্কৃতির প্রতি শিক্ষার্থীদের সহিষ্ণু হতে শেখাবে যাতে তারা কোন সংস্কৃতিকে অশ্রদ্ধা না করে। শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে গণতন্ত্রের সফলতা নির্ভর করে সকলের সহযোগিতার ওপর। সুতরাং সংস্কৃতির বিভিন্নতাকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া যাবে না। বরং সকল সংস্কৃতিকে সম্মান দেখানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিন্ন মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে।
লেখক : জসীম উদ্দিন তালুকদার । একজন সংবাদকর্মী, E-mail:[email protected]


এই বিভাগের আরও খবর
error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!