ঝালকাঠি সংবাদদাতা : বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি শহরের বাসন্ডা নদীর উপর নির্মিত বেইলী ব্রীজটি দীর্ঘদিন পর্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ব্রীজটিকে সচল রাখতে মাঝে মাঝে অসংখ্য জোড়া তালি দেয়া হলেও সম্পূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

ব্রীজে যান চলাচলের উপযোগী করতে মাঝে মধ্যে ওর্য়াকশপ থেকে ঝালাইয়ের মেশিন ভাড়া করে এনে কাজ করানো হয়। বাসন্ডা নদীর উপর নির্মিত এ বেইলী ব্রীজটির চালা নড়বড়ে হয়ে গেছে। এ ব্রীজ দিয়ে ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন দক্ষিনাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ও হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। রাতে ট্রাকসহ ভারী যান চলাচল করলে ঠাস ঠাস শব্দ হয়। এতে এলাকাবাসীসহ কোমলমতি শিশু সন্তানরা লাফিয়ে ওঠে। মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে এলকাবাসীর স্বাভাবিক জীবন যাপনে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলাচলে প্রায় অযোগ্য এ ব্রীজটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০ বছর ধরে জোড়া তালি দিয়ে সচল রাখার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে ব্রীজের নীচের এঙ্গেল একটি চক্র খুলে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্রমশ ঝুকিপূর্ণ হচ্ছে এ ব্রীজটি। সাতক্ষীরা ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মালবাহী ভারী যান ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। যে কোন মুহুর্তে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে জানমালের মারাত্মক ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের অন্য কোন মাধ্যম না থাকায় এক মাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এ সড়কের ব্রীজের উপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। এক শ্রেনীর চালকরা কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে যান চালাচ্ছে। ব্রিজের উপর কোন ট্রাক-বাস উঠলে দুলতে থাকে। ব্রীজের মাঝখানে কোন সড়ক বাতি না থাকায় রাতের আধারে পথচারীরা চলাচলের সময় প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘনা। ব্রিজটি নির্মানের সময় নদীর মধ্যে প্রযোজনীয় সংখ্যক পিলার নির্মাণ করা হলেও পাকা ঢালাই না করে স্টিলের পাত স্থাপণ করায় নির্মানের কয়েক বছরের মধ্যেই ব্রিজটি ক্ষতির শিকার হয়। বর্তমানে স্টিলের পাত গুলো নষ্ট হয়ে ভেঙ্গে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানের পাটাতনের ক্ষত স্থানে নতুন পাত ঝালাই দিয়ে আটকিয়ে দেয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী যথা শিঘ্র ক্ষতি গ্রস্ত এ বেইলি ব্রীজ অপসারণ করে ঢালাই ব্রীজ নির্মান করার দাবী জানিয়েছেন। ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী আলমগীর বাদশা মিয়া দৈনিক বর্তমানকে জানান, আমাদের দৃষ্টিতে ব্রিজটি এখনও ততটা ঝুকিপূর্ণ না। যখন ঝুকিপূর্ণ হবে তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।




