ads

সোমবার , ২১ অক্টোবর ২০১৩ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ফেসবুকের বিভিন্ন হৃদয়স্পর্শী ছবিতে প্রতারণার ফাঁদ

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
অক্টোবর ২১, ২০১৩ ৮:৩৩ অপরাহ্ণ

facebookশহীদুল ইসলাম হীরা : একটি সাধারণ ছবি অনেক সময় মানুষের হৃদয়স্পর্শ করে যায়। কিন্তু ছবিই যে প্রতারণার ফাঁদ হতে পারে- এটা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে একটি অতি সাধারণ ছবিও হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে অনেকের। এ ধরণের ছবি অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাটা এখন আর নতুন কিছু নয়। মানুষের মনে সহানুভূতি জাগে এমন ছবি ব্যবহার করে অনেকেই কামিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার ডলার।

Shamol Bangla Ads

এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়-
যুক্তরাষ্ট্রের সেরফিনা নামের ছোট্ট একটি মেয়ে হৃদযন্ত্রের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসা চলাকালীন সময় তার বাবা শন মারফি মেয়ের একটি ছবি তুলেছিলেন ব্যক্তিগত প্রয়োজনেই। ছবিটি তিনি পোষ্ট করেছিলেন ফেসবুক এবং অন্য একটি সামাজিক যোগাযোগ ওয়েব সাইটে। ছবিটি পোষ্ট করার সময় তিনি কি জানতেন তাঁর মেয়ের ছবিটি দূর্বৃত্তদের ঘৃণ্য উদ্দ্যেশ্যে ব্যবহার হবে। ছবিটি ফেসবুকে পোষ্ট করার কিছুদিন পর সেরফিনা’র বাবা ফেসবুকে একটি একাউন্ট খোলার সময় তাঁর নজরে পড়ে বুকে ব্যান্ডেজ বাধা সেরফিনার সেই ছবিটি ফেসবুকে আলোড়ন তুলেছে। ওই ছবিটি ব্যবহার করে দূর্বৃত্তরা স্পাম ছড়াচ্ছে, লাইক ও মন্তব্য করার জন্য ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনুরোধ জানাচ্ছে। ছবিটিতে যত লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার বাড়বে ততই দুর্বৃত্তদের বিজ্ঞাপন থেকে আয় বাড়বে। এছাড়া সেরফিনা’র চিকিৎসার কথা বলে সাহায্যও চাওয়া হয়। সেরফিনা’র ছবিটি ফেসবুকে ৪৩ লক্ষ লাইক পায় এবং ৬১ হাজার শেয়ার হয়। এ ঘটনার পর শন মারফি দুর্বৃত্তদের টেক্কা দিতে ভিন্ন পথে হাঁটেন। মেয়ের ছবিটির জনপ্রিয়তা ভাল কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। ফেসবুকে তিনি সেরফিনার ছবিটি যাঁরা লাইক করেছেন, তাঁদের কাছে সরাসরি হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য সাহায্য করতে অনুরোধ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সেরফিনা ওপেন হার্ট সার্জারির পর সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে উঠেছে।
ফেসবুকে অনেক সময় তারকাদের ছবি, কোনো ঘটনা, অসুস্থ বা জখম শিশুদের ছবি পোষ্ট করে ‘লাইক’ বা ‘শেয়ার’ করার জন্য বা ‘কমেন্ট’ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এছাড়া দুর্বৃত্তরা সুন্দরী মেয়েদের বিভিন্ন রকম ছবি ব্যবহার করে, ভূয়া একাউন্ট খুলে সেখান থেকে স্প্যাম ছাড়াতে পারে। বন্ধুর পোষ্ট করা সুন্দরী একটি মেয়ের ছবি বা ভিডিও ফেসবুক টাইমলাইনে আসার পর সে লিংকটিতে ক্লিক করে বিপদে পড়েননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। ওই লাইক দেওয়া ছবিটির যন্ত্রণায় অস্থির বন্ধুরা। এ যন্ত্রনার নাম ফেসবুক স্প্যাম।
অনেক সময় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে ছবিতে লাইক দেওয়া, সহজে অর্থ আয় করা, ওজন কমানোর পরামর্শ বা বিস্তারিত জানার জন্য আবেদন আসে। এমনকি ফেসবুকের মেসেজ অপশনে অনেক সময় অচেনা কারও কাছ থেকে এমনও বার্তা আসে, যাতে বিভিন্ন লিংকে ক্লিক করতে বলা হয়।
ফেসবুকে এ ধরণের গুজব, স্প্যাম বা আপনাকে ট্যাগ করা ছবির বিরুদ্ধে আপনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন। ছবিতে ক্লিক করলে নিচের দিকে অপশন নামের একটি ফিচার রয়েছে। ওই অপশন ফিচার থেকে আপনি এ ধরণের ছবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষের আবেগকে কাজে লাগাতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটে দুর্বৃত্তরা সদা তৎপর। ফেসবুক লাইক সংগ্রহ করে নিজস্ব সাইটে ভিজিটর বাড়ায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া অনেক সময় ফেসবুকের ফ্যানপেজ কেনাবেচা চলে। ফ্যানপেজে যত বেশী লাইক থাকে, তার দাম তত বেশী।
কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ফেসবুকের পাতাভর্তি বন্ধুদের নানা পোষ্ট হয়তো আপনাকে খুশি করছে বা লাইক দিতে বাধ্য করছে। কিন্তু এ পোষ্টগুলোর মধ্যে কোনটা যে দুর্বৃত্তদের নকশা করা ম্যালওয়্যার সেটা আপনার জানার কথা নয়। স্প্যাম সমৃদ্ধ কোন পোষ্টে ক্লিক করলে ফেসবুক থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। ফেসবুকে অসংখ্য এরকম পোষ্ট রয়েছে যার মধ্যে কোনটিতে ধর্মীয় কোন অনুভূতিকে পূঁজি করে লাইক চাওয়া হচ্ছে, আবার কোনটিতে শিশুদের রুগ্ন-জীর্ণ-শীর্ণ ছবি পোষ্ট করে লাইক বা শেয়ার চাওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরণের পোষ্টকে শেয়ার বা লাইক না দিয়ে সরাসরি এড়িয়ে যাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট।

error: কপি হবে না!