ads

বুধবার , ৪ ডিসেম্বর ২০১৩ | ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

তানোরে সরকারি পুকুর ও খাড়ি সংস্কার হলে পাল্টে যাবে অর্থনৈতিক চিত্র

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
ডিসেম্বর ৪, ২০১৩ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
তানোরে সরকারি পুকুর ও খাড়ি সংস্কার হলে পাল্টে যাবে অর্থনৈতিক চিত্র

ইমরান হোসাইন, তানোর : রাজশাহীর তানোরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত সরকারি খাস খাড়ি ও পুকুর, জলাশয়গুলো প্রভাবশালীদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করে সংস্কার করা হলে পাল্টে যাবে এখানকার অর্থনৈতিক চিত্র। সরকারের এসব খাস খাড়ি ও পুকুর জলাশয় সংস্কার করে প্রকৃত ভূমিহীন ও হতদরিদ্রদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হলে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হবে। এতে করে ভূমিহীন ও দরিদ্ররা অর্থনৈতিক ভাবে মুক্তি পাবে। স্থানীয়দের দাবি এসব খাড়ি ও পুকুর জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করে প্রকৃতি মৎস্যজীবিসহ হতদরিদ্র ও জনসাধরণের ব্যবহারে উম্মুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, তানোর উপজেলায় প্রায় সাড়ে নয়শত সরকারি খাস পুকুর ও জলাশয় রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫০ কিলোমিটার দৈঘ্যের ১৫টি খাড়ি রয়েছে। এসব খাড়ি ও পুকুর জলাশয়গুলো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে। সরকারের এতসব খাড়ি ও পুকুর-জলাশয় থাকলেও এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের কোন উপকারে আসছে না। এনিয়ে কলমা ইউপির দিব্যস্থল গ্রামের কৃষক আসগর আলী(৪৫) বলেন, দিব্যস্থল মাঠে তাঁর আট বিঘা ফসলি জমি রয়েছে। কিন্তু সেচ সঙ্কটের কারণে রবি মৌসুমে তাঁর জমিতে কোন ফসল উৎপাদন করতে পারেন না। প্রতি রবি মৌসুমে জমিগুলো অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে। অথচ তাঁর পার্শ্বের ইউনিয়ন তালন্দ ইউপিতে গভীর নলকুপ থেকে সেচ নিয়ে কৃষকরা সারা বছর চাষাবাদ করছেন। কলমা ইউপির চৈতপুর গ্রামের কৃষক রুস্তম আলী(৩৪) বলেন, চৈতপুর মাঠে তাঁর সাড়ে চার বিঘা জমি রয়েছে। কিন্তু রবি মৌসুমে সেচ সঙ্কটের কারণে তাঁর জমিগুলো প্রতিবছরই অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকছে।
গত শনিবার সরেজমিনে তানোর উপজেলার প্রচন্ড খরাপ্রবণ এলাকা চৈতপুর, দিব্যস্থল, বহড়া, কন্দপুর ও কনপুর গ্রামে গিয়ে কৃষকসহ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকা প্রচন্ড খরাপ্রবণ ও উঁচু হওয়ায় এলাকায় বিএমডিএর কোন গভীর নলকুপ স্থাপন করা যায়নি। ফলে খরা মৌসুমের শুরুতেই এসব এলাকায় সেচ ও খাবার পানির তিব্র সঙ্কট দেখা দেয়। তারা আরো জানান, এলাকার খাড়ি ও পুকুর জলাশয়গুলো প্রভাবশালীদের দখলমুক্ত করে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা এবং নতুন ভাবে পুকুর খনন করা জুরুরি হয়ে পড়েছে। এসব খাড়ি ও পুকুর জলাশয়দখলমুক্ত করে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হলে সেচ সঙ্কট দুর করা সম্ভব। এছাড়া এসব খাড়ি ও পুুকুর জলাশয়গুলোতে মাছ চাষ করে ভূমিহীন ও হতদরিদ্ররা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হতে পারেন। পাশাপাশি এসব অনাবাদি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে এবং খাড়ি ও পুকুর জলাশয়ের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে এসব অনাবাদি জমিতে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করা যাবে। আর তাতে করে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে ও কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অপরদিকে, লালপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ আলী জানান, তাদের লালপুর মৌজায় একটি খাড়ি রয়েছে। খাড়িটি বর্তমানে সমতল ভূমি হয়ে পড়েছে। খাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হলে এলাকার কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে এবং ভূগর্ভস্ত পানির ওপর চাপ কমবে।
এবিষয়ে তানোর সহকারি কমিশনার (ভূমি) উজ্জল কুমার ঘোষ জানান, তিনি বেশ কয়েক দিন আগে এখানে যোগদান করেছেন। এব্যাপারে তিনি অবগত নন। তবে, অফিসিয়াল সমস্যার কারণে এত সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। এহেন প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশেনা নেই বলে প্রভাবশালীরা পুকুর ও জলাশয়গুলো ভোগদখল করছেন।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদা ইয়াসমীন বলেছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম স্থান তানোর উপজেলা। এই উপজেলাটি মরুময়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে ভূ-উপরিভাগে পানি সংরক্ষণের কোন বিকল্প নেই। এমন দিক বিবেচনা করে পুরো উপজেলার খাস খাড়ি ও পুকুর জলাশয়গুলো পুনঃখনন ও নতুনভাবে পুকুর খননের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতোপূর্বে অনেকবার অবহিত করা হয়। এরপরও কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় খাস খাড়ি ও পুকুর জলাশয়গুলো পুনঃখনন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

Need Ads
error: কপি হবে না!