একেএম কামাল হোসেন টগর, নওগাঁ : নওগাঁর আত্রাইয়ে সিএনজি ও ভুটভুটিসহ ছোট যানবাহন চালকরা চাঁদাবাজদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রুটে এসব চাঁদাবাজরা চালকদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করে থাকে। অনেকে তার দিনের আয়ের প্রায় অর্ধেক চাঁদা দিতে হয় ।

ভুক্তভোগী ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আত্রাই উপজেলা সদর থেকে কালীগঞ্জ হয়ে বগুড়া, আত্রাই-পতিসর, আত্রাই-নওগাঁ, আত্রাই-ভাবানীগঞ্জ, আত্রাই-সিংড়া, আত্রাই-সুদরানা ও আত্রাই-বোয়ালিয়া রুটে প্রায় ৫শতাধিক সিএনজি, অটোরিক্সা ও ভুটভুটি চলাচল করে থাকে। আত্রাই পুরাতন ষ্টেশন বাইপাস, কাশিয়াবাড়ী সুইজগেট,নওদুলী বাজার,মস্কিপুর,কালীগঞ্জ ব্রীজের পূর্ব বাজার, আত্রাই কলেজ গেট,মির্জাপুর বাজার,আত্রাই বাইপাস রেজিষ্ট্রি অফিস মোড়ে, আহসানগঞ্জ হাট,সুটকীগাছা বাজার,বান্দাইখাড়া বাজার সহ উপজেলার সন্নিকটে সাহেবগঞ্জ বাজারে সরকারী দলের শ্রমীক লীগের নেতারা বিভিন্ন সমিতি নামে-বেনামে এ যানবাহন থেকে প্রতিদিন ১৫/২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। প্রসাশনের পক্ষ থেকে এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না থাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চেইন মাষ্টার, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতির নামে এসব চাঁদা হাতিয়ে নেয়া হয় চালকদের কাছ থেকে। বিশেষ করে গ্যাস উত্তোলনের জন্য আত্রাই – বাগমারা এলাকার শত শত সিএনজি প্রতিনিয়ত কালীগঞ্জ রুট হয়ে বগুড়ায় যাতায়াত করে থাকে। এসব সিএনজি চালকরা যাত্রী পরিবহন না করলেও তাদের বেশ কয়েক জায়গায় চাঁদা দিয়ে বগুড়ায় ডুকতে হয়। এ জন্য তাদের ব্যয় হয় অতিরিক্ত অর্থ। আত্রাই উপজেলার সিএনজি চালক বাবু বলেন, সপ্তাহে ২ দিন গ্যাস উত্তোলনের জন্য তাদের বগুড়া যেতে হয়। আর এ জন্য তাদের ব্যবহার করতে হয় আত্রাই-কালীগঞ্জ রুট। এ রুটে যাত্রী পরিবহন না করলেও তাদের ৫ থেকে ৭ পয়েন্টে চাঁদা দিতে হয়। অপর সিএনজি চালক আব্দুস ছালাম বলেন, বগুড়ায় গ্যাস উত্তোলনের জন্য গেলে আমাদের ১৩০ টাকা শুধু রোড় ফি (চাঁদা) দিতে হয়। আত্রাই নওদুলী বাজার, মস্কিপুর, কালীগঞ্জ বাজারের দুই জায়গায়, নন্দীগ্রাম, কুন্দুরহাট, রাণীর হাট ও শাকপালা সহ বিভিন্ন পয়েন্টে এ চাঁদার দিতে হয়। শুধু সিএজি ও শ্যালো চালিত ভুটভুটির গল্পই শেষ নয় আত্রাইয়ে প্রায় ২ শতাধীক রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ভাড়া চালিত মটর সাইকেল চালককেও প্রতিদিন দিতে হয় মোটা অংকের চাঁদা শূধু চাঁদা দিয়েই শেষ নয় মটর সাইকেল রাস্তায় নামালেই সরকারী দলের শ্রমীক লীগের সংগঠনের নামে আবদুস ছালাম কালুর হাতে প্রতি মটর সাইকেলের জন্য ১০০০/১৫০০ শত টাকা চাঁদা জমা দিয়ে রাস্তায় নামাতে হয় নতুবা মটর সাইকেলে তালা লাগানো হয়। বেকারত্ব জীবন কর্মের হাতে পরিনত করতে গিয়ে এ বিরম্বনার স্বীকার হতে হয়। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন আমরা কেন প্রতিটি সিএনজির নিকট থেকে বিট বা টাকা আদায় করি,ু কারন প্রতি মাসে থানা থেকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ডাক করে নিতে হয়,তাও মাসের ২/৩ তারিখের মধ্যে নগদ ও কোন কোন মাসে অগ্রিম টাকা দিয়ে নিতে হয়।
এ ব্যাপারে আত্রাই থানা ওসি আব্দূল লতিফ খান বলেন, থানা থেকে কোন ডাক হয় না। এ বিষয় আমার জানা নাই এবং এ বিষয়ে আমাকে কোন পরিবহন ও যানবাহনের মালিক পক্ষ কোন লিখিত অভিযোগ দেয় নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে চাঁদা বাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




