পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার রিটার্নিং অফিসার মেরুদন্ডহীন, পুলিশ সুপার পক্ষপাতদুষ্ট এবং ওসিরা ক্যানভাসার। এদের স্বপদে বহাল রেখে কোনমতেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। পাবনা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু আইয়িদ ২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ওইসব অভিযোগ করেন। তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুরও অপসারন দাবী করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাবনার রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন মেরুদন্ডহীন, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ পক্ষপাতদুষ্ট এবং বেড়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম, সাঁিথয়া থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ ও আতাইকুলা থানার ওসি রেজাউল করিম সরাসরি শামসুল হক টুকুর পক্ষে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনী অচরনবিধি লংঘন করে টাকার বস্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ‘তিনি ভোটারদের নানাভাবে ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি বারবার নিরাপত্তা চেয়েও পাচ্ছিনা। অথচ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৫/৬ গাড়ী র্যাব পুলিশ নিয়ে চলাফেরা করছেন। তার কর্মি ও সমর্থকদের পুলিশের সাথে যোগসাজশে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানী করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আমি এবং আমার সমর্থকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বার বার বললেও পাবনা-১ আসনে নির্বাচনের নামে চলছে প্রহসন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু প্রতি নিয়ত নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন করে প্রধান মন্ত্রীর বক্তব্য’র প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করছেন। শামসুল হক টুকু তার ভরাডুবি বুঝতে নির্বাচনে বিশৃংলা সৃষ্টি ও এলাকায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরী করছে। তিনি বলেন, বিধি অনুযায়ী আমার নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, কিন্তু কোন গানম্যান বা আইন শৃংখলা বাহিনী আমাকে কোন নিরাপত্তা দিচ্ছে না। আমাকে এবং আমার কর্মি, সমর্থকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও তার ভাই পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন। পুলিশ প্রশাসন তাদের আজ্ঞাবহ হিসেবে এই অপকর্ম করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া ও আতাইকুলার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নৌকা প্রতিক গাড়ীতে লাগিয়ে ওপেনে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ক্যানভাস করছে এবং ভোট চাচ্ছে। আবু সাইয়িদ বলেন, নির্বাচন কমিশনে এবং পাবনার পুলিশ সুপারকে লিখিত ভাবে এসব বিষয় জানানোর পরেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘মেরুদন্ডহীন’, পাবনার পুলিশ সুপার ‘পক্ষপাত দুষ্ট‘. ও পাবনা-১ নির্বাচনী এলাকার তিন থানার ওসি ‘ক্যানভাসার‘উল্লেখ করে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, পুলিশ সুপার এবং তিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ ও শাস্তির দাবী জানান। একই সাথে তিনি তার নিরাপত্তা বিধানের জোর দাবী করেন। তিনি বলেন, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে এই নির্বাচনে আমি শুধুমাত্র অংশ নিয়েছি দেশবাসীকে বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্¦রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও তার লোকজন কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে নির্বাচনে, এসব টাকার উৎস সর্ম্পকেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি আরো বলেন নির্বাচনী এলাকায় তোরণ নির্মাণের নিষেধাঙ্গা থাকলেও অসংখ্য তোরণ নির্মান করেছে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আমার সভা সমাবেশ বাধা দেয়া হচ্ছে কিন্তু টুকুর সভা সমাবেশে পুলিশ সহযোগিতা করে বাস্তবায়ন করে দিচ্ছে। বাড়ী বাড়ী পুলিশ আমার ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমার কর্মী সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করছে। অনেককে গ্রেফতার করছে। লেবেল প্লেইং ফিন্ডের নামে তামাশা করা হচ্ছে। আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি শুধু মাত্র সরকার কেমন নির্বাচন করে তা পর্যবেক্ষনের জন্য। আমি শেষ পর্যন্ত এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই যাবো। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনিই বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। নির্বচনের আচরণ বিধি ভংঙ্গের দায়ে তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর পদত্যাগ দাবী করেন। সেই সাথে তিনি সংবাদ কর্মিদের ৫ জানুয়ারী পর্যন্ত তার নির্বাচনী এলাকা পর্যবেক্ষনের আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড, আমিনুল ইসলাম পটল, প্রফেসর কৃষিবিদ জাফর সাদেকসহ তার সমর্থক ও কর্মিবৃন্দ।
এদিকে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এর সংবাদ সম্মেলনে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, অধ্যাপক আবু সাইয়িদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সবাই জানেন। তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিরোধী দলের ভাষায় কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে আচরন বিধি লংঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আরো বলেন, আবু সাইয়িদ সংধিানের বাধ্যবাধকতার এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন প্রয়াসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।




