মনির হোসেন বাবুল, রামগঞ্জ (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি: রামগঞ্জ আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দূর্গে আঘাত করতে আওয়ামীলীগ মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিএনপির সাবেক এমপি, বর্তমান এমপি ও ছাত্র নেতাদের গ্রুপদের মাঝে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, মামলা-হামলা, ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নের ফলে ত্রিধারায় বিভক্ত হওয়ার সুযোগে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে আওয়ামীলীগ নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। এ আসনে আওয়ামীলীগ বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ছবি সম্বলিত বাহারি রঙ্গের পেস্টুন, বিলবোর্ড ও ডিজিটাল ব্যানার দিয়ে শহর-গ্রামাঞ্চলের অফিস পাড়ায়, হাঁট-বাজার, ইউপি কমপ্লেক্স এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সাজিয়ে রেখেছে।
লক্ষীপুর (রামগঞ্জ) আসনটি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে টিকেটে জিয়াউল হক জিয়া এমপি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগে ভিপি আবদুর রহিমসহ কয়েকজন ছাত্রনেতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপির দূর্গ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নাজিম উদ্দিন কারিশমা দেখিয়ে এমপি নির্বাচিত হলেও ১২ জুন নির্বাচনে জিয়াউল হক জিয়া বিএনপির টিকেটে পূনরায় এমপি নির্বাচত হয়। ২০০১ সালে জিয়াউল হক জিয়া তৃতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হলে চারদলীয় জোট সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী নির্বাচিত হন।
দেশে ১/১১ জারি হওয়ার পর জিয়াউল হক জিয়া দেশ ত্যাগ করলে নাজিম উদ্দিন আহমেদ বিএনপির টিকেট নিয়ে এ আসনে এমপি নির্বাচত হয়। নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি হওয়ার পর দলের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নসহ কেন্দ্রীয় উল্লেখযোগ্য কোন কর্মসূচী পালন না করায় নেতাকর্মীরা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। দেশব্যাপী সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ না নেয়ায় এমপি নাজিম উদ্দিননের সাথে নেতাকর্মীদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। এ সুযোগে জিয়াউল হক জিয়া সমর্থকদের মাধ্যমে কয়েকটি সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে। অপরদিকে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সক্রিয় রাখতে রামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জেলা বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহিম ভিপি তাদের সমর্থকদের নিয়ে হরতাল, অবরোধ পালন, বিক্ষোভ সমাবেশ করা সহ কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনের পাশাপাশি এলাকায় গনসংযোগ, কর্মী সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বিএনপির আরও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- ঢাকা ৩৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হারুনুর রশিদ, রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বাহার ভিপি, পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি মনির আহম্মদ, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইমাম হোসেন।
আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সুবাদে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা একাত্ততাবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক ভিত তৈরী করতে সক্ষম হয়। ফলে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা এখন নির্বাচনমুখী হয়ে কেন্দ্রীয় সকল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন- উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান, বিগত তত্ত¡বধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর মামলার প্যানেল আইনজীবি ও ঢাকাস্থ ল²ীপুর জেলা সমিতির সহ-সভাপতি এ্যাডঃ সফিক মাহমুদ পিন্টু, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনির হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শাহাজাহান বাবুল মোলা, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হক মিলন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক মমিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পবন, আ’লীগ নেতা দেওয়ান সুলতান আহম্মেদ, আ’লীগ নেত্রী শেফালী বেগম।




