ইমরান হোসাইন, তানোর : রাজশাহীর তানোরে সার ও ডিজেল তেলের দাম নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখানকার কৃষকরা। সরকার সার ডিজেল তেলের দাম বৃদ্ধি না করলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে তা বিক্রি করছেন। এতে করে কৃষকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছেন উদাসিন।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর এলাকার ডিজেল ও সারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম নীতিকে অপেক্ষা করে কিছূ অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ কৃষকদের নিকট হতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তা প্রতি ডিএপি সার ৫০, এমওপি সার ৪০ টাকা এবং ইউরিয়া সার ৮০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। এছাড়াও ট্রক্টর ও ভুটভুটি চালকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ডিজেল তেলের দাম ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন। এনিয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির লোকজন জ্ঞাত হলেও অজ্ঞাত কারণে তারা ব্যবস্থায় নির্বিকার। একারণে এখানকার কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা অতিসত্ত¡র প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জুরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এনিয়ে উপজেলার জিওল গ্রামের কৃষক মহসিন আলী, আবদুল গনি ও দুবইল গ্রামের কৃষক জাইদুর রহমানসহ আরো একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, শুধু আলুর মৌসুম নয় আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে যখন সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় তখন ডিলাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় পটাশ ও ডিএপিসহ ইউরিয়া সার মজুদ করে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে সার বিক্রি করেন। ডিলারদের এধরণের সিন্ডিকেট তৈরির ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের হাত রয়েছে। একারণে প্রান্তিক কৃষকদেরকে ডিলারের কাছে কাঙ্খিত সার পেতে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি অবিলম্বে সার নিয়ে সিন্ডিকেট বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জুরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এনিয়ে তানোর পৌর এলাকার কৃষক বাসারতুলা ও ট্রাক্টর চালক রায়হান আলী বলেন, ডিজেল তেলের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা হরতাল অবরোধের দোহায় দিয়ে তাদের মত নিহর কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ডিজেল তেলের দাম ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি আদায় করছেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাইলে ডিজেল নাই বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার কোন কোন সময় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে তারা বাড়িতে থাকছেন। তাদের দোকান ঘরে ডিজেল থাকলেও অতিরিক্ত টাকা ছাড়া তা দিতে রাজি হচ্ছেন না। একারণে বাধ্য হয়ে তারা বেশি দামে ডিজেল কিনছেন।
এবিষয়ে তালন্দ বাজারের ডিজেল তেল ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিন ও আবুল হোসেন বলেন, হরতাল অবরোধের কারণে তারা মোকাম থেকে বেশি দামে তেল ক্রয় করছেন। একারণে তারা ডিজেলের দাম কিছুটা বেশি নিচ্ছেন। এছাড়া পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়া ডিলেজের দাম বেশি নেয়া ছাড়া উপায় থাকছে না তাদের বলে দাবি করেন।
এনিয়ে তানোর পৌর এলাকার কাশিম বাজার এলাকার বিএডিসির সার ডিলার আকতার আলী ও তালন্দ বাজারের বিসিআইসি’র সার ডিলার বাবু জানান, কৃষকের চাহিদার তুলনায় নভেম্বর মাসে প্রত্যেক সারের বরাদ্দ কম ছিল। একারণে কৃষকদের চাহিদা মোতাবেক সার সরবরাহ করা সম্ভব ছিল না বলে বাইরে থেকে সার কিনে একটু বেশি দামে সার বিক্রি করেছেন। এখন সারের সংকট তেমন নেয়। তবে, ডিসেম্বর মাসে সারের চাহিদা নিয়ে উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগকে জানানো হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংকট থাকবে না বলে জানান তারা।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এনিয়ে জেলা প্রাশসক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে খতিয়ে দেখবেন। যারা অতিরিক্ত দামে সার ও ডিজেল বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।




